চাইল্ড অ্যান্ড এইজ কেয়ার আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিওতে ৯০০ মরদেহ দাফনের তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু তিনি মাত্র ১৩৫ জনের মরদেহ দাফন করেছেন বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে। ডিবি বলছে, টাকা হাতাতেই ভিডিওর মাধ্যমে এমন তথ্য ছড়িয়ে মানবিক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন মিল্টন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবির কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, মানব পাচার ও জালিয়াতিসহ মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। তাকে দুই মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মিল্টনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই স্বীকার করেছেন তিনি।
হারুন অর রশীদ বলেন, ৯০০ লাশ দাফনের বিষয়ে রিমান্ডে মিল্টন বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও লাইভে এসে তিনি টাকার লোভে এই তথ্য ছড়িয়েছেন। তিনি মাত্র ১৩৫টি মরদেহ দাফন করেছেন। তার আশ্রমে থাকা অনাথ শিশু ও অসুস্থ মানুষদের দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে মানুষের বিবেকে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা করতেন। তার ভিডিও দেখে অনেক মানবিক মানুষ তাকে টাকা পাঠাতেন। তার আশ্রমে কোনো চিকিৎসক না রেখে মিল্টন নিজেই অপারেশন করতেন। অনেক সময় হাত-পা কেটে ফেলতেন। এর ফলে রোগীরা আর্তচিৎকার করতেন আর এতেই মাদকাসক্ত মিল্টন পৈশাচিক আনন্দ পেতেন।
এক প্রশ্নে ডিবিপ্রধান বলেন, মিল্টন বারবার বলেছেন ৯০০ লোক মারা গেছেন, আবার বলছেন ১৩৫ জন মারা গেছেন। যারা মারা গেছেন তাদের তো স্বজন ছিল। তার উচিত ছিল স্বজন ও ঠিকানা খুঁজে বের করা। বাবা-মা বেঁচে আছে কি না সেটা রেজিস্টারে লেখা দরকার ছিল। এটা না মেনে, থানায় জিডি না করে, অসহায় মানুষদের পরিবার-স্বজনদের না জানিয়ে কবর দেওয়া ভয়াবহ অপরাধ। সবকিছুই আমরা তদন্তে আনব।
