তারার সঙ্গে বৃষ্টিরও ফেরা

আপডেট : ১০ মে ২০২৪, ০৫:২২ এএম

সাকিব আল হাসান এবং মোস্তাফিজুর রহমান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে পরিচিত ও ব্যস্ত দুই তারকা ফিরেছেন জাতীয় দলে। জাতীয় দলও চট্টগ্রামেই সিরিজ জয়ের মিশন সফল করে ফিরেছে ঢাকায়, সিরিজের বাকি ২ ম্যাচ খেলতে। তীব্র তাপপ্রবাহের শেষে রাজধানীর আকাশে ফিরেছে মেঘমালাও, তাতে বৃষ্টির আহ্বান। আজ সন্ধ্যায় সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে, ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই টাইম-আউটের ঘটনার ম্যাচের পর ফের রঙিন জার্সিতে জাতীয় দলে সাকিব। আইপিএল থেকে ১৪ উইকেট নিয়ে ফেরা মোস্তাফিজেরও হলুদ ছেড়ে লাল-সবুজে রঙিন হওয়ার ম্যাচ। সব উপলক্ষেই জল ঢেলে দিতে পারে প্রকৃতি।

অস্বস্তিকর গরমটা নেই দিনকয়েক হলো। তাপপ্রবাহ কেটেছে। বৃষ্টির আনাগোনাও বেড়েছে। জনজীবনে স্বস্তি এলেও ক্রিকেট মাঠে অস্বস্তির কারণ। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে আংশিক সূর্যালোকিত থেকে মেঘলা আকাশ এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হবে শুক্রবারে। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচের ভাগ্যে কী আছে সেটা অবশ্য বিধাতাই জানেন! তবে অনুশীলনের কমতি রাখেনি কোনো দলই। সাকিব দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সবই করেছেন। ঢাকা লিগে ৪৯, ১০৭ আর ০; যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর এই তার ক্রিকেট মাঠের স্কোরকার্ড। মাঠের বাইরে শো-রুম উদ্বোধন, শুটিং, নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন, সংসদ অধিবেশনে যোগদান এসবের হিসাব নিলে ক্লান্তি জেঁকে বসার কথা। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে সাকিবকে কখনোই ক্লান্ত দেখা যায় না। সাকিব, সৌম্য এবং মোস্তাফিজ দলে আসায় ব্যাটিং এবং বোলিং বিভাগে আরেকটু ভারসাম্য ফিরল কারণ সাকিব ও সৌম্য দুজনেই বোলিংটাও করেন। মোস্তাফিজের ফেরা নিয়ে তাসকিন আনন্দিত, ‘আইপিএলে অনেক ভালো করেছে মোস্তাফিজ। যেহেতু ও এসেছে... আমার যতটুকু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারছি, ওকে আনার কারণটা হচ্ছে, দলের পরিকল্পনা ও কালচারের ক্ষেত্রে অবগত থেকে (বিশ্বকাপে) যেতে পারে। এর সঙ্গে কয়েকটা দিন বিশ্রামের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কারণ ও আমাদের মূল বোলারদের একজন। এটাই আর কি। অবশ্যই ওর ভালো আইপিএল গেছে এবং সেখান থেকে অনেক অভিজ্ঞতা নিয়েছে। আর আমরা যদি সবাই ফিট থাকি, ভালো ছন্দে থাকি তাহলে বোলিং থেকে ভালো কিছুই হবে।’

জিম্বাবুয়ে নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়েই মগ্ন। তারা অনুশীলনে এলেও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি কেউ। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা আগেই নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামে। খুব সম্ভবত বুঝতে পারছেন, জিম্বাবুয়ে আসলে ছায়া প্রতিপক্ষ। মূল লক্ষ্য তো বিশ্বকাপ যেটা তাসকিনের কথাতেই স্পষ্ট, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য তো বিশ্বকাপ-কেন্দ্রিক। এখন দেখেন আমরা যারা ক্রিকেটার আছি, আমাদের কাজ কিন্তু যেখানেই খেলতে নামি সর্বোচ্চ দিয়ে ভালো খেলার চেষ্টা করা। অনেক কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কন্ডিশন, প্রতিপক্ষ, কার সঙ্গে খেলছি, কখন খেলছি। আমরা যারা খেলোয়াড়, যখনই যেখানে খেলতে নামি সেরাটা দিয়ে... এমনকি বিপিএলেও যখন খেলতে নামি ভালো খেলারই চেষ্টা করি। মূল লক্ষ্য তো বিশ্বকাপ-কেন্দ্রিক। দল হিসেবে এবং যে যার জায়গা থেকে যদি ৫-১০ শতাংশ উন্নতি নিয়ে বিশ্বকাপে ঢুকতে পারি, ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং আমাদের শুরুটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত