বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহতে আক্রমণের উদ্বেগের মধ্যেই ইসরায়েলে বোমার চালান স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন।
মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
ইসরায়েলে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা ওই চালানে ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২ হাজার পাউন্ড (৯০৭ কিলোগ্রাম) ও ১৭ লাখ ৫০০ পাউন্ড ওজনের বোমা। যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির মিডিয়া পার্টনার সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানান ওই মার্কিন কর্মকর্তা।
রাফায় বেসামরিক লোকজনের মানবিক চাহিদা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ‘পুরোপুরি বিবেচনায়’ নেয়নি ইসরায়েল, বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
যদিও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল।
হোয়াইট হাউস প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেন, "রাফাহতে ইসরায়েলের বড় স্থল অভিযান চালানো উচিত নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন যাদের অন্য কোথাও যাওয়ার আর জায়গা নেই।"
তিনি আরও বলেন, রাফায় স্থল অভিযানের সময় বেসামরিক মানুষের মানবিক চাহিদা ইসরায়েল কীভাবে মেটাবে ও সেখানে হামাসের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযান পরিচালনা করবে, সেসব বিষয়ে স্ট্র্যাটেজিক কনসালটেটিভ গ্রুপের কাঠামোয় দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে।
এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ‘এই আলোচনাগুলো এখনো চলছে এবং আমাদের উদ্বেগকে তারা (ইসরায়েল) পুরোপুরি বিবেচনায় নেয়নি। রাফায় বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর ব্যাপারে ইসরায়েলি নেতারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ধারণা করা হচ্ছে। আর তাই ইসরায়েলে প্রস্তাবিত অস্ত্রের চালান পাঠানোর বিষয়টি যত্নের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা শুরু করেছিলাম আমরা। এসব অস্ত্র হয়তো রাফা অভিযানে ব্যবহার করা হতো।’
এসব কারণেই অস্ত্রের সবশেষ চালানটি স্থগিত করা হয়েছে এবং চালানটি সম্পর্কে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এদিকে সোমবার রাফাহ শহরের পূর্বাঞ্চল থেকে এক লাখ মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই রাফাহতে অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইতিমধ্যে রাফাহ ক্রসিং এর ফিলিস্তিনি অংশ দখলে নিয়েছে দখলদার দেশটির সামরিক বাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে এখন রাফাহ থেকেও পালানো শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা।
