মামলা চাঞ্চল্যকর বিচার মন্থর

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২২ এএম

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভায় পুলিশের গুলিতে দলটির ২৪ জন নেতাকর্মী মারা যান। নেতাকর্মীদের প্রচেষ্টায় বেঁচে যান দলের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে ‘লালদীঘি গণহত্যা’ নামে পরিচিত এ হত্যাকান্ড নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ৩২ বছর পর ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের একটি বিশেষ আদালত ৫ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদন্ড দেয়। ৩৬ বছর আগের মামলাটি এখনো শেষ হয়নি। ডেথ রেফারেন্স কার্যতালিকায় এলে এটির নিষ্পত্তি হবে হাইকোর্টে।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াসহ পাঁচজন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৯ বছরের বেশি সময় আগের এ হত্যার ঘটনাপ্রসূত মামলা সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে আছে। ১৭২ সাক্ষীর ৫০ জনের মতো সাক্ষ্য দিয়েছেন। একই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় ২০২০ সালের অক্টোবরে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর মামলাটি এখনো আছে সাক্ষ্যের পর্যায়ে।

৩৬ বছরে সাড়াজাগানো এমন অন্তত ২৮টি ফৌজদারি মামলার বিচারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছে দেশ রূপান্তর। এসব মামলার একটিরও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা মামলাগুলোরও একই অবস্থা। এসবের ১৯টি নৃশংস হত্যা মামলা। অন্যগুলো অস্ত্র ও বিস্ফোরক, বিশেষ আইন কিংবা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতাবিষয়ক। ২৮টির ২২টিতে বিচারিক আদালতের রায় হয়েছে। ১৪টি মামলা হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল বিভাগে শুনানির পর্যায়ে আছে বা শুনানি চলছে। ৮টি মামলায় হাইকোর্টের রায় হয়ে বিচারাধীন আছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে বিচারিক আদালতে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২৩ বছর ধরে বিচারাধীন আছে ৬টি মামলা। ২৮টির মধ্যে ১৮ মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের রায়ে অন্তত ৩২০ জনের ফাঁসির রায় হয়েছে।  

ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত, হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল ও রিভিউ এমন বেশ কিছু আইনি ধাপ পেরোতে হয়। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের অভিমত, আইন ও বিচারব্যবস্থা যুগোপযোগী না হওয়া, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, আইনজীবীদের আবেদনে তারিখের পর তারিখ শুনানি মুলতবি থাকা, বিচারকের অপ্রতুলতা ও ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চের স্বল্পতা প্রভৃতি কারণে মামলার জটে বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি এখন বাস্তবতা।

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন এসবের পাশাপাশি দায় দেখেন আসামিপক্ষেরও। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল কার্যতালিকায় মামলা আসে ক্রম অনুযায়ী; আসতে সময় লাগে কয়েক বছর। প্রায়ই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আপিল করলেও শুনানিতে অনাগ্রহ দেখান।

বিচারের অপেক্ষা শেষ হয় না : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির সমাবেশে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা ও হত্যার ঘটনাটি দেশে-বিদেশে নিন্দার ঝড় তোলে। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার বিচারিক আদালত হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড এবং সমসংখ্যক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। ফাঁসির আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসার পর ২০২০ সালের আগস্টে পেপারবুক প্রস্তুত হয়। এ মামলা হাইকোর্টে অগ্রাধিকারের তালিকায় ছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এর শুনানি চলছে।      

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে ৫৪ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যায় বিচারিক আদালতের রায় হয় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর। ২০১৭ সালের নভেম্বরে হাইকোর্টের রায়ে ১৩৯ জনের ফাঁসির সাজা বহাল থাকে। আপিল নিস্পত্তি করে হাইকোর্টে যাবজ্জীবন সাজা হয় ১৮৫ জনের। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ইতিমধ্যে ছয় বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। একই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো বিচারিক আদালতে রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে।

২৩ বছরের বেশি আগে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট ১০ জঙ্গিকে মৃত্যুদন্ড, ১ আসামিকে যাবজ্জীবন ও ২ আসামিকে সশ্রম কারাদন্ড দেয় ঢাকার বিচারিক আদালত। তিন বছর আগে হাইকোর্টের রায়ে সব আসামির দন্ডাদেশ বহাল থাকে। অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা এখনো হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেননি।

প্রায় ১১ বছর আগে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি বিচারিক আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ৯ জনকে ৭ থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড দেয়। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে ১১ জনের সর্বোচ্চ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে আপিল বিভাগে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় আছে।

২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীতে গাজীপুর আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ দুজনকে হত্যার মামলায় মাত্র ১১ মাসে (২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল) ঢাকার একটি আদালত ২২ জনকে ফাঁসি ও ৬ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়। ২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্ট ৬ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে ৭ জনকে যাবজ্জীবন ও ৭ জনকে খালাস দেয়। বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত ৬ জনের মধ্যে ২ জনের সাজা বহাল থাকে। হাইকোর্টের রায়ের ৮ বছর পার হলেও মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

২০ বছর আগে চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাট থেকে ১০ ট্রাক অস্ত্র চালানের ঘটনার মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বিচারিক আদালত বিএনপি-জামায়াত সরকারের একাধিক মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদন্ড ও অস্ত্র আইনের পৃথক ধারায় তাদের যাবজ্জীন কারাদন্ড দেয়। ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর হাইকোর্টে আংশিক শুনানির পর বিচারে আর গতি আসেনি।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির বইমেলায় প্রথাবিরোধী লেখক অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ওই ঘটনার কয়েক মাস পর জার্মানির মিউনিখে মারা যান তিনি। ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল ঢাকার বিচারিক আদালত হত্যা মামলায় ৪ জঙ্গিকে ফাঁসির আদেশ দেয়। জঙ্গিদের ডেথ রেফারেন্স মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন।

৭ বছরের বেশি সময় আগে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত বছরের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট আসামিদের ফাঁসির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাবাসের রায় দেয়। মামলাটি এখন আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

২৩ বছরের বেশি সময় আগে রাজধানীর পল্টন ময়দানে সিপিবির লাল পতাকা সমাবেশে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহতের ঘটনায় ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বিচারিক আদালতে পাঁচ শীর্ষ জঙ্গিকে দেওয়া ফাঁসির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে বিচারাধীন। একই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো বিচারিক আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে আছে।

৫ বছর আগে ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় ১৬ ফাঁসির আসামির ডেথ রেফারেন্সের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শিগগিরই শুরু হতে পারে। কক্সবাজারে মেরিনড্রাইভ সড়কের একটি চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলায় ৩ বছরের বেশি সময় আগে বিচারিক আদালতে রায় হয়। দুজনের মৃত্যুদন্ডাদেশ ও যাবজ্জীবন সাজার আপিল নিষ্পত্তি হবে হাইকোর্টে।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় মাত্র ১৪ মাসে বিচারিক আদালতের রায়ে ২০ জনকে ফাঁসি ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয় ঢাকার একটি আদালত। মামলাটি হাইকোর্টে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

৯ বছর আগে জঙ্গিদের হাতে খুন হন বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিত রায়। ওই হত্যা মামলা এবং সাড়ে ৮ বছর আগে জঙ্গিদের নৃশংসতার শিকার ‘জাগৃতি’ প্রকাশনীর ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে বিচারাধীন।

২০১৪ সালের ২০ মে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম হত্যা মামলায় ৬ বছর আগে বিচারিক আদালতে ৩৯ জনের ফাঁসির রায়ের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে চলছে।

১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলি ও বোমা হামলার মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদন্ড হয় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই। এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল ক্রমানুসারে হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এলে নিষ্পত্তি হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

২৩ বছর আগে রাজধানীর রমনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণে ১০ জন নিহতের মামলায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। একই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো বিচারিক আদালতে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির পর্যায়ে আছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের মামলাটি ঢাকার বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

এ ছাড়া পুরাণ ঢাকার শাঁখারীবাজারে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা, সিলেটে কিশোর রাজন হত্যা, খুলনার কিশোর রাকিব হত্যা মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন। বরগুনায় আলোচিত রিফাত হত্যা মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সব মামলাতেই বিচার ও দ্রুত নিষ্পত্তি কাক্সিক্ষত। ঘটনার পর মামলাগুলো যেভাবে চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর বিবেচিত হয় বিচার কিন্তু তেমন দ্রুত হতে দেখা যায় না। দেশে ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির বিষয়টি সময়ের ফেরে পড়ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, অনেকে প্রিয়জন হারিয়েছেন। অনেকে পঙ্গত্ববরণ করেছেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। তাই ভুক্তভোগীর বিচার পাওয়ার অধিকারকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। আবার চূড়ান্ত বিচারে দোষী নাকি নির্দোষ হবেন, সেটি জানার অধিকার আসামিরও আছে।’ 

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের উচ্চ আদালতে মাত্র ৯০ জন বিচারক। অথচ লাখ লাখ মামলা। ফলে দ্রুত শুনানি সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ মামলায় দেখা যায়, আসামিপক্ষ আপিল করলেও শুনানি করতে চায় না। তারা খুব ধীরগতির। কিছু মামলায় আমরা দিনের পর দিন আদালতে গিয়েছি। কিন্তু আসামির আইনজীবীর সেদিকে নজর নেই।’ তিনি বলেন, ‘বিচারব্যবস্থা ধীরে ধীরে ডিজিটালাইজড ও আধুনিক হচ্ছে। কিন্তু মামলার পেছনের মানুষের (রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবী) সদিচ্ছা না থাকলে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত