হবিগঞ্জের সড়ক দুর্ঘটনায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার একই পরিবারের ৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে । এতে ওই পরিবারের চলছে শোকের মাতম। পুরো বাড়ি স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে।
গত বুধবার (১ মে) দিনগত রাতে হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রাইভেট কার ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের নিহত চার সদস্যের দাফন আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে সম্পন্ন হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় জানাজা নামাজ শেষে তাদের দাফন করা হয়। এর আগে আজ ভোর পাঁচটায় নিহতদের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স হবিগঞ্জ থেকে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
নিহতরা হলেন- গলাচিপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মৌজালী মৃধার ছেলে জামাল মৃধা (৪২) ও খোকন মৃধা (৩৫), নিহত জামাল মৃধার স্ত্রী কামরুন নাহার (৩০) ও ছেলে কাওসার (১২)। একই দুর্ঘটনায় নিহত হয় প্রাইভেট কারের ড্রাইভার হারুন বেপারী। তার মরদেহ আজ সকালে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জের নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, মৌজে আলী মৃধার তিন ছেলে নূর মোহাম্মদ, জামাল এবং খোকন। সবার বড় নূর মোহাম্মদ বয়সের ভারে নুব্জ। মূলত জামালের আয়েই সংসার চলতো। বৃদ্ধ মায়ের ভরন পোষণ ছাড়াও তিন বোনের বিয়ে দিয়েছেন জামাল। এর আগে বুধবার (১ মে) দিনগত রাত ২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের হরিতলা এলাকায় ট্রাক ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটলে প্রাইভেটকারে থাকা চালকসহ এই চারজন নিহত হন।
জানাজায় অংশ নিতে আসা গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন শাহ জানান, একই পরিবারের চার জনের মৃত্যু কোনো ভাবেই মানা যায় না। এলাকাবাসী সকলেই এই মৃত্যুতে শোকার্ত।
নিহত জামাল ও খোকনের মামা মো. সোনা মিয়া জানান, জামাল মৃধা ঢাকার সাভারে পরিবার নিয়ে থাকতেন। জামাল মৃধার ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান ও খোকন মৃধা গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। কাওসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। কাওসারের মানত থাকায় প্রাইভেটকারে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটে শাহজালাল (রা.) এর মাজারে যান তারা। ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আলম খান বলেন, হবিগঞ্জ থেকে আজ সকালে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আল হেলাল প্রতিটি মরদেহ দাফন কাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন।
