বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘খোলা আকাশের নিচে ঘুমানো ছাড়া উপায় নেই’

আপডেট : ১০ মে ২০২৪, ০৯:১৮ পিএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়েছে গাছপালা। অনেক জায়গায় বিদ্যুতের পিলার ভেঙে পড়েছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শুরু হয়ে ঘণ্টাব্যাপী চলে কালবৈশাখী ঝড়ের এ তাণ্ডব। শুক্রবার দুপুর ৩টার সময়ও বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গার প্রায় ৩০টি গ্রাম বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঝড়ে কোন এলাকায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। 

জানা যায়, প্রায় ঘণ্টাব্যাপি কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার প্রায় ১২টি গ্রামের ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুতের পিলার ভেঙে পড়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শেখর ইউনিয়নের সহস্রাইল বাজারের ১২টি ঘর, দরিসহস্রাইল গ্রামের মোশারফ ফকির, সানোয়ার ফকির, সুমন ফকির, এনায়েত মোল্যা, মিজান মোল্যা, লিয়াকত মোল্যা, সামিউল শেখ, চাপখন্ড গ্রামের পরিমল বিশ্বাস, বিল্লাল শেখ, কবির খাঁ, হাসেম মোল্যা, লিয়াকত মোল্যার বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া রূপাপাত ইউনিয়নের কাটাগড় গ্রাম, কুমরাইল, কলিমাঝি, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া, জয়পাশা, তামারহাজি, চতুল ইউনিয়নের বড়গাঁ বাজারের কয়েকটি ঘর ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার টাবনি, ফলিয়া, বারাংকুলা ও চরডাঙ্গা এলাকায় ঘরবাড়িসহ গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইস্রাফিল মোল্যা বলেন, সহস্রাইল বাজারের ১২টি ঘর উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বাজারের অনেক ঘরে ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজসহ অন্যান্য মালামাল ছিল। শেখর ও রূপাপাত ইউনিয়নের বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো গাছে টিন আটকে রয়েছে এবং বিদ্যুতের পিলার ভেঙ্গে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে গ্রামগুলো।

চাপখন্ড গ্রামের গৃহিণী আলেয়া বেগম বলেন, ঝড়ে আমার বাড়ির তিনটি ঘরই তছনছ করে গেছে। বাড়িতে এমন একটি ঘরও নেই যেখানে আমরা ঘুমাবো। খোলা আকাশের নিচে ঘুমানো ছাড়া উপায় নেই। ঘরে থাকা চাল, ডালসহ মালামাল ব্যবহারের মত কিছুই নাই।

সহস্রাইল বাজারের বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, বাজারের ১০-১২টি ঘর একেবারেই ভেঙে গেছে। ঘরগুলোর চালের টিন ঝড়ে উড়ে গিয়ে গাছে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের পাট ও পেঁয়াজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

শুক্রবার বিকেলে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত