চ্যাম্পিয়নস ট্রফি

রোহিতদের আনতে পিসিবির নতুন প্রস্তাব, ভারতের সব ম্যাচ লাহোরে

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ০৪:৩৬ পিএম

আট বছর পর আবারও ক্রিকেটে ফিরছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান হচ্ছে আগামী ২০২৫ আসরের আয়োজক। ৮ দলের এই টুর্নামেন্টের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, ধারণা করা হচ্ছে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে মাঠে গড়াতে পারে। তবে তার আগেই দেখা দিয়েছে শঙ্কা। ভারত সেখানে খেলতে যাবে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

এশিয়া কাপের মতো ভারত এই টুর্নামেন্টও হাইব্রিড মডেলে খেলতে চায় বলে বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছিল সংবাদসংস্থা আইএএনএস। তবে এর মাঝে পাকিস্তান নতুন প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছে। তারা ভারতের সব ম্যাচ লাহোরের এক ভেন্যুতেই আয়োজন করতে চায়।

পিসিবি অনেক চিন্তাভাবনার পরে ভারতের খেলাগুলোর জন্য লাহোরকে চিহ্নিত করেছে। লাহোর ছাড়াও করাচি ও রাওয়ালপিন্ডিকে ভেন্যু হিসাবে দেখছে আয়োজকরা। লাহোর ভারতের সীমান্তবর্তী শহর হওয়ায় ভারতের সমর্থকরা সহজেই সেখানে গিয়ে খেলা দেখতে পারবে। তাছাড়া আয়োজকরা এটাও ভাবছে ভারতীয় দলকে যেন খুব বেশি ভ্রমণ না করতে হয়।

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের রাজনৈতিক বৈরি সম্পর্কের কারণে গত ১৭ বছরে পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে যায়নি ভারতীয় দল। যে কারণে ২০২৩ এশিয়া কাপেও ভারতের ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে রাখতে পাকিস্তানের সঙ্গে আয়োজক স্বত্ব ভাগাভাগি করে শ্রীলঙ্কা। একই হাইব্রিড মডেলে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও খেলতে চায় ভারত। আর এটি কিছুতেই হতে দিতে চায় না পিসিবি। কয়েকদিন আগে তারা আইসিসিকে তিনটি ভেন্যু করাচি, লাহোর ও রাওয়ালপিন্ডিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের কথা জানিয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে এবার তারা ভারতের সব ম্যাচ কেবল লাহোরেই আয়োজন করতে চায়। একই শহরে হবে টুর্নামেন্টটির ফাইনালও।

ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে। তারা বলছে, এক শহরে ভারতের ম্যাচ আয়োজন করলে, লজিস্টিকস এবং ভ্রমণকেন্দ্রিক নিরাপত্তাজনিত মাথাব্যথা কমে যায় পিসিবির। এছাড়া লাহোর শহরের অবস্থান ভারত-পাকিস্তানে ওয়াগাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছাকাছি জায়গায়। আর এর মাধ্যমে সহজেই ভারতীয় দর্শকরা দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ থাকছে।

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি চলতি সপ্তাহের শুরুতে আইসিসির কাছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির একটি খসড়া পাঠিয়েছিলেন। যেখানে তিনি জানান, টুর্নামেন্টটি আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে আয়োজন করা হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত হবে প্রতিযোগী আটটি দেশের আলোচনার ভিত্তিতে। 

গত মঙ্গলবার করাচিতে পিসিবি সভাপতি নাকভি আশাবাদী হয়ে জানান, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে আট দলের সবাই পাকিস্তানে সফর করবে। যেখানে তিনি ভারতের খেলতে না চাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও উল্লেখ করেন। পাকিস্তান এই টুর্নামেন্টটি আয়োজনে খুব মরিয়া, কারণ ১৯৯৬ বিশ্বকাপের পর আর কোনো আইসিসির ইভেন্ট আয়োজন হয়নি দেশটিতে। এরপর ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কান দলের ওপর আরেক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপও সরিয়ে নেওয়া হয় পাকিস্তান থেকে। এরপর দেশটিতে ৬ বছর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা হয়নি।

পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরে বাবর আজমদের দেশে। যেখানে এরইমাঝে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে যাওয়া প্রায় দেশই আলাদাভাবে সিরিজ খেলতে গিয়েছে। কিন্তু ভারত বাদে। এর আগে সর্বশেষ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর বসেছিল ২০১৭ সালে। যেখানে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আসন্ন আসরটিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আয়োজক পাকিস্তানসহ ভারত, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ড।

আগামী বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তানে আয়োজিত হয় কিনা, আইসিসি ও পিসিবি এই ইস্যুতে কতটা সফল হতে পারে সেটা দেখতে মুখিয়ে আছে ক্রিকেটপ্রেমীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত