বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ তার মেয়াদের শেষ সময়ে একদিনে ৪৭টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১ হাজার ১ জন কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হাফিজুর রহমান গত ২০ মার্চ এ প্রজ্ঞাপন জারি করেন। দেশের ইতিহাসে এক দিনে হাজারের বেশি চাকরি স্থায়ী করার ঘটনা নজিরবিহীন।
অভিযোগ রয়েছে, চাকরি স্থায়ী হওয়া এ কর্মচারীরা অধ্যাপক শারফুদ্দিনের আমলে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ পান। নিয়োগের সময় তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০-১৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়। আবার তাদের চাকরি স্থায়ী করতেও জনপ্রতি ১-২ লাখ টাকা নেয় উপাচার্য শারফুদ্দিনের ঘনিষ্ঠ লোকেরা। চাকরি স্থায়ীকরণে ১০-১৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ঘুষ নিয়ে কর্মচারীদের চাকরি দেওয়া ও চাকরি স্থায়ীকরণে অধ্যাপক শারফুদ্দিন বেশ চাপে ছিলেন। তিনি ভেবে রেখেছিলেন আবার উপাচার্যের দায়িত্ব পেলে ধাপে ধাপে চাকরি স্থায়ী করবেন।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ কর্মচারীরা শুধু আমার আমলে নয়, আগের উপাচার্যদের আমলেও নিয়োগ পেয়েছিল। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণে বিন্দুমাত্র অনিয়ম হয়নি। তাদের চাকরি স্থায়ী হওয়ার সময়সীমা পূর্ণ হয়েছিল। সব নিয়ম মেনেই হয়েছে। নতুন আরেকজন উপাচার্যের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় আমি চিন্তা করলাম, নতুন প্রশাসনে এ কর্মচারীরা বঞ্চিত হতে পারে তাই আমি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের চাকরি স্থায়ী করি। আমার এ কাজে তাদের ও তাদের পরিবারের দোয়া ছাড়া আর কোনো সুবিধা নিইনি।’
