মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রূপপুর এনপিপিতে আন্তর্জাতিক ‘স্মৃতি উদ্যান’ ইভেন্ট

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৮:৩৮ পিএম

বাংলাদেশ এবং হাঙ্গেরিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও দেশপ্রেম ইভেন্ট ‘স্মৃতি উদ্যান’ অুনষ্ঠিত হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক এলাকা ‘গ্রীন সিটি’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম প্রকৌশল বিভাগ।

যে সকল দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে, সেখানে নিয়মিতভাবে এটির আয়োজন করে সংস্থাটি। বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ করছে রসাটম। ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। সেখানে আরও ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র্র নির্মাণের বিষয়েও দু’দেশ সম্মতি জানিয়েছে।

সম্প্রতি রসাটম প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রীন সিটি এলাকায় ২৮টি গাছের চারা রোপণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে যেসকল রুশ এবং বাঙালি আত্মত্যাগ করেন, তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে রোপণ করা হয় এই গাছের চারা।

এতমস্ত্রয় এক্সপোর্টের ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলেক্সি দেইরী এ প্রসঙ্গে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী হিরোদের আমরা এই ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আজকে রোপণকৃত এই বৃক্ষগুলো শুধুমাত্র আমাদের পূর্বপূরুষদের বীরোচিত কাজকেই স্মরণ করিয়ে দেবে না, একই সঙ্গে পরিবেশের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ সুরক্ষার ব্যাপারে রসাটম সর্বদাই যত্নশীল। তাই আমরা বিভিন্ন পরিবেশ উদ্যোগের সঙ্গে নিয়মিতভাবে সহযোগিতা করে আসছি।

ভূতপূর্ব সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির পুনঃনির্মাণে সোভিয়েত ইউনিয়ন এগিয়ে এসেছিল। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সোভিয়েত নাবিকরা চট্টগ্রাম বন্দরে মাইন অপসারণে কাজ করে এবং বিদ্ধস্থ জাহাজগুলোকে পানির নিচ থেকেও উদ্ধার করে। এটি ছিল বিদেশে পরিচালিত সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন, যার সম্পর্কে অনেকেরই খুব একটা জানা নেই।

একটি রুশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্মৃতি উদ্যান ইভেন্ট আয়োজনের সূচনা ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী যোদ্ধাদের স্মৃতিকে স্মরণ করতে আয়োজিত এই উদ্যোগে সহায়তা করছে রুশ প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ফেডারেল বন এজেন্সি।

এই উদ্যোগের অধীনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শহীদদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে একটি করে মোট দুই কোটি সত্তর লক্ষ গাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রত্যেক শহীদের সবুজ স্মৃতিফলক হিসেবে প্রতিটি গাছকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের আরেকটি অন্যতম লক্ষ্য হলো বন সম্পদের রক্ষা এবং পুনরুদ্ধার, যা বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে সহায়তা করবে। রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর এই ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। সারাবিশ্বের ৫০টির অধিক দেশের স্বেচ্ছাসেবকরা এই কাজের সাথে জড়িত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত