চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম আগামী ১১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং ১২ মে থেকে ক্লাস শুরু হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনাও স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রাশেদ পারভেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় চুয়েট। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্র ও শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হলত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পরে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে চার দিন ধরে চলা আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা। তারা অবরোধ তুলে নিলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।
আন্দোলন স্থগিতের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের জানান, বাসচালক ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে দুই সহপাঠীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে তহবিল গঠন, কাপ্তাই সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ গ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কথা দিলে আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিকেলে সিন্ডিকেটের সভায় অনির্দিষ্ট কালের বদলে ১১ মে পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
দুই সহপাঠীর মৃত্যুর পর চার দিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হল ছাড়ার নির্দেশনা পেয়ে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা। সকাল ১০টা থেকে গাছের গুঁড়ি ফেলে কাপ্তাই সড়ক অবরোধ, ক্যাম্পাসে ও মূল ফটকে রাখা শাহ আমানত পরিবহনের দুটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আরও দুই ব্যক্তিকে।
এর আগে সোমবার বিকেলে বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় চুয়েটের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বাসচালকের বিচারসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
