অনুশীলন-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনের সময়টা বৃহস্পতিবার দুপুর হলেও বুধবার সন্ধ্যা আর রাতের স্মৃতিটা তখনো সবার মগজ থেকে মুছে যায়নি। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ব্যাটিং তা-ব কিংবা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের নাটকীয় জয়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে তাসকিন আহমেদকে এসব নিয়েই অনেক উত্তর দিতে হলো। ৫ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ৩ ম্যাচ জিতে সিরিজ পকেটে ভরেছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ যতটা না চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারছে তার চেয়ে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইটাই বেশি জরুরি বলেই জরুরি অবস্থার মতো থমথমে ভাব নেই সিরিজের মাঝপথে। তাসকিনকে পাওয়া গেল হাসিখুশি মেজাজেই। জানালেন আইপিএলে রানবন্যা হলেও বিশ্বকাপে তেমনটা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ কন্ডিশনের পার্থক্য।
২০ ওভারের ম্যাচে আড়াইশোর বেশি রান হচ্ছে, সেটা তাড়া করে জেতার ঘটনাও ঘটছে। আগের রাতেই সানরাইজার্স ১৬৬ রান তাড়া করে জিতেছে ১০ ওভারের ভেতরে। এই সব অঙ্ক মাথায় রেখে বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে এমন প্রশ্নে তাসকিনের উত্তর, ‘আইপিএলের কন্ডিশন আর এখানকার (বাংলাদেশ) কন্ডিশন আলাদা। সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষও আলাদা। আইপিএলের প্রতিটা ম্যাচই হাই-স্কোরিং হয়, উইকেটের ধরনটাও আলাদা, আর বাংলাদেশে হাই-স্কোরিং ম্যাচ কম হয়। জিম্বাবুয়ে প্রতিপক্ষ হলেও আন্তর্জাতিক সিরিজ, আমরা যারাই খেলছি সবাই শতভাগ দিয়েই চেষ্টা করছি। আইপিএলের মতো না, তবে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলেই জিততে হচ্ছে।’
দেশে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়টা ফাঁপা আত্মবিশ্বাসের বুমেরাং হবে কি না ২০২১ সালের মতো, তাসকিন জবাবে বললেন, ‘কন্ডিশন কেমন হবে আমরা জানি না, বেশিরভাগ ম্যাচই খেলা হবে ড্রপ-ইন উইকেটে। আমাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়রই যুক্তরাষ্ট্রে খেলার অভিজ্ঞতা কম। নতুন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, তিনটা ম্যাচ আমাদের ইউএসএর সঙ্গে খেলা আছে যেটা আমাদের সহায়তা করবে।’
আইপিএলের রানবন্যা হবে না বিশ্বকাপে, এই আশা তাসকিনের কারণ ড্রপ-ইন উইকেট আর অচেনা কন্ডিশন। তবে দেশের মাটিতে দলের পারফরম্যান্সের এমন করুণ দশা কেন সেটা জানতে চাইলে তাসকিনের ব্যাখ্যা, ‘আসলে যতই কথা হচ্ছে জিম্বাবুয়ে নিয়ে, হারলে কিন্তু সবাই বলবে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে হেরে গেছে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের অনেক কথাই শুনতে হয়। কিন্তু যখন খেলতে নামি, যে প্রতিপক্ষই হোক সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করি। হ্যাঁ, কখনো ভালো বা কখনো খারাপ হয়। কিন্তু এই উন্নতির ধারাটা রেখে সবাই খেলার চেষ্টা করি। সবার মধ্যে এটাই লক্ষ্য বিশ্বকাপে কীভাবে ভালো করা যায়। এই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছি, অনুশীলন করছি।’ বোলাররা ভালো করলেও ভয় ধরাচ্ছে ব্যাটিং, যেটা চিন্তায় ফেলেছে বিসিবি প্রধানকেও। তাসকিনের আশা, আসছে দিনগুলোতে কাটবে সে দশা।
তাসকিন ৪ ওভারে ৪০ অর্থাৎ ওভারপ্রতি ১০ রান করে দিলেও সন্তুষ্ট। ২০ ওভারের খেলায় এই রানরেট মানে ইনিংসের মোট রান ২০০। ঘুরে ফিরে অবশ্য সেই একই প্রসঙ্গে গিয়েই ভয়, তাসকিনের ওভারে যদি প্রতিপক্ষ গড়ে ১০ রান করে নেয় তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কি পারবেন প্রতিপক্ষের সেরা বোলারের ৪ ওভারে ৪০ রান তুলতে?
