আলোচিত ও বিতর্কিত মিল্টন সমাদ্দারের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মো. সেলিম মিয়া (৪০) নামে একজনকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এসেছে পরিবার। মানসিক ভারসাম্যহীন সেলিম মিয়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের বৃপাচাশী গ্রামের হাসিম উদ্দিনের ছেলে। গত বুধবার তাকে রাজধানীর মিরপুরে মিল্টন সমাদ্দারের ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে আনা হয়।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেলিমকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে ঈশ্বরগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, উদ্ধারের পর সেলিমের পেটে কাটাছেঁড়ার দাগ পাওয়া গেছে। তাদের সন্দেহ, মিল্টন সমাদ্দার সেলিমের শরীর থেকে কিডনি খুলে নিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে চিকিৎসককে দেখানো হবে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেলিম মানসিক ভারসাম্যহীন। প্রায় ছয় মাস আগে নিখোঁজ হন। গণমাধ্যমে মিল্টন সমাদ্দারের আশ্রয়কেন্দ্রের খবর জানতে পেরে সেখানে গিয়ে সেলিমকে শনাক্ত করেন তার মা রাবিয়া খাতুন। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হয়।
সেলিমের মা রাবিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল, কিন্তু তার শরীরে কোনো দাগ ছিল না। পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে নির্যাতনের পর তার কোমরের দুই পাশে কাটাছেঁড়া করে কিডনি খুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’
গতকাল শনিবার দুপুরে সেলিম মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, লাল কাপড় পরিহিত কাউকে দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠছেন সেলিম। ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না। কোমরের দুই পাশে কাটাছেঁড়ার দাগ রয়েছে। দাগগুলো এখনো শুকায়নি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল বিকেলে সেলিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা।
সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার দুইটা মেয়ে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। পাগল হলেও তিনি আমার স্বামী। তার যে অবস্থা করেছে মনে হয় আমার মেয়েরা এতিম হয়ে যাবে।’
বড়হিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক ভূঞা মিলন বলেন, ‘এমন একটি খবর শুনে অসুস্থ সেলিমকে দেখতে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিবারকে বলে এসেছি, দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে। ডাক্তারি পরীক্ষার পর কিডনি খুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মাজেদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে সেলিমের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিবারের লোকজনকে তার চিকিৎসা ও কিছু পরীক্ষা করার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার পর বোঝা যাবে ঘটনাটা কী। তারপর অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
