সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিএসএমএমইউয়ে প্রশ্ন ফাঁস

নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কম্পিউটার থেকে প্রশ্ন নেন দুই শিক্ষক

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ০৮:৫০ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৬৮ মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিতে গত ২০ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষা হয়। এ পরীক্ষার জন্য কম্পিউটারে সংরক্ষিত প্রশ্ন চুরির অভিযোগ উঠেছে মডারেশন কমিটির দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তারা পেনড্রাইভের মাধ্যমে প্রশ্ন চুরি করে তা আবেদনকারীদের সরবরাহ করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা টাকা।

দেশ রূপান্তরের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল ইসলাম ও কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফয়সাল ইবনে কবির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন মডারেশন কক্ষে অবস্থান করছেন। বেলা ২টা ১৩ মিনিটে ডা. জাহিদুল ইসলাম তার পকেট থেকে পেনড্রাইভ বের করে কম্পিউটারে ঢুকিয়ে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন কপি করেন। তখন কক্ষে তারা দুজন ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। ২টা ১৮ মিনিটে কম্পিউটার থেকে পেনড্রাইভ বের করে শার্টের পকেটে ঢুকিয়ে নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার মডারেশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা মডারেশন কক্ষে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা প্রভৃতি ডিভাইস নিয়ে ঢুকতে পারেন না। কক্ষে প্রবেশের আগে তাদের দেহ তল্লাশি করার কথা। ওই কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ জালিয়াতির মতো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই ডা. জাহিদুল ইসলাম ও ডা. ফয়সাল পেনড্রাইভ নিয়ে ঢুকেছিলেন এবং বেরিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফার্মাকোলজির সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত কার্ডিওলজির সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফয়সাল ইবনে কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়মে জড়িত নই; আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’

৬৮ মেডিকেল অফিসার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটা অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ২৯ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. একেএম সালেককে সদস্য সচিব করে তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ঘটনা তদন্তে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছি। বিবদমান পক্ষগুলো একে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। তদন্ত শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত