রাফসান দ্য ছোট ভাইকে নিয়ের আলোচনা সমালোচনা এখন তুঙ্গে। এই আলোচনার সূত্রপাত কদিন আগে। বাবাকে একটা অডি গাড়ি উপহার দিয়েছেন এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। যে সে গাড়ি নয়। জার্মান কোম্পানি আউডির গাড়ি। ইউরোপ-আমেরিকায়ও এ গাড়ি বিলাসবহুল হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশেও খুব কম মানুষের কাছে এ গাড়ি আছে।
সেটারই সমালোচনা করেন একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তার ভাষ্য, পড়ালেখা করে কী হবে? পড়ালেখা শেষ করে ডাক্তার হয়েও তো অডি গাড়ি এই বয়সে কেনা সম্ভব নয়।
পোস্টটি ছিল এমন- “রাফসান দ্যা ছোটো ভাই তার বাবাকে Audi car গিফট করলো, আর ওই দিকে আমার এক বড় ভাই বাসে করে BSMMU তে যায় Oncology রেসিডেন্সি করতে। আসলে কি ভাই পড়ালেখাটা আমার কাছে এখন overrated লাগে,”– সম্প্রতি তোহার রহমান নামে এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী তার ফেসবুক ওয়ালে এমন পোস্ট দেন। এটি ব্যাপক ভাইরাল হয় এবং এক ধরনের বিতর্ক তৈরি করে যে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা ও চাকরির চেয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সফলতা বেশি কি না।
এই নিয়েই পক্ষে বিপক্ষে নানা কথা শু৭রু হয়। ট্যাক্সনিউজ বিডি ডটকম নামে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে এনবিআর সূত্রে বলছে, বিআরটিএর সরবরাহ করা তালিকায় আউডি গাড়ি ব্যবহারকারী ব্যক্তি মাত্র ২৭ জন।
নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইলেও বিষয়টি ব্যাখ্যা করে পোস্ট দেন ইফতেখার রাফসান। তিনি লেখেন, “আমি শুধু আমার পরিবারকে একটা গাড়ি উপহার দিয়ে চমকে দিতে চেয়েছি, কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি যে এটা নিয়ে এত বিতর্ক তৈরি হবে এবং আমার পড়াশোনা বা কাজের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে।” সেই পোস্টে তিনি আরও জানান যে তিনি এখনও শিক্ষার্থী এবং তাকে এই কনটেন্ট তৈরির জন্যও অনেক কষ্ট করতে হয়।
নানাভাবেই রাফসান আলোচনায় থাকেন। যেমন লুঙ্গি পরে দামি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে, রাস্তায় খাবার বা পানি বিতরণ করে, বন্যার্তদের মধ্য ত্রাণ বিতরণ করে, ভয়াবহ তাপপ্রবাহের সময় ১০ লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা দিয়ে, নিজের পানীয় পণ্য বাজারে ছেড়ে, ভক্তদের দামি আইফোন উপহার দিয়ে, হেলিকপ্টারে চড়ে এভারেস্টে গিয়ে ইত্যাদি ঘটনায়।
তবে গতকাল নতুন একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। ঐ পোস্টে রাফসানের বাবা মো. জাকারিয়া এবং তার মা কাজী নুরুন্নেছা সেহেলির বিরুদ্ধে তিন কোটি ১৫ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক ঋণ নিয়ে না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়। পরে তারা জামিন নিলেও সম্পত্তি নিলামের আদেশ হয়। কিন্তু সেই আদেশ হাইকোর্টে রিট করে আটকে দিয়েছেন তারা।
এটা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে সামাজিক মাধ্যমে। কেউ কেউ বলছেন বাবা ঋণখেলাপী আর নিজে দাইমি গাড়ি কেনে, এটা মোটেও ঠিক নয়। বাবাকে গাড়ি উপহার না দিয়ে খেলাপি ঋণ পরিশোধ করা উচিত ছিল।
অন্যদিকে কবি ও সাহিত্যিক ব্রাত্য রাইসু এক পোস্ট দিয়ে বলছেন বাবার ঋণের বোঝা ছেলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। তিনি বলছেন, রাফসান দ্য ছোট ভাইয়ের প্রতি আপনাদের ঈর্ষার কোনো কারণ দেখি না। আউডি গাড়ি কিনছে ইনফ্লুয়েন্সার হইয়া, তো তার বাবা ঋণখেলাপী কিনা এই লইয়া এখন আপনারা নিজেদের অক্ষমতারে জাস্টিফাই করতে নামছেন! এই দুই জিনিস কীভাবে যুক্ত? কোন লজিক এর মধ্যে আপনারা আবিষ্কার করলেন! তো ওনার গাড়ি জমা দিতে হইব ব্যাংকে? গাড়ি বেইচা বাবার ঋণ ফেরত দিবেন উনি? দেশে কতজন আমলা আউডি গাড়ি কিনার চাইতে বেশি পয়সা মারেন জনগণের, তা লইয়া আপনাদের ক্ষোভ নাই কেন? সৎপথে ক্রিয়েটিভিটি বেইচা গাড়ি কিনছে, কোথায় সবাই খুশি হবে তা না, ওনারে টাইনা নামাইতে তৎপর হইছে ছোটলোকের দল।
যদিও এ বিষয়ে রাফসান কিছু বলেননি এখনো, কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। নেটিজেনরা যদিও নানা মত ও অভিমত দিচ্ছেন তাকে নিয়ে, কিন্তু তিনি কী করবেন কী বলবেন তিনিই ব্জানেন।
চাহিদা না থাকলে সেই সিনেমা চালাবে না স্টার সিনেপ্লেক্স
হলিউডের আলোচিত ‘ডিউন’ সিরিজে টাবু
কেন ডিম্বাণু সংরক্ষণ করছেন এই অভিনেত্রী
পাকিস্তানি বলে গুলিস্তানের কাপড় বিক্রি করেন তনি!
মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় কোনো ফি নেন না ডা. এজাজ