চুরির অপবাদে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ৮ দিন ধরে নিখোঁজ কিশোর

আপডেট : ০৫ মে ২০২৪, ০৯:২৪ পিএম

সাভারের আশুলিয়ায় আম চুরির অপরাধে ১৬ বছরের এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মুরাদ এ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের ৮ দিন পার হলেও ভুক্তভোগী ওই কিশোরের সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরের মামা সুকুমার দাস বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই কারখানার দু’জন নিরাপত্তা কর্মীকে আটক করেছে।  

থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত ২৭ এপ্রিল (শনিবার) সকালে কাউকে না জানিয়ে ঘুম থেকে উঠে যায় ১৬ বছর বয়সী কিশোর শ্রী কৃষ্ণ। অনেক খোঁজাখোজি করেও তাকে না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করা হয়। এর দুইদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই কিশোরের গাছের সঙ্গে হাত-পাঁ বাধা ছবি ভাইরাল হয়। ছবি দেখার পর মা সুমি রানী দাস জানতে পেরে পুলিশ নিয়ে দক্ষিন গৌরিপুর এলাকায় মুরাদ এ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানায় যান। এ সময় পুলিশ কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে চলে যান।

গত বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর মা। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুরাদ এ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার দুইজন নিরাপত্তা কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
 
ভুক্তভোগী কিশোরের মা সুমি রানী দাস অভিযোগ করেন, আমার ছেলেকে আম চুরির অপরাধে কারখানার ভিতরে গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে। কারখানার আশপাশের লোকজন ছাদের উপর থেকে দেখে ভিডিও করেছে। তারা আমাকে বলেছে, আপনার ছেলেকে কর্তৃপক্ষ মেরে গুম করে ফেলেছে। আজকে ৮ দিন হয়ে গেলেও আমার ছেলেকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিনা। কারখানার লোকজনের কাছে একটাই চাওয়া আমার ছেলেকে যদি তারা মেরে ফেলে তাহলে অন্তত তার লাশটা যেন আমাকে দিয়ে দেয়।’

নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদ এ্যাপারেলস কারখানার এ্যাডমিন কর্মকর্তা আনিসুর কিরন বলেন, আম চুরির অপরাধে কিশোর শ্রী কৃষ্ণকে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছিলো, কিন্তু তাকে কোন মারধর করা হয়নি। পরবর্তীতে তাকে ভাত খাইয়ে, নতুন শার্ট ও হাতে পাঁচশ টাকা দিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে। এরপর সে কোথায় গেছে বা কোথায় আছে তা আমরা জানি না। আপনি কারখানায় আসেন কথা বলি। বিষয়টি নিয়ে নিউজ কইরেন না।
 
আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্য ও আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরাফাত হোসেন বলেন, গাছের সাথে হাত-পা বাঁধা ছবি পাওয়ার পর কারখানার দুইজন নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে মারধর করেছে কিনা তার কোন প্রমান পাইনি। তাছাড়া যেখানে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সেখানে কোন সিসি ক্যামেরাও নেই বলে দাবি করেন তিনি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, কিশোরকে হাত-পা বেঁধে মারধরের ঘটনায় আটক দুই নিরাপত্তা কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত