মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আসামি ভারতে, পুলিশের ভুলে কলেজছাত্র জেলে

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৬:৩৭ পিএম

বাবার নাম ও আসামির নামের সঙ্গে মিল থাকায় ইসমাইল হোসেন নামের  এক কলেজ শিক্ষার্থীকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলেও পাঠানো হয়। কিন্তু মূল আসামি ভারতে পলাতক আছেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ আদালতে ফের প্রতিবেদন পাঠালে মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকেলে তার জামিন হয়।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী গোদাগাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ফাজিলপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। ইসমাইল গোদাগাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একাদশ শ্রেণীর মানবিক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
এদিকে মাদক মামলার মূল আসামির নামও ইসমাইল হোসেন (২০)। তিনি গোদাগাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের লালবাগ হেলিপ্যাড গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। আসামি ইসমাইল পেশায় কাঠমিস্ত্রি। মাদক মামলায় আসামী হওয়ার পর থেকে তিনি ভারতে অত্মগোপনে আছেন।

 

কলেজছাত্র ইসমাইল হোসেনের ভাই আব্দুল হাকিম রুবেল বলেন, গত রবিবার এশার নামাজের সময় গোদাগাড়ী মডেল থানার এসআই আতিকুর রহমান আমাদের বাড়িতে আসেন। এ সময় তিনি একটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে আমার ভাই ইসমাইল হোসেনকে ধরে নিয়ে যান। আমরা এসআইকে বার বার বলেছি, আমার ভাইয়ের নামে কোনো মাদক মামলা নেই। 
এ সময় তার জাতীয় পরিচয়পত্রও দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সঙ্গে গ্রাম, মাতার নাম ও বয়স মিল নেই সেটিও দেখিয়েছি। এরপরও এসআই আতিকুর রহমান জোরপূর্বক আমার ভাইকে ধরে নিয়ে যান এবং পরের দিন ৫০ গ্রাম হেরোইন রাখার মাদকদ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট রাত পৌনে ১১টার দিকে গোদাগাড়ীর মাদারপুর জামে মসজিদ মার্কেটের সামনে থেকে রাজমিস্ত্রি ইসমাইল হোসেনকে ৫০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাতেই তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলা করেন ডিবির এসআই ইনামুল ইসলাম। পরের দিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর এক মাস পর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইসমাইল হোসেন জামিনে মুক্তি পান। 

স্থানীররা জানায়, জামিনে মুক্তির পর ইসমাইল ভারতের চেন্নাই চলে যান। সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত ইসমাইল বাবার সঙ্গে কাঠমিস্ত্রির কাজ করছেন। তার পিতা আব্দুল করিম ছয় বছর ধরে চেন্নাইয়ে থাকেন।

এদিকে ভুল আসামি ধরে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী কলেজছাত্র ইসমাইলের জামিনের ব্যবস্থা করেছেন রাজশাহী জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করেছেন তারা।

গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় তার নাম, বাবার নাম, গ্রামের নাম মিল দেখে তাকে ধরা হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা তার জামিনের ব্যবস্থা করেছি।  

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, ওরেন্টে নাম ঠিকানা ঠিক ছিল। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। যদি কোন গাফিলতি থাকে তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত