শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আইপিএল প্লে অফ : কোন দলকে কী করতে হবে

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ০৬:৩৮ পিএম

ধীরে ধীরে শেষ সময়ে চলে আসছে আইপিএল। প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফ পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। রাজস্থান রয়্যালসও খুব একটা দূরে নেই। নিজেদের পরের তিন ম্যাচ থেকে এক ম্যাচে জয় পেলেই তারা চলে যাবে শেষ চারে। কিন্তু পরের দুই স্পটের জন্য চলছে জোর লড়াই। আসরের শুরুতে নাজুক অবস্থায় থাকা রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও আছে প্লে-অফের দৌড়ে।

এক কথায় অসাধারণ, অবিশ্বাস্য। এ যেন নিজের ছাই থেকেই ফিনিক্স পাখির পুনরুত্থান। টুর্নামেন্টে প্রথম ৮ ম্যাচে বিরাট কোহলি-ফাফ ডু প্লেসিদের র‍য়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু জয় পেয়েছিল মোটে ১ ম্যাচে। কিন্তু এরপরেই বেঙ্গালুরু দেখালো অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। পরের ৫ ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে কোহলিরা। প্লে-অফের স্বপ্নটাও বাঁচিয়ে রেখেছে ভালোভাবেই।

লিগ পর্বে বাকি আটটি ম্যাচ। তবে প্লে–অফের চারটি জায়গার মধ্যে নিশ্চিত এখন পর্যন্ত একটি—সবার আগে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরই মধ্যে বাদ পড়ে গেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও পাঞ্জাব কিংস। খাতা–কলমে বাকি তিনটি জায়গা নেওয়ার সম্ভাবনা আছে সাত দলের। তাদের সমীকরণগুলো এমন—

রাজস্থান রয়্যালস

১২ ম্যাচ, ১৬ পয়েন্ট, ০.৩৪৯ নেট রানরেট

ম্যাচ বাকি—পাঞ্জাব, কলকাতা

সবার আগে প্লে–অফ নিশ্চিত করবে রাজস্থান, একটা সময় মনে হচ্ছিল এমন। তবে টানা তিনটি হারে এখনো সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি সঞ্জু স্যামসনের দল। কলকাতা ছাড়াও খাতা–কলমে আরও তিনটি দলের রাজস্থানের সমান ১৬ বা এর বেশি পয়েন্ট হতে পারে। তবে এর মধ্যে একটি দল লক্ষ্ণৌ সুপারজায়ান্টস, ১২ ম্যাচ শেষে যাদের নেট রানরেট -০.৭৬৯। ফলে রাজস্থান যদি আর কোনো ম্যাচ না-ও জেতে, লক্ষ্ণৌ বাকি দুটি ম্যাচ জিতলেও নেট রানরেটে রাজস্থানকে (০.৩৪৯) টপকে যাবে, সে সম্ভাবনা একেবারেই কম। সেদিক থেকে প্লে–অফে এক পা দিয়েই রেখেছে রাজস্থান। অবশ্য শীর্ষ দুইয়ে থেকে লিগ পর্ব শেষ করতে গেলে দু-একটি জয় দরকার তাদের।

চেন্নাই সুপার কিংস

১৩ ম্যাচ, ১৪ পয়েন্ট, ০.৫২৮ নেট রানরেট

ম্যাচ বাকি—বেঙ্গালুরু

রাজস্থানের বিপক্ষে জয়ে প্লে–অফের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে চেন্নাইয়ের। কিন্তু সেটি নিশ্চিত নয় কোনোভাবেই। বেঙ্গালুরুর সঙ্গে হারলে তারা আটকে যাবে ১৪ পয়েন্টে। সে ক্ষেত্রে কলকাতা, রাজস্থান, হায়দরাবাদ ও লক্ষ্ণৌ—চারটি দল ছাড়িয়ে যেতে পারবে তাদের। অবশ্য বেঙ্গালুরুকে হারাতে পারলে নেট রানরেটের (০.৫২৮) সৌজন্যে চেন্নাই এগিয়ে যাবে।

বেঙ্গালুরুর সঙ্গে হারলেও প্লে–অফে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে তাদের। কিন্তু সে ক্ষেত্রে হায়দরাবাদ বা লক্ষ্ণৌর যেকোনো একটির পয়েন্ট ১৬-এর কম হতে হবে। অবশ্য বেঙ্গালুরুর সঙ্গে হারলেও ব্যবধানটি বড় হওয়া যাবে না, যাতে অন্তত তাদের চেয়ে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকতে পারে। হায়দরাবাদ ও লক্ষ্ণৌ দুই দলেরই যদি পয়েন্ট ১৪-এর বেশি না হয়, তাহলে চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু দুই দলই ১৪ পয়েন্ট নিয়ে প্লে–অফে যেতে পারে।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ

১২ ম্যাচ, ১৪ পয়েন্ট, ০.৪০৬ নেট রানরেট

ম্যাচ বাকি—গুজরাট, পাঞ্জাব

নেট রানরেট বেশ ভালো বলে বাকি দুই ম্যাচের একটি জিতলেই প্লে–অফ নিশ্চিত হওয়ার কথা হায়দরাবাদের। দুটিই জিতলে শীর্ষ দুইয়ের লড়াইয়েও থাকবে তারা। অবশ্য পরের দুই ম্যাচই হারলে আবার বিপদে পড়ে যাবে তারা, যদি চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু দুই দলই রানরেটে তাদের চেয়ে এগিয়ে যায়।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

১৩ ম্যাচ, ১২ পয়েন্ট, ০.৩৮৭ নেট রানরেট

বাকি ম্যাচ—চেন্নাই

টানা ছয় ম্যাচ হেরে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল বেঙ্গালুরু। সেখান থেকে টানা পাঁচ জয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি। চেন্নাইয়ের সঙ্গে পরের ম্যাচটি জিতলে প্লে–অফের সম্ভাবনাও থাকবে তাদের। তবে সে ক্ষেত্রে যদি-কিন্তু আছে। চেন্নাইকে হারালে বেঙ্গালুরুর পয়েন্ট হবে ১৪, কিন্তু হায়দরাবাদ ও লক্ষ্ণৌর সামনে ১৬ পয়েন্টের সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে টানা ছয় ম্যাচ জিতেও বিদায় নিতে হবে বেঙ্গালুরুকে।

অবশ্য চেন্নাইয়ের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুর ম্যাচটি ১৮ মে। এর আগে সমীকরণটা আরেকটু স্পষ্ট হবে তাদের। বাকি ফলগুলো পক্ষে এলে নেট রানরেটের সমীকরণটার সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা নিয়ে নামতে পারবে তারা, মানে সে ক্ষেত্রে টিকে থাকতে গেলে কত বড় ব্যবধানে জিততে হবে তাদের। 

দিল্লি ক্যাপিটালস

১৩ ম্যাচ, ১২ পয়েন্ট, -০.৪৮২

বাকি ম্যাচ—লক্ষ্ণৌ

বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৪৭ রানে হেরে প্লে–অফের পথে বড় ধাক্কাই খেয়েছে দিল্লি। বড় ব্যবধানে হার নেট রানরেটেরও বড় ক্ষতি করেছে। শেষ ম্যাচে লক্ষ্ণৌকে হারালেও ১৪ পয়েন্ট হবে তাদের, কিন্তু সে ম্যাচের আগে তারা চেন্নাই, হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরু—তিন দলের চেয়েই নেট রানরেটে পিছিয়ে।

প্লে–অফে পৌঁছাতে শুধু লক্ষ্ণৌকে হারালে চলবে না দিল্লির। আশা করতে হবে—হায়দরাবাদ যাতে শেষ দুই ম্যাচ হারে বড় ব্যবধানে, বেঙ্গালুরু হারে চেন্নাইয়ের কাছে, লক্ষ্ণৌ বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে একটির বেশি না জেতে। তবে সেসবও ঠিক যথেষ্ট না-ও হতে পারে তাদের। এবারের আইপিএল দলটির পথচলা লিগ পর্বেই শেষ, সেটি অনেকটা নিশ্চিত।

লক্ষ্ণৌ সুপারজায়ান্টস

১২ ম্যাচ, ১২ পয়েন্ট, -০.৭৬৯ নেট রানরেট

ম্যাচ বাকি—দিল্লি, মুম্বাই

বাকি দুই ম্যাচ জিতলে ১৬ পয়েন্ট হবে লক্ষ্ণৌর, কিন্তু নেট রানরেট বড় বাধা। চেন্নাই ও হায়দরাবাদেরও সম্ভাবনা আছে ১৬ পয়েন্ট করে পাওয়ার, যে দুটি দলের নেট রানরেট লক্ষ্ণৌর চেয়ে বেশ ভালো। অন্যদিকে রাজস্থান পরের দুটি ম্যাচ হারলেও লক্ষ্ণৌর নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম।

গুজরাট টাইটানস

১২ ম্যাচ, ১০  পয়েন্ট, -১.০৬৩

বাকি ম্যাচ—কলকাতা, হায়দরাবাদ

দুই ম্যাচ জিতলে ১৪ পয়েন্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে ঠিকই। কিন্তু বাজে নেট রানরেটের কারণে গুজরাট টিকে আছে শুধু খাতা-কলমেই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত