মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিএসএমএমইউতে তুঘলকি নিয়োগ!

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ০৭:৫৩ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৬৮ মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিতে গত ২০ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষা হয়। এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন থেকে শুরু করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন সবকিছুতেই ঘটেছে অনিয়ম। লিখিত পরীক্ষার আগেই প্রশ্নফাঁস ও ভাইভার আগেই মিষ্টিমুখ করার ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয় নিয়োগ দুর্নীতি করতে পরীক্ষা কমিটি না করে নিয়োগ কমিটিই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। 

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ন প্রার্থীদের মধ্যে থেকে যাদের চাকরি আগেই চূড়ান্ত করা হয় তাদের নিজ কক্ষে ডেকে মিষ্টিমুখ করান সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. রসুল আমিন। নিয়োগ কমিটিতে অধ্যাপক ও ডিনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের একান্ত সচিব (পিএস)-২ দেবাশীষ বৈরাগী সার্বিক পরীক্ষা তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেন। নিয়োগ পরীক্ষার নানা অনিয়মের ভিডিও ও স্থিরচিত্র এসেছে দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদকের হাতে। 

জানা যায়, লিখিত পরীক্ষায় ৩৫০ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হলেও কাদের নিয়োগ দেওয়া হবে সেই তালিকা আগেই করে রেখেছিল একটা চক্র। সেই তালিকা অনুযায়ী মনোনীত প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার পর মৌখিক পরীক্ষার আগেই নিজ কক্ষে ডেকে মিষ্টিমুখ করান সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. রসুল আমিন। 

দেশ রূপান্তরের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল ইসলাম ও কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফয়সাল ইবনে কবির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন মডারেশন কক্ষে অবস্থান করছেন। তারা পারস্পরিক যোগসাজশে কম্পিউটার থেকে পেনড্রাইভে করে প্রশ্ন নিয়ে যান। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০ অক্টোবরের লিখিত পরীক্ষায় ৩৫০ চিকিৎসককে উত্তীর্ণ করা হয়। তাদের মধ্য থেকে যারা নিয়োগের জন্য আর্থিক লেনদেন করেছিলেন, তাদের ২৬ অক্টোবর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. রসুল আমিন মিষ্টিমুখ করান। মিষ্টি খাওয়াতে আরও উপস্থিত ছিলেন পেনড্রাইভে প্রশ্ননেওয়া ডা. ফয়সাল ইবনে কবির, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাসুম আলম এবং প্রশ্ন বিক্রি চক্রের সদস্য ডা. আবেদ আব্বাস, ডা. মোমিনুর রহমান,  ডা. মাঈনুল মাহমুদ সানী, ডা. জাহিদ হাসান পলাশ। তাদের সঙ্গে মিষ্টি খান চাকরিপ্রত্যাশী ডা. অনুপম সাহা, ডা. রাব্বী হাসান, ডা. সানাহউল্লাহ মোল্লা স্বপন, ডা. জুনায়েদ আহমেদ, ডা. সর্বজিত রায়, ডা. তনুময় দত্ত রায়, ডা. আরিফুর রহমান শাওয়ান, ডা. আদনান ইবরাহিম, ডা. দাউদ চৌধুরী পলাশ, ডা. জাকিউল ইসলাম ফুয়াদ, ডা. মাইদুল ইসলাম, ডা. আবু বকর সিদ্দিক লিমন, ডা. নাফিস রায়হান, ডা. আতিকুর রহমান মিজু প্রমুখ। স্থিরচিত্রে থাকা ৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 
এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন প্রশ্নফাঁসে জড়িত ২ মেডিকেল অফিসার ডা. আবেদ আব্বাসের স্ত্রী ডা. উম্মে হাবিবা শান্তা, মেডিকেল অফিসার ডা. মোমিনুর রহমানের স্ত্রী ডা. মাহিরুন নাহার অরিন। 

৬৮ মেডিকেল অফিসার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটা অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ২৯ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. একেএম সালেককে সদস্য সচিব করে তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 
অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ঘটনা তদন্তে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছি। বিবদমান পক্ষগুলো একে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। তদন্ত শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।’ 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত