ছাত্র বিক্ষোভ মার্কিন রাজনীতি ইসরায়েল ইস্যু 

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:২৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মূলত চাইছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন তাদের বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ করে এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া তহবিল প্রত্যাহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় রাজনৈতিক দল, হোয়াইট হাউজ এবং ইসরায়েলপন্থিরা সবাই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে ইহুদিবিদ্বেষের, যদিও শিক্ষার্থীরা তীব্রভাবে তা অস্বীকার করে আসছে। আসলে দিনের পর দিন ফিলিস্তিন ইস্যুতে নীরবতা এবং ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার মার্কিন অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক নীতিই দেখে আসতে হচ্ছিল। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ইমান আবদেলহাদি বলছেন, অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক নীতিতে এই স্থবিরতায় তরুণরা ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছে। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, আমার মনে হয় তারা (শিক্ষার্থীরা) আগের প্রজন্মের প্রতি সত্যিই অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছে, আর তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের তৈরি ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ।’ ইমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনমতে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ একটি মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা। আমেরিকার ইতিহাসে সাধারণত জনমতের কোনো পরিবর্তন এলে, তা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গেই কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে, কিংবা এর মাধ্যমেই এসেছে।’ ইমান আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসভিত্তিক আন্দোলন রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল হতে পারে। মনে হচ্ছে, এটাই ভবিষ্যৎ’।

পুলিশ সোমবার রাতে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (এনওয়াইইউ) প্রতিবাদকারীদের একটি শিবির ভেঙেছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আগের দিন ইয়েলে কয়েক ডজন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তখন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস বাতিল করেছে। হোয়াইট হাউজও এই ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনাকে ইহুদিবিরোধী হিসেবে চিত্রিত করে ঘটনার নিরন্তর নিন্দা করে যাচ্ছে। যা কিছু ক্ষেত্রে বিক্ষোভকে সামগ্রিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে এসব প্রচেষ্টা শিক্ষার্থীদের দমিয়ে দিতে সক্ষম হয়নি। অন্যদিকে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ এবং বাকস্বাধীনতা সম্পর্কে প্রতিবাদ ও উত্তপ্ত বিতর্ক মার্কিন ক্যাম্পাসগুলোকে বেশ নাড়া দিয়েছে। যা একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানকে উৎসাহিত করেছে, তেমনি ৭০ বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল ও নির্যাতন সম্পর্কেও জোরালো আলাপ উঠে আসছে। উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের দাবি, তখন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষ এবং ইসলামোফোবিয়া উভয় ঘটনাই বৃদ্ধি পেয়েছে। 

গত সপ্তাহে কলাম্বিয়ার ক্যাম্পাসে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশকে ডাকা হয় এবং ১০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ঘটনার ফলে প্রতিবাদ আন্দোলনটি স্পটলাইটে চলে এসেছে। মূলত, এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপকহারে মিছিল ছড়িয়ে পড়েছে। নিউ ইয়র্ক এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটি ছাড়াও বার্কলেতে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), মিশিগান ইউনিভার্সিটি, এমারসন কলেজ এবং টাফ্টস ইউনিভার্সিটিতে প্রতিবাদ শিবির স্থাপন করা হয়েছে। আলেজান্দ্রো ট্যানন নামক এক ছাত্র চলমান বিক্ষোভকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী ঐতিহাসিক বিক্ষোভের সঙ্গে তুলনা করে এএফপিকে বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘সংকটজনক মুহূর্তে’ রয়েছে। একজন বিক্ষোভকারী বিবিসির মার্কিন পার্টনার সিবিএস নিউজকে বলেছেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনের সঙ্গে আছি এবং আমরা সব মানুষের মুক্তির সঙ্গে দাঁড়িয়েছি।’ এদিকে ইসরায়েলি পতাকা নিয়ে রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন বলেছেন : ‘এটি একটি দিক এবং ইতিহাস অন্য আরেকটি দিক। এটি এখানে ডান দিক।’ ইসরায়েলপন্থি ছাত্রছাত্রীদের ভালো ডোনার নেটওয়ার্ক ও তাদের শোনার মতো মূলধারার অনেক মিডিয়াও রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধী ও প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডকে এখন পর্যন্ত অ্যান্টিসেমিটিক কর্মকাণ্ড বলে অপবাদ দিয়ে আসছে।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিজনেস স্কুলের বাইরে মূল ক্যাম্পে ৫০ জন লোক প্রতিবাদ মিছিলে জড়িত হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টি বিক্ষোভকে অননুমোদিত ঘোষণা করে বলেছে, বিক্ষোভ স্বাভাবিক ক্লাসকে ব্যাহত করে। সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ প্রতিবাদকারীদের গ্রেপ্তার শুরু করে; তবে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি। কানেকটিকাটের নিউ হ্যাভেনের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শত শত লোক জড়ো হয়েছিল; তাদের অনেকেই চলে যাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করছে। কলাম্বিয়া বিশ^বিদ্যালয়ের ২০তম প্রেসিডেন্ট, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও কলাম্বিয়া স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক ড. মিনোচে শফিক এসব ঘটনাকে ‘ভীতিকর এবং হয়রানিমূলক আচরণ’ আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন। ফলত অনলাইন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এসব উত্তেজনা বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা সংঘটিত এবং প্রসারিত করা হয়েছে। তার মনে, এসব ব্যক্তিরা তাদের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ক্যাম্পাসে এসেছেন। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি কর্র্তৃপক্ষরও সুর প্রায় এক। তারা জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছাড়াই এই বিক্ষোভকারীরা বাইর থেকে উঠে এসেছে। তাদের দাবি, সোমবার ইহুদিদের প্যাসওভারের ছুটির প্রথম দিন এমন কর্মকাণ্ড শুধু অ্যান্টিসেমিটিক গোষ্ঠীই করতে পারে। ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ক্যাথি ম্যানিং সোমবার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সফর করে জানিয়েছেন, তিনি সেখানে বিক্ষোভকারীদের দেখেছেন যে, তারা ইসরায়েলের ধ্বংসের আহ্বান জানিয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির হাসিডিক গ্রুপ চাবাদ বলেছে যে, ইহুদি ছাত্রদের লক্ষ্য করে চিৎকার করা হয়েছে এবং উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত একজন রাব্বি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ইহুদি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস এড়িয়ে চলতে সতর্ক করেছেন বলে জানা গেছে। এসবের বিপরীতে প্রতিবাদী বিক্ষোভে শামিল শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের প্রতিবাদ ইহুদি-বিরোধিতা নয়। বরং তাদের সমালোচনা ইসরায়েলি রাষ্ট্র এবং তার সমর্থকদের বিপক্ষে মাত্র।

কাজেই দেখা যাচ্ছে, একদিকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে হাজার হাজার মানুষ, যাদের সিংহভাগ শিশু ও নারীর নিহত হওয়ার ঘটনা; অন্যদিকে আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকে কর্তৃপক্ষ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা। সম্প্রতিক গ্যালাপের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, বর্তমান সংঘাতের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল ইস্যুতে মতামতের পরিবর্তন ঘটেছে বেশিরভাগ আমেরিকান এখন গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের পদক্ষেপকে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনড় অবস্থান সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। দেশের অন্যান্য স্থানেও প্রতিবাদ ও প্রতিবাদকারীদের গ্রেপ্তার বেড়েছে। ছাত্ররা রবিবার থেকে ক্যাম্পিং করে আসছে। তাদের বিক্ষোভ না করার সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। এবং ওই সতর্কতা উপেক্ষা করার কারণে তাদের অভিযুক্তও করা হয়েছে। 

বোস্টন পুলিশ সিবিএসকে জানিয়েছে, এমারসন কলেজের অ্যাকশনে তিনজন অফিসার আহত হয়েছেন তাদের অবস্থা প্রাণঘাতী না। একটি পূর্ববর্তী বিবৃতিতে কর্মকর্তাদের আইন মানার অনুরোধ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ  বলেছিল, এমারসন কলেজ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারকে সমর্থন করে। এদিকে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ছাত্ররা গত বুধবার রাতে হার্ভার্ড ইয়ার্ডে জন হার্ভার্ডের ভাস্কর্যের সামনে ৩০টিরও বেশি তাঁবু স্থাপন করে অবস্থান নেওয়ার কৌশলী সাহস দেখিয়েছে। উল্লিখিত ভাস্কর্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীনতম অংশ। বৃহস্পতিবারও তারা সেখানে অবস্থান করেন। এর আগে, অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা ব্যাপক রূপ ধারণ করেছিল। শত শত স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পুলিশ লাঠি হাতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বিক্ষোভকারীদের ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে মিছিল করা থেকে বিরত রাখতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন এবং বিক্ষোভকারীদের ব্যাপারে তার মন্তব্য ছিল, তারা ইতোমধ্যেই ‘জেলে আছে’। গ্রেগ অ্যাবটের ঘোষণাপত্রে পুলিশকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছিল, ‘টেক্সাস রাজ্যের জনগণের নামে আপনাদের নির্দেশ দিচ্ছি, আপনারা তাদের ছত্রভঙ্গ করুন।’ এর পরপরই ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফক্স নিউজ-৭ এর ফটো সাংবাদিক অস্টিনকে দাঙ্গা পুলিশ দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় ক্যামেরাসহ মাটিতে পড়ে যেতে দেখা গেছে। পরবর্তী সময় মার্কিন আউটলেট ক্যামেরাম্যানকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলি আগ্রাসন ইস্যুতে ফিলিস্তিনের ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকও গ্রেপ্তার হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গা পুলিশ মাটিতে ফেলে বেঁধে ফেলেছে, এমন দৃশ্যও দেখা গেছে। কিন্তু এর পরই প্রায় ৩০০ জন বিক্ষোভকারী পুনরায় সংগঠিত হয়। স্কুলের আইকনিক ক্লক টাওয়ারের নিচে ঘাসের ওপর বসে ‘মুক্ত প্যালেস্টাইনের’ স্লোগান চালিয়ে যায়। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারীরা এর আগে বুধবারে সেখানে সফররত রিপাবলিকান হাউজ স্পিকার মাইক জনসনকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করায়। পুরো ক্যাম্পাস কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড দিয়ে সজ্জিত করা হয়। প্ল্যাকার্ডসমূহে ‘প্রকৃত আমেরিকানরা গাজার পক্ষে দাঁড়িয়েছে’, ‘শিক্ষা নিরস্ত্রীকরণ’ এবং ‘গাজায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অবশিষ্ট নেই’ ইত্যাদি স্লোগান লেখা ছিল।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনদাতা খোদ মার্কিন মুল্লুকেই আগ্রাসনের প্রত্যক্ষ বিরোধিতা সবচেয়ে বেশি জোরদার হচ্ছে দিন দিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্রমবর্ধমান এই বিক্ষোভ দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েল প্রশ্নে মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন আনতে সহায়ক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে গাজা নিয়ে এ ধরনের বিক্ষোভ ইসরায়েল নীতিতে প্রজন্মগত ব্যবধানও দেখিয়ে দিচ্ছে। তরুণরা রাজনীতিবিদদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, সারা দেশে কলেজ প্রশাসনকেও তারা চ্যালেঞ্জ করছে। মতাদর্শিক এই পার্থক্য, যেখানে তরুণ প্রজন্ম ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বেশি সমর্থন দিচ্ছে তাদের আগের প্রজন্মের তুলনায়, যা ৮১ বছর বয়সী ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পুনর্নির্বাচিত হওয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ওয়াশিংটনে  ইসরায়েল দুই দলের কাছ থেকেই যে সমর্থন পেয়ে আসছে, সেটাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বহু বছর ধরেই জনমত জরিপে দেখা গেছে, তরুণরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহমর্মী এবং ইসরায়েলের বেশি সমালোচক। তবে এখন গোটা আমেরিকার মানুষই গাজায় চলমান যুদ্ধসহ ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণের সমালোচনা করছে।

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি জনপদে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চায়, যেখানে ৭ অক্টোবরের পর যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তাতে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি মারা গেছে। তবে এই যুদ্ধে বাইডেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ মিত্র ইসরায়েলের প্রতি অবিচল সমর্থন দিয়ে আসছেন। বাইডেনের এই অবস্থানের কারণে রাজনৈতিকভাবে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। নভেম্বরে পুনর্নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তাকে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি করে দিতে পারে।

জরিপ বলছে, বাইডেনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মূল অংশের কাছে আবেদন করতে হবে, যারা কিনা ইসরায়েল প্রশ্নে রিপাবলিকানদের মতো ঐক্যবদ্ধ নয়। সমাজবিজ্ঞানী ইমান আবদেলহাদি বলছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকাতে যেভাবে বলপ্রয়োগ করছে  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তাতে ‘চরম ডানপন্থি’ ট্রাম্পের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করবে বাইডেন, সেই যুক্তি খাটো হয়ে পড়েছে। ইতিহাসবিদ জনস্টন বলছেন, স্বল্প মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হয়তো বড় প্রতিষ্ঠান আর প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে তহবিল প্রত্যাহার করবে না, তবে বিনিয়োগে স্বচ্ছতার এই দাবি যৌক্তিক। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে পরিবর্তন সম্ভব, তবে তা রাতারাতি আসবে না।

বিবিসি, আল-জাজিরা অবলম্বনে

লেখক:  অনুবাদক ও কলাম লেখক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত