সম্প্রতি একদিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে বসে চায়ের অর্ডার দেওয়ার সময় পরিচয় হয় রিপন (ছদ্মনাম) নামের এক ভ্রাম্যমাণ চা-ওয়ালার সঙ্গে। পরিচয় জিজ্ঞাস করতেই তিনি জানান তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। শুধু তিনি নন এখানে সব চা বিক্রেতায় কিশোরগঞ্জের। সবাই কিশোরগঞ্জের কেন- এমন প্রশ্নে করতেই সে বলেন, এখানে অনেকেই বিক্রি করতে আসতে চেষ্টা করে কিন্তু আমরা জায়গা দিই না।
ওই চাওয়ালা আরও জানান, বাহির থেকে যারা আসে তাদেরকে চলে যেতে হুমকি-ধামকি দেন তারা। তারপরেও কেউ না গেলে শারীরিক নির্যাতনও করা হয়। সম্প্রতি দুইজনকে তারা মারধর করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েকটি স্থায়ী ও অনুমোদিত দোকান ছাড়া বাকি সব দোকান অবৈধ। কোনো ধরনের ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর নিয়ম নেই। সম্প্রতি ১৯টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদেরও নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবুও অনিয়ম, অবৈধভাবে ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসতে দেখা যায়। ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতাদের এই সিন্ডিকেটও তার অন্যতম একটি উদাহরণ। চা বিক্রেতাদের থেকে প্রক্টরিয়াল টিমের বিরুদ্ধে কয়েকবার চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। শাস্তিও পেয়েছেন কয়েকজন। তবুও থামছে না তাদের এসব অবৈধ কার্যক্রম। যার ফলে অবৈধ ও ভ্রাম্যমাণ দোকান পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এই ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতার সাথে আড্ডায় পাওয়া যায় আরো নানান তথ্য। তিনি জানান, এই ভিসি চত্বরে শুধুমাত্র নিকলীর (কিশোরগঞ্জ) মানুষ ব্যবসা করে। এর বাহিরে কেউ আসলে তাদের জায়গা দেওয়া হয় না। এই সিন্ডিকেট কিভাবে চলে জানতে চাইলে সে বলে, আমরা শুধু একটি উপজেলার লোক এখানে ব্যবসার সুযোগ পাই। এর বাইরে যারা আছে সব বিদায় করে দিছি। কয়েকদিন আগে একজনকে মেরে বের করে দিয়েছি। তার বাড়ি বেলবিডা (কিশোরগঞ্জ)। তবে ক্যাম্পাসের অন্যান্য জায়গায় তারা ব্যবসা করতে পারে। মোটামুটি পুরো ক্যাম্পাসটাই কিশোরগঞ্জের চা ওয়ালাদের দখলে।
এতসব নিয়ন্ত্রণ করে কিভাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের চাঁদা দেওয়া লাগে। লোক আছে। প্রক্টররিয়াল টিম চাঁদা নেয়? জানতে চাইলে সে বলে, হ্যাঁ। তবে প্রক্টরিয়াল টিমের কে চাঁদা নেয় এ বিষয়ে মুখ খুলতে সে রাজি হয়নি। বলল, ‘আবার এতো কিছু কইলেতো সমস্যা।’
তিনি আরও জানান, ‘এখানে অন্য কারো ব্যবসা করার সুযোগ নাই। চাঁদা দিলেও অনুমতি পাওয়া যাবে না। বরং টাকা দিলে আপনারে মারবো। সিস্টিম আছে।’
প্রক্টরিয়াল টিম কী সুবিধা নেয় জানতে চাইলে ওই চাওয়ালা বলেন, ‘এখানে একটা সিস্টিম আছে। এখানে একটা বস আছে। ও আসলে টাকা দেই না। মনে করেন সিগারেট খায়। একটা সিগারেটের দাম ১৮ টাকা। তারা বেনসন আর এডভান্স সিগারেট খায়। কিন্তু সে ডার্ভিরও (সিগারেটের) যোগ্য না। খায় এডভান্স। ওরা এসে বসলে আমরা সিগারেট দিয়া দেই। আমরা ঝামেলা করি না। এমনি টাকা নেয় না। মনে করেন এখন আইছে। এসে বসছে। বসে দুটা-তিনটা সিগারেট খাইলো। তিনটা সিগারেটের দাম ৫০ টাকা, আমরা নিই না।’
এছাড়াও ক্যাম্পাসের অনুমোদিত এবং ভ্রাম্যমাণ যেকোন দোকান থেকে ফাও খান তারা। খেয়ে চলে যাওয়াটা তাদের জন্য সাধারণ বিষয়। ভয়ে কেউ টাকা চায়ও না বরং যা খেতে চায় দিয়ে দেয়। এসব সত্যতা জানতে ঘটনাস্থলে কয়েকদিন ঘুরাঘুরি করে প্রমাণও পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রক্টরিয়াল টিমের এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমন কয়েকজন আছে যারা ক্যাম্পাসে এসব কাজ করে বেড়ায় এবং তারা অনেক প্রভাবশালী। তাদের ভয়ে তটস্থ থাকে সবাই। কয়েকজনের কারণে পুরো প্রক্টরিয়াল টিমের নাম খারাপ হয়।
প্রক্টরিয়াল টিমের এমন অবৈধ কাজের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এসব কাজের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স রয়েছে। যারাই এই কাজে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে একজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো ছাড় নেই।
অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচালিত হচ্ছে। এস্টেট অফিস এ নিয়ে একটি কমিটি করেছিল। তারা ক্যাম্পাসের অবৈধ দোকান নিয়ে জরিপও করেছিল। চলতি মাসের শুরুতে একটি সভায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আমরা জানতে পেরেছি দোকানগুলো অবৈধ, তাই তাদের দোকান তুলে নিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
ঢাকায় ৩৬.৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা, তবুও বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
পোস্টারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি, এমপির ভাতিজাকে শোকজ
পেঁয়াজ রপ্তানি থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত
ঢাকাসহ যেসব এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে আজ