তিন দিনের সফরে ঢাকায় অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। প্রথম দিনই দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে।
বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, ফিলিস্তিন ইস্যু, রোহিঙ্গাসংকট, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে বৈঠক সূত্র জানায়। এ ছাড়া গতকাল রাতে লু প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেন।
জানা গেছে, বিমানবন্দরে লুকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলম। এ সময় ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসও উপস্থিত ছিলেন। ডোনাল্ড লু বিমানবন্দর থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে যান। সেখানে এক ঘণ্টা অবস্থানের পর রাজধানীর গুলশানে পিটার হাসের বাসভবনে যান। সেখানেই সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বাংলাদেশ সেন্টার ফর উইমেন ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক অধিকারকর্মী সোহানুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী নুর খান লিটন ও শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ওই বৈঠকে উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ফিলিস্তিন ইস্যু, বাংলাদেশের মানবাধিকার ইস্যু ও রোহিঙ্গাসংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে লু ফিলিস্তিন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থান জানতে চেয়েছেন। বৈঠকে লুকে বলা হয়, ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিপক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেছে। বৈঠকে ডোনাল্ড লু জলবায়ু বিষয়ে বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের যেসব ক্ষতি হয়, তা নিয়ে কথা বলেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক জলবায়ু সংগঠনগুলো যেন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করে সেই আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ নানা ইস্যুতে আলোচনা হয়।
এদিকে লুর এই সফরে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কোনো দলের সঙ্গে বৈঠক না থাকা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচনের আগে মার্কিন এই সহকারী মন্ত্রী ঢাকা সফরে এসে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। সেই সফরে নির্বাচন নিয়ে সবপক্ষকেই নানা পরামর্শ দেন। কিন্তু এবারের সফরের এজেন্ডা একেবারেই ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে থেকে বলা হয়েছে, তার এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সফর।
লুর সফর সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে বলা হয়, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় ১০-১৫ মে ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ সফর করবেন তিনি। তার সফর দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করবে এবং একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রদর্শন করবে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন ওঠে, কেন বাংলাদেশ সফরে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লুর বৈঠক নেই। এর জবাবে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেন, ব্যস্ততার কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন না ডোনাল্ড লু। তিনি বলেন, লু ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সফর করছেন। তিনি দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার এবং একটি অবাধ, উন্মুক্ত ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য মার্কিন সমর্থন প্রদর্শন করবেন। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং জলবায়ু ইস্যুতে তিনি দেশটির সরকারি কর্মকর্তা এবং নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
গত ১৭ মাসের মধ্যে ডোনাল্ড লুর এটি তৃতীয় সফর। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে এটি উচ্চপর্যায়ের সফর।
সফরের দ্বিতীয় দিন আজ বুধবার লু প্রথমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে এবং পরে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন। এরপর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
