সিজার লুইস মেনোত্তির হাত ধরেই জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার। বেঠেখাটো ম্যারাডোনার ফুটবল শৈলী মুগ্ধ করেছিল তাকে। কিন্তু তিনিই আবার ১৯৭৮ বিশ্বকাপ দলে নেননি তাকে। আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সাময়িকী ‘এল গ্রাফিকো’কে তার কারণও ব্যাখ্যা করেছিলেন মেনোত্তি, ‘যেটা আমাকে করতেই হতো, সেটাই করেছি। ম্যারাডোনার দেখভাল করাটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমি আসলে ডিয়েগোতে মুগ্ধ ছিলাম। সে ছিল একদমই তরুণ, খুবই ছোট।’
পরে সেই ম্যারাডোনাকে খেলিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে মেনোত্তির আর্জেন্টিনা ব্যর্থ হয়েছিল। এক আসর বিরতি দিয়ে সেই ম্যারাডোনাই আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়বার জেতান বিশ্বকাপ। তবে মানুষের জীবন কত অদ্ভুত সেটা এই দুজনকে দেখলেই বোঝা যায়। কারণ গুরু আজ মারা গেলেও শিষ্য পরলোকে গেছেন ৪ বছর আগেই।
তবে পরলোকে গেলেও এখনও সচল আছে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট। আর সেখান থেকেই গুরু মেনোত্তির মৃত্যুতে করেছেন শোক প্রকাশ। সেখানে দুজনের আলিঙ্গনের একটি ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, ‘সমস্ত প্রশংসা এবং স্নেহ একটি ছবিতে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। আপনি শান্তিতে ঘুমান গুরু। সিজার লুইস মেনোত্তি (১৯৩৮-২০২৪)।’
যে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে সেটি ১৯৯৩ সালে ২৮ নভেম্বর বিকেলের। তখন ম্যারাডোনা নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাবের হয়ে। আর মেনোত্তি ছিলেন বোকা জুনিয়র্সের কোচ। সেদিন মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। নিউয়েলস অবশ্য ২-০ গোলে হেরেছিল। সেই ম্যাচের আগমুহূর্তের ছবি। সে সময়টা আবার ফুটবল ঈশ্বরের ঘোর অন্ধকারের। মাদক সেবনের দায়ে নিষেধাজ্ঞায় থেকে ফিরে এসেছিলেন।
সেই ম্যাচের পর মেনোত্তি বলেছিলেন, ‘তাকে ফুটবল জার্সিতে দেখে আমি খুশি হয়েছি। কারণ আমি জানি তার সুখী হওয়ার একমাত্র উপায় হলো খেলা। যতক্ষণ সে পারবে, আমি আশা করি প্রতিবার বল স্পর্শ করার সময় তার বাম পায়ে সুক্ষতা রয়েছে তা আমাদের আনন্দিত করবে।’
দলের পরাজয়ের পর ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আমি ফ্লাকোকে (মেনোত্তি) খুব ভালোবাসি, তার মতো দারুণ মানুষকে প্রশিক্ষক হিসেবে পেয়েছে বোকা জুনিয়র্স। আমি তাকে বিশ্বের সেরা মনে করি, তিনি একজন দুর্দান্ত কোচ এবং দুর্দান্ত মানুষ।’
