চলতি বছর হজসেবা কার্যক্রম ভালোভাবে সম্পন্ন করতে এবং হজযাত্রীদের সেবা দিতে ‘হজ টাস্কফোর্স-২০২৪’ গঠন করা হয়েছে। গেল সপ্তাহে অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্সের সভায় হজযাত্রীদের সেবায় একগুচ্ছ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সবের সিংহভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, হজযাত্রী নিয়ে এ বছরের প্রথম ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দর ছেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট বিজি ৩৩০১ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। প্রথম ফ্লাইটে যাত্রী ছিল ৪১৯ জন।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে হজ কার্যক্রম সফল করতে ‘হজ টাস্কফোর্স-২০২৪’ গঠন করা হয়। টাস্কফোর্স কমিটির আহ্বায়ক করা হয় মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এস. এম. লাবলুর রহমানকে। এই বছর সম্মানিত হজযাত্রীদের গমন ও প্রত্যাগমন নির্বিঘœ করার লক্ষ্যে সভার আয়োজন করা হয়েছে। হজ চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশের কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন, তবে এ বছর এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬২ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮০ হাজার ৬৯৫ জনসহ সর্বমোট ৮৫ হাজার ২৫৭ জন হজযাত্রী হজে যাবেন। তাছাড়া মোনাজ্জেম প্রায় ৩০০ জন এবং বিভিন্ন টিমের সদস্য ১২৭০ জনসহ মোট ৮৬ হাজার ৮২৭ জন যাবেন।
টাস্কফোর্স সূত্রে জানা গেছে, হজযাত্রীদের যথাসময়ে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য ফ্লাইট সিডিউল প্রণয়ন ও চূড়ান্ত করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়া এয়ারলাইনস ও ফ্লাইন্যাস এয়ারলাইনসকে পরস্পর সমন্বয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি অংশের অৎৎরাধষ ওসসরমৎধঃরড়হ সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাহী পরিচালক (হশাআবি) ও সৌদিয়া এয়ারলাইনস। হজযাত্রীদের জন্য ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ারলাইনসগুলো। হজযাত্রীদের সুবিধার্থে এয়ারলাইনসগুলো হজযাত্রীর টিকিট হজ এজেন্সির কাছে পাঠিয়ে দেবে। বিমানবন্দরে ২টি বোর্ডিং ব্রিজ স্থাপন করা হবে। হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা ও হজক্যাম্পের আশপাশের এলাকায় অবস্থিত হোটেল/রেস্তোরাঁসমূহে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। হজক্যাম্প থেকে বিমানবন্দরে হজযাত্রীদের যাতায়াতের জন্য যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন পদ্ধতিসহ হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন পরিবর্তন, সময়সূচিসহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে হজযাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিতকরণের লক্ষ্যে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হজযাত্রীদের সেবা দিতে চেয়ার, ট্রলি, কিউ বেস্টসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি এ বছর বেবিচক সরবরাহ করবে, তবে আগামী বছর থেকে হজ অফিস, আশকোনা এসব সামগ্রী ক্রয়/সংগ্রহপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করবে। এ বছর হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) ১০০টি ট্রলি হজ অফিস, আশকোনা, ঢাকাকে সরবরাহ করবে। পবিত্র হজ পালন শেষে প্রত্যেক হজযাত্রীকে ফেরার সময় বিমানবন্দরে জমজমের পানি বিতরণ করা হবে। হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। মশা নিধন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধকল্পে হজক্যাম্প ও তার আশপাশের এলাকাসমূহ এবং বিমানবন্দরে মশা নিধনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
বিমানবন্দরে পুরুষ ও মহিলা হজযাত্রীদের নামাজ পড়ার জন্য ২টি আলাদা জায়গা, পানি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং সাবান ইত্যাদি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। হজপালন শেষে নির্বিঘেœ বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় হাজিদের সহযোগিতা করার জন্য ন্যূনতম ৩০ জন করে তিন শিফটে ৯০ জন কিংবা প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্কাউট সদস্য নিয়োগ করা হবে। নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি যেমন স্বর্ণ/সিগারেট/ড্রিংকস (মদ) ইত্যাদি, হাজিরা প্রত্যাবর্তনের সময় যেন বহন না করেন সে ব্যাপারে হজযাত্রীদের অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৪১৯ যাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরবে : বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ফ্লাইটিট সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ বিমানবন্দরের হজ টার্মিনালে পৌঁছায়।
সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের স্বাগত জানান। সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক ও বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর মো. জহিরুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের স্বাগত জানাতে আরও উপস্থিত ছিলেন সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার আয়েত আল-খোয়ামি, জেদ্দা বিমানবন্দরের সিইও ইঞ্জিনিয়ার মাজেন জাওয়াহার, সৌদি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল ফয়সাল আল রাজি, হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহমান ও অন্য কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী হজযাত্রীদের শুভকামনা জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাস, কনস্যুলেট ও বাংলাদেশ হজ মিশন সব সময় হজযাত্রীদের পাশে রয়েছে বলে আশ্বাস দেন। বাংলাদেশি হজযাত্রীরা বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘রোড টু মক্কা ইনিশিয়েটিভের’ আওতায় এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৮৫ হাজার ২৫৭ জন পবিত্র হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করেছেন।
