মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাসে জাবি ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০৭:১২ পিএম

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসের হেলপারের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার (১৫ মে) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মহাসড়কে মৌমিতা পরিবহনের ১৬টি বাস আটক করে রেখেছে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর সহপাঠীসহ একদল শিক্ষার্থী । গতকাল মঙ্গলবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীসহ তার একাধিক সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসে সাভার থেকে  বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছিলেন ওই শিক্ষার্থী। ওই ছাত্রী বাসের হেলপার ভাড়া চাইলে ওই ছাত্রী তাকে ১০০ টাকার একটি নোট দেন। খুচরা নেই বলে বাকি টাকা পরে ফেরত দেবেন বলে জানান তিনি। এরপর বাস সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় পৌঁছালে বাস থামিয়ে বাসের হেলপার যাত্রীদের নামতে বলেন। বাসের যাত্রী সবাই নেমে গেলে ভুক্তভোগী ছাত্রী বাকি টাকা ফেরত চাইলে হনস্তার শিকার হন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযাগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী । অভিযাগপত্রে ওই ছাত্রী  উল্লেখ করেন, আমি মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ব্যাংক টাউন থেকে টিউশন করিয়ে মৌমিতা বাসে করে ক্যাম্পাসে আসছিলাম। বাস চালকের সহকারী (হেলপার) ভাড়া চাইলে আমি টাকা দেই। হেলপার বলে তার কাছ ভাংতি নাই, পরবর্তীতে আমাকে ভাংতি টাকা ফেরত দিবে। বাস রেডিও কলোনির কাছাকাছি আসার পর হেলপার জানায় বাস আর সামনে যাবে না। বাসের যাত্রীরা সবাই তখন নেমে চলে যায়। আমি তখন ভাংতি টাকা ফেরত দেয়ার জন্য বললে হেলপার বলে, ‘চলেন আপনাকে ঢাকা নিয়ে যাই।’

ভুক্তভাগী তার অভিযাগপত্রে আরও উল্লেখ করনে, ‘বাসে মাত্র তিনজন লোক ছিল। বাসের চালক, হেলপার এবং ওদের সঙ্গের একজন। ঢাকা নিয়ে যাব বলেই তারা আমাক বাজেভাবে ইঙ্গিত দেয়। আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। তাড়াহুড়া করে বাস থেকে নামতে চষ্টা করলে বাস ছেড়ে দেয়। আমি কিছু না ভেবে বাস থেকে লাফ দেই এবং হাঁটুতে প্রচুর ব্যথা পাই। এই ঘটনার পর আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমার বসহপাঠীদেরকে বিষয়টি জানালে ওরা আমাকে হাসপাতাল নিয়ে যায়।’

ভুক্তভাগী শিক্ষার্থীর বন্ধু  প্রাণ রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল রানা জানান, ‘গতকাল আমাদের বান্ধবীর সাথে একটি খারাপ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদে আমরা মৌমিতা পরিবহনের বাস আটকিয়েছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর স্যার ও আশুলিয়া থানার পুলিশকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ছিলাম। = ওই এলাকার  সব সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও ৬টা ১০মিনিট থেকে ৬টা ১৮মিনিট পর্যন্ত সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

আটক করে রাখা একটি বাসর চালক মোজাম্মল ও হেল্পার বাবলু জানান, সকাল সাড়ে আটটা থেকে বাসগুলো ছাত্ররা আটক করতে শুরু করে। কি কারণে আটকানো হয়েছে তা জানতেন না তারা। এসময় ছাত্ররা বাস আটক করে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে নেওয়ার অভিযাগ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থক নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বাদী হয়ে মামলা করবেন। তিনি জানান, ঘটনা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বাসগুলা এখানেই থাকবে। তবে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উত্তজিত অবস্থায় ছাত্ররা এ কাজ করছে। পর আমি উপস্থিত হয়ে এক ঘণ্টার মধ্য মোবাইলগুলো ফিরিয়ে দিয়ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবির বলেন, ‘ছাত্ররা ও আশুলিয়া থানার পুলিশসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা কিছু শনাক্ত করতে পারিনি। আমরা বাস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি দ্রুত ওই বাসের হেলপার ও চালককে শনাক্ত করে আমাদেকে জানাতে। পুলিশও চেষ্টা করছে তাদেরকে শনাক্ত করার জন্য।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত