আজ রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদ। দুই দেশের সেরা ক্লাব দুটির ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে দ্বৈরথ অনেক পুরনো। আসরটি ইতিহাসে সর্বাধিক সেমিফাইনাল খেলা দলও এ দুটি। শুধুমাত্র নিজেরাই এ মঞ্চে মুখোমুখি হয়ে ২৬ বার। তাই রিয়াল-বায়ার্ন ম্যাচ মানেই বাড়তি আমেজ। কিন্তু কবে থেকে শুরু হলো এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
শুরুটাও আজ রাতের মতো সেমিফাইনাল ম্যাচ দিয়েই। ১৯৭৬ সালের ইউরোপিয়ান কাপে। এখনকার চ্যাম্পিয়নস লিগের আদি নাম ছিল এটি। মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথমবার একে অপরের মুখোমুখি হয় দুই ক্লাব। ঘরের মাঠে প্রথম লেগের খেলায় ৭ মিনিটেই বায়ার্নের জাল খুঁজে নেন মার্তিনেজ। তবে বায়ার্ন দলে ছিলেন নিজের সময়ে জার্মানির সেরা স্ট্রাইকার জার্ড মুলার। মিরোস্লাভ ক্লোজা ভাঙার আগে ৪০ বছর জার্মানির সর্বোচ্চ গোল স্কোরার ছিলেন মুলার। ম্যাচের ৪২ মিনিটে ১ লাখ ১১ হাজার দর্শকের সামনে ফিরতি গোল করে বাভারিয়ানদের হার ঠেকান তিনি।
ওই ম্যাচে ঘটেছিল অপ্রীতিকর এক ঘটনা। গ্যালারি থেকে এক ব্যক্তি মাঠে দৌড়ে গিয়ে হেনস্তা করেছিলেন জার্ড মুলার ও ম্যাচের অস্ট্রিয়ার রেফারি এরিক লিনেমেয়ারকে। পরের লেগে হয়তো সেই কারণে আরও জ্বলে উঠেছিলেন বিশ্বকাপ ও ব্যালন ডি’অর জেতা মুলার।
দ্বিতীয় লেগে মিউনিখের অলিম্পিয়াস্তাদিওনে জোড়া গোল করেন তিনি। প্রথমটি ৯ম মিনিটে, পরেরটি ৩১তম মিনিটে। মাঠে ৭৮ হাজার দর্শকের ভালোবাসার প্রতিদান দিয়ে ৩-১ অ্যাগ্রেগেট নিয়ে রিয়ালকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বাভারিয়ানরা।
ফাইনালে ফরাসি ক্লাব সেইন্ট এতিয়েনেকে হারিয়ে ওই আসরে ইউরোপিয়ান কাপ জিতে নিয়েছিল বায়ার্ন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ২৬ বার মুখোমুখি হয়ে নিজেদের ম্যাচকে ‘ক্লাসিক’বানিয়ে ফেলেছে দুই ক্লাবই। আর ফুটবল বিশ্বকে আনন্দ দিয়ে আসা ঐতিহাসিক দ্বৈরথের শুরুর সঙ্গে সবসময় জুড়ে থাকবে জার্মানি ও বায়ার্ন মিউনিখের কিংবদন্তি ফুটবলার জার্ড মুলারের নাম।
