মিরাজকে দলে দেখলে ভালো লাগত

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

যে দলটা ঘোষণা করা হয়েছে সেটাই এই মুহূর্তের সেরা দল, তবে এই খেলোয়াড়রা একত্রে একটা দল হয়ে উঠতে পেরেছে কি না সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তারা বিচ্ছিন্ন ভাবে দেশের হয়ে খেলেছেন বিভিন্ন ম্যাচে, তবে পাজলের টুকরোগুলো এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বলেই আমার কাছে মনে হয়। আশা করব যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজেই তারা একটা দল হয়ে উঠবে।

লিটন দাসের দুঃসময়েও নির্বাচকরা যে তার ওপর আস্থা রেখেছেন সেজন্য তাদের একটা সাধুবাদ প্রাপ্য। এই সংস্কৃতিটা খুব দরকার। একজন ব্যাটসম্যানের খারাপ সময়েও তার ওপর আস্থা রাখাটা সেই খেলোয়াড়কে খুব অনুপ্রাণিত করে। লিটন যে মানের ব্যাটসম্যান, দিনটা তার হলে যে কোনো কিছুই হতে পারে।

সাইফ উদ্দিনকে খুব দরকার ছিল, বিশেষ করে তার ব্যাটিংটা একটা বড় অবদান রাখতে পারত। আমাদের লোয়ার ডাউন দ্য অর্ডারে কিন্তু সে রকম কেউ নেই যে ব্যাটিং বোলিং দুটোই করতে পারে। রিশাদের সামর্থ্য আছে কিন্তু সে কতটা পারবে সেটা নিশ্চিত নয়। শেখ মেহেদি হাসানও কিন্তু একাদশে অটোম্যাটিক চয়েস নয়। এই জায়গাটাতে আমি মেহেদী হাসান মিরাজকে খুব মিস করব। গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে আমরা তাকে বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান বানিয়ে দিলাম আর এবার সে দলেই নেই। অথচ দলে তার উপস্থিতি দলের ভেতর একটা উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেয়, লোয়ার অর্ডারে একটা ভরসা দেয়। আমাদের দলে এত এত বিদেশি কোচিং স্টাফ আছে, তারপরও কেন ওর বোলিংটা ঠিক হলো না টি-টোয়েন্টির জন্য সেই প্রশ্নটাও করা দরকার।

যারা দলে সুযোগ পেয়েছে তাদের সবার প্রতি আমার শুভকামনা। দলে চমক হিসেবে বলা যায় তানভির ইসলামের অন্তর্ভুক্তি। বাংলাদেশ দল যেভাবে খেলছে, যে সমন্বয় নিয়ে খেলছে তাতে একাদশে একজনই মাত্র বামহাতি স্পিনার এবং সেটা সাকিব আল হাসান। তারপরও তানভিরের অন্তর্ভুক্তিটা আমাকে একটু অবাক করেছে। এই জায়গাটাতে মিরাজ হতে পারত একটা ভালো বিকল্প। কিন্তু যেহেতু জিম্বাবুয়ে সিরিজের দল থেকেই আমরা জানতাম যে কারা থাকতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের দলে এবং সেখানে মিরাজের নাম ছিল না। তবে আমি মনে করি মিরাজ এবং তানভির এই দুজনের মধ্যে একজন জায়গা পেতে পারত। যেহেতু বাঁ-হাতি স্পিনার সাকিব আছেই, সে হলো অটোমেটিক চয়েজ। তাই দুজন বাঁ-হাতি স্পিনার নিয়ে আমরা খেলব না, কেননা একজন লেগ স্পিনারও আছে আমাদের। সেক্ষেত্রে তানভিরের বদলে মেহেদী মিরাজ দলে আসতে পারত। মিরাজের ব্যাটিং শক্তি, ওর ফিল্ডিং, ওর পজিটিভিটি এসব কিছুই দলের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারত। কিন্তু তানভির যে খুব পিছিয়ে আছে তা নয়। এখন দেখতে হবে সিলেক্টর যদিও যুক্তি দিল যে নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে অনেক ডানহাতি ব্যাটার আছে সেই অপশন থেকে বেটার মনে করেছে তানভিরকে। এখন দেখা যাক বিশ্বকাপ শুরু হলে তখন বোঝা যাবে যে তাদের এই সিলেকশন বা যেই কারণে তারা এই বিশেষ বিশেষ সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে সেগুলো কতটা কাজে আসে।

দলটা রিসেন্টলি খুব ভালো খেলেনি এবং আমি জানি না দলের ভেতরে মানসিকতা কী অবস্থা। দলের স্পিরিট কোন জায়গাটায় আছে। আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সিরিজটা। সেখানে যদি আমাদের দলটা গোছাতে পারি, সেখানে যদি আমরা আমাদের টপ অর্ডারকে ফর্মে ফেরাতে পারি, টপ অর্ডারে সৌম্য সরকার আছে লিটন দাস আছে। তারা ফর্মে ভালোভাবে ফিরতে পারে সেক্ষেত্রে হয়তো ভালো কিছু করতে পারব। ভালো কিছু করা মানে আমরা যদি পরের রাউন্ডে যেতে পারি সেটা আমাদের জন্য খুব ভালো ফলাফল হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের তিন ম্যাচের সিরিজটা কেমন হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত