চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সারা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতির গভীর সম্পর্কের সমীকরণে বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো তথা আইসিডিগুলো একটি অপরিহার্য নিয়ামক নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে। আমরা যদি গত এক দশক বা তার বেশি সময়ের ব্যাপ্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডেলিং পরিসংখ্যানের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাব ২০০৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডেল হয়েছে ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫৬০ একক কনটেইনার। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৩ একক কনটেইনার। অর্থাৎ দুই দশকের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক হ্যান্ডেলকৃত কনটেইনার প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো বা আইসিডিগুলোর কারণেই চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্য দিয়ে কনটেইনার পরিবহনের এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। ২০০৩ সালে যেখানে মাত্র ৮টি আইসিডি ছিল, সেখানে ২০২৩ সালে ২১টি আইসিডি চট্টগ্রাম বন্দরের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্মরত। অর্থাৎ বিগত দুই দশকে এই খাতেও প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবাহী জাহাজের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০০৩ সালে যেখানে চট্টগ্রাম বন্দর ৬৫৯টি কনটেইনার জাহাজ হ্যান্ডেল হয়েছিল, ২০২৩ সালে এর সংখ্যা পৌঁছে ৪ হাজার ১০৩-এ। একই সময়ে জেটিতে জাহাজের গড় অবস্থান সময় (টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম) হ্রাস পেয়েছে। ২০০৬-০৭ সালে যেখানে প্রায় ৭ দিন ছিল, এখন তা কমে দুদিনে নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও বেসরকারি আইসিডিগুলোর মধ্যে অপারেশনাল কর্মকা-ের সব বাধাবিপত্তি ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিগত এক দশকের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ব্যাপক প্রবৃদ্ধির আলোকে এই সত্য সংশ্লিষ্ট সবারই অনুধাবন করা উচিত যে, চট্টগ্রাম বন্দর ও আইসিডিগুলোর মধ্যে অপারেশনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং এই সমন্বিত বন্দর-অফডক অপারেশন অভাবনীয় গতিশীলতা অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক সরবরাহ শিকল ব্যবস্থাপনার দেশীয় প্রান্তে তথা দেশের লজিস্টিকস খাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি বে-টার্মিনাল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পায়রা বন্দরের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বন্দরসেবার কার্যক্রম ও পরিধি যত বিস্তৃত হবে, তেমনিভাবে বেসরকারি আইসিডি খাতেরও আনুপাতিক হারে সম্প্রসারণের প্রয়োজন হবে।
লেখক : মহাসচিব, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন
