‘অ্যাক্টিভ ক্লাব’ ও মার্কিন নির্বাচনে ডানপন্থি ঝুঁকি

আপডেট : ১০ মে ২০২৪, ০৩:০০ এএম

উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ জুড়ে অতি-ডানপন্থি ‘অ্যাক্টিভ ক্লাব আন্দোলন’ অভূতপূর্ব গতিতে প্রসারিত হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক নির্বাচন এবং সংখ্যালঘুদের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর বেশিরভাগ রাজ্যে স্বাধীন শাখা গঠন করে নেটওয়ার্ক তৈরির মাধ্যমে অ্যাক্টিভ ক্লাব আন্দোলন মার্শাল আর্টের (MMA) সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে ডানপন্থি চরমপন্থাকে আত্মীকরণ করেছে। জনসাধারণের সামনে আকর্ষণীয় ও মনোরম ইমেজ উপস্থাপন করে অনুশীলন, ফিটনেস ও এমএমএ প্রশিক্ষণের নামে এই চরমপন্থি মতাদর্শের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। ‘অ্যাক্টিভ ক্লাব’গুলো ইতিমধ্যেই ঐতিহ্যগতভাবে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীগুলোর তুলনায় বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে অনেক গ্রহণযোগ্যভাবে পৌঁছানোর পথ প্রশস্ত করে ফেলেছে। অবশ্য, তাদের সদস্যদের প্রায়ই ‘কিবোর্ড যোদ্ধা’ বলেও ডাকা হয়।

প্রথাগত ডানপন্থি ও ঘৃণাবাদী গোষ্ঠীগুলো সাধারণত অনলাইন ‘ইকো চেম্বারে’ সীমাবদ্ধ থাকলেও অ্যাক্টিভ ক্লাবগুলো তাদের শাখাসমূহের মাধ্যমে বাস্তব বা রিয়ালিটিতেও কার্যক্রম ও যোগাযোগ বিস্তৃত রাখে। তারা কিকবক্সিং, ভারোত্তোলন, হাইকিং বা প্রদর্শনীর আয়োজনের মাধ্যমে সক্রিয় থাকে। যদিও অ্যাক্টিভ ক্লাবের মতাদর্শ শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী সংগঠনের ক্লান্ত ও ঘৃণাপূর্ণ মতাদর্শের মতোই; তবু দুটি অনন্য কারণ অ্যাক্টিভ ক্লাব আন্দোলনকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। একটি কারণ হলো বিকেন্দ্রীভূত সাংগঠনিক কাঠামো, অপরটি হলো ব্যক্তিগত স্কিল অর্জন ও উন্নতি।

কাউন্টার এক্সট্রিমিজম প্রকল্পের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২১ সালে এই আন্দোলনের শুরু। এখন এদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপ জুড়ে ১০৪টিরও বেশি শাখা থাকার কথা জানা যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বেশ কিছু গণতান্ত্রিক দেশে ২০২৪ সালের অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের সঙ্গে এই আন্দোলনের গতিশীল হয়ে ওঠা  নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ভীতি প্রদর্শনের ইতিহাসের সঙ্গে আন্দোলনটির নাম জড়িয়ে আছে। ফলে, আন্দোলনের নেটওয়ার্কটি একটি সহিংস মিলিশিয়া হিসেবে কাজ করতে পারে। যেমন, এই নেটওয়ার্কেও ‘ব্রাউনশার্ট’ সংগঠনটি সামনের সময়টাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে নির্বাচন এবং রাজনৈতিক ইভেন্টে কর্মসূচি দিয়ে হস্তক্ষেপ করছে।

অ্যাক্টিভ ক্লাবগুলোর বৃদ্ধি ও এর বিপদসমূহ বোঝার জন্য এ আন্দোলন কীভাবে শুরু হয়েছিল তা আমাদের পর্যালোচনায় নিতে হবে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে রবার্ট রুন্ডো তার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প হিসেবে এই আন্দোলন শুরু করেন। কট্টর শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান জাতীয়তাবাদী রবার্ট রুন্ডো দীর্ঘদিন ইউরোপে কাটান এবং সেখানকার অতি-ডান গোষ্ঠীর কাছ থেকে তালিম নিয়ে রাইজ অ্যাবোভ (নিজেকে ছাড়িয়ে যাও) মুভমেন্ট (RAM) প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল তার প্রথম প্রজেক্ট।

২০১৯ সালে শার্লটসভিলে ভার্জিনিয়ার ইউনাইট দ্য রাইট সমাবেশের সময় রুন্ডো এবং দলের অন্য তিনজন নেতাকে গ্রেপ্তারের পর RAM বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে। নেতাদের গ্রেপ্তার হয়ে প্রথাগত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বাধীন সংগঠনের মুখ থুবড়ে পড়া দেখে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বহীন আন্দোলনের মডেলটি বেছে নেন। মডেলটি ১৯৮৩ সালে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী লেখক লুই বিম প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন।

রুন্ডো এভাবে অ্যাক্টিভ ক্লাব আন্দোলনকে একটি বিকেন্দ্রীকৃত নেটওয়ার্ক হিসেবে গঠন করেন, যেখানে প্রতিটি সেল বা শাখা স্বাধীনভাবে কাজ করে। তবে এনক্রিপ্ট করা মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম যেমন Telegram, Ges Rocket.Chat-এ অন্যদের সঙ্গে তারা সংযুক্ত থাকে। বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক পদ্ধতির একটি শাখা বা সেলের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও, সামগ্রিক নেটওয়ার্ক অক্ষত থাকে বা মুখ থুবড়ে পড়ে না।

অ্যাক্টিভ ক্লাব আন্দোলনের নাটকীয় বৃদ্ধির পেছনে দ্বিতীয় কারণ হলো ব্যক্তিগত উন্নতি ও শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে অতি-ডান মতাদর্শের সংমিশ্রণ। ভারোত্তোলন, কিকবক্সিং এবং এমনকি হাইকিংয়ের মতো স্বাস্থ্যকর বিনোদনের প্রচার করে গ্রুপটি নিজেকে ইতিবাচক ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে জড়িত করে রাখে। অ্যাক্টিভ ক্লাবগুলো তাদের সদস্যদের তামাক এবং মাদকের ব্যবহার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে উৎসাহিত করে। অনেক নতুন সদস্যের জন্য, ক্লাবগুলো প্রাথমিকভাবে আত্ম-উন্নয়নের পরিসর হিসেবে কাজ করে। গ্রুপটির ধীরে ধীরে সদস্যদের সম্পৃক্ততা গভীর হলে তাদের আন্দোলনের মতাদর্শের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। সংস্থার কেন্দ্রে শারীরিক প্রশিক্ষণ সদস্যদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে ও সম্পর্ক স্থাপনে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। যৌথ ট্রেনিং ও পাশাপাশি চলাফেরা করার মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাসের বিকাশের বাইরেও নেটওয়ার্কটি সদস্যদের বন্ধুত্বের দৃঢ় অনুভূতি তৈরি হয়। এই শক্তিশালী সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো গোষ্ঠীটিকে অনুরূপ অন্যান্য সংস্থার তুলনায় শুধুমাত্র অসন্তুষ্ট তরুণদের একটি বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছতে সাহায্য করেছে। কিন্তু পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, এটি অন্য যে কোনো উগ্র ডানপন্থি আন্দোলনের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বেশিরভাগ উগ্র-ডান চরমপন্থি গোষ্ঠী যেখানে কেবল তাদের সদস্যদের কাছ থেকে সময় এবং তহবিল আদায় করে, সেখানে অ্যাক্টিভ ক্লাব সদস্যদের কিছু নির্দিষ্ট সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেয়। যখন এই সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক সুবিধাগুলো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও পবিত্র মূল্যবোধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া ঘটায়, তখন তারা সংঘবদ্ধ পদক্ষেপের জন্য তা শক্তিশালী অনুঘটক হয়ে উঠতে পারে। যা রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে শুরু করে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের দিকে চলে যেতে পারে।

অ্যাক্টিভ ক্লাবগুলো প্রকাশ্যে তাদের আমেরিকান প্রতিষ্ঠাতা রুন্ডোর প্রশংসা করে। রুন্ডো ২০১৯ সালে ভার্জিনিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়ায় সহিংস সমাবেশে উসকানি দেওয়ার জন্য কারাগারে বন্দি। অ্যাক্টিভ ক্লাবগুলো ঐতিহ্যবাহী শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী এবং প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের মতো গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে, যারা অতীতে বিভিন্ন সহিংসতায় সক্রিয় ছিল। কানাডায়, অ্যাক্টিভ ক্লাবের সদস্যরা একই সঙ্গে অ্যাটমওয়াফেনসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য বলে জানা যায়।

অতীতে অ্যাক্টিভ ক্লাবের সদস্যরা LGBTQ তহবিল সংগ্রহকারীদের ও ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারের বিক্ষোভকে ব্যাহত করার চেষ্টা চালিয়েছে। ক্লাবগুলো সম্প্রতি প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে বেশি মনোনিবেশ করেছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে টেনেসির ফ্র্যাঙ্কলিনের অ্যাক্টিভ ক্লাব সদস্যরা মেয়র নির্বাচনের বিতর্কের সময় শক্তি প্রদর্শন করে, যা জনসাধারণের মধ্যে বিরক্তি তৈরি করে। যদিও অ্যাক্টিভ ক্লাব দাবি করেছিল যে,  তারা শুধু প্রার্থীর সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। বিতর্ক, ভোটকেন্দ্র এবং সরকারি ভবনসমূহে তাদের উপস্থিতি একটি হিমশীতল প্রভাব তৈরি করতে পারে। ফলে ভোটাররা অনিরাপদ বোধ করবে এবং গণতান্ত্রিক সুব্যবস্থার অত্যাবশ্যক বিষয়াদিতে যোগদানের ক্ষেত্রে- এমনকি ভোট প্রদানের ক্ষেত্রেও তারা আগ্রহ হারাতে পারে বা বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে।

ফলে, বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বছরের শেষের দিকে অশান্ত নির্বাচনের দিকে ধাবিত হওয়ার কারণে অ্যাক্টিভ ক্লাবগুলো ভোটকেন্দ্র, বিতর্ক অনুষ্ঠান ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্য প্রস্তুত। তারা যুদ্ধংদেহী মিলিশিয়া বা ‘ব্রাউনশার্ট’ সংস্থার মতো কাজ করতে পারে এমন ঝুঁকির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বেশিরভাগ মার্কিন রাজ্যে বিস্তৃত অ্যাক্টিভ ক্লাবের পৃথক পৃথক শাখাগুলোর সঙ্গে নেটওয়ার্কটির একটি বিস্তৃত ভৌগোলিক নকশাও রয়েছে, যা সারা দেশে ভোটারদের ভয় দেখানোসহ নির্বাচনে ব্যাঘাত তৈরির পরিকল্পনার সম্ভাবনাই বাড়িয়ে তুলছে।

কিছু অ্যাক্টিভ ক্লাবের সদস্যরা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন ব্যর্থ মেসিয়া হিসেবে দেখেন। অন্যরা সম্ভবত ট্রাম্পের প্রচারণাকে এখনো তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্যসমূহকে এগিয়ে নেওয়ার সেরা সুযোগ হিসেবে দেখে। ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান চাঞ্চল্যকর ও হিংসাত্মক মন্তব্য তো রয়েছেই। পাশাপশি গত ৬ জানুয়ারির ভাষণে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে বিদ্রোহী ও দাঙ্গাকারীদের ক্ষমা করার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছেন, তাতে এ ঝুঁকি আরও বেড়েছে যে, অ্যাক্টিভ ক্লাবের মতো উগ্র ডানপন্থি দলগুলো দ্রুত সহিংস পদক্ষেপ নিতে সাহস সঞ্চয় করবে। অন্তত মার্কিন নির্বাচন পর্যন্ত।

আমরা যখন ২০২৪ সালে বিশ্ব জুড়ে বড় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তখন উগ্র ডানপন্থি চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর দ্রুত বিস্তার ঝুঁকি তৈরি করছে। অতিসত্বর এ হুমকিসমূহ মোকাবিলা করার জন্য উচিত  ট্রাস্ট ও সেইফটি দলগুলোকে এগিয়ে নিয়ে আসা। যাতে চরমপন্থিরা ব্যক্তিগত প্ল্যাটফর্মগুলোকে সংগঠিত করে লোকবল বাড়াতে ও ঘৃণাপূর্ণ প্রচারণা ছড়াতে না পারে। অবশ্যই আইন প্রয়োগকারী এবং সামরিক বাহিনীকে এমনভাবে পরিকল্পনা নিতে হবে, যাতে করে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পদগুলো চরমপন্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত কিংবা চরমপন্থি মনোভাবসম্পন্ন ব্যক্তিদের দখলে চলে না যায়।

দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে, যাতে মানুষকে অ্যাক্টিভ ক্লাবের মতো চরমপন্থি গোষ্ঠীতে যোগদান করা থেকে বিরত রাখা যায়। কারণ, ভোটাধিকার ছাড়াও বিভিন্ন বঞ্চনায় থাকা মানুষ এ ধরনের সংগঠনের সহানুভূতি পেয়ে ভুল রাজনীতির শিকারে পরিণত হয়। অর্থনৈতিক কারণগুলোর মোকাবিলা শুরুর জন্য উচ্চতর দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণের জন্য অতিরিক্ত তহবিল প্রয়োজন হবে। কমিউনিটি স্পোর্টস, কোডিং ওয়ার্কশপ এবং উদ্যোক্তা প্রোগ্রামগুলো এক্ষেত্রে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। এটি নিশ্চিত যে, প্রস্তাবিত প্রক্রিয়াটি ধীর ও ব্যয়বহুল। কিন্তু এই অন্তর্নিহিত সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ না নিলে অ্যাক্টিভ ক্লাবের মতো আন্দোলনগুলো ক্রমাগত বাড়তে থাকবে এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু তথা সংখ্যালঘুদের ও সামগ্রিকভাবে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উভয়েরই উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সাধন করবে।

আলজাজিরা থেকে ভাষান্তর : মোহাম্মাদ ফজলে রাব্বি

লেখক: কিংস কলেজ লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব র‌্যাডিকেলাইজেশনের অ্যাসোসিয়েট ফেলো

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত