রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হজের ধারাবাহিক কাজ

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ১২:২০ পিএম

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হজ, যা আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান লোকদের ওপর জীবনে একবার হজ ফরজ হয়। যারা প্রথমবার ফরজ হজ আদায় করতে যান, তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে না। আর হজ পালন করতে হয় হজের বিধানগুলো জেনে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। হজের বিধিবিধান বিস্তারিত জানাচ্ছেন মুফতি মাহবুব হাসান

হজের ফরজ ৪টি

এক. হজের নিয়তে ইহরাম পরিধান করা ও তালবিয়া পাঠ করা (একবার)। দুই. ৯ জিলহজ আরাফায় (কিছু সময়ের জন্য) অবস্থা করা (রাত বা দিনে যদি অবস্থান করতে না পারেন তবে তার হজ হবে না)। তিন. তাওয়াফে জিয়ারত বা ফরজ তাওয়াফ (প্রথম চার চক্কর ফরজ ও পরের তিন চক্কর ওয়াজিব)। চার. এ ফরজগুলো সুনির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে ধারাবাহিকভাবে করা।

হজের ওয়াজিব ৯টি

এক. সাফা মারওয়ার মাঝে দ্রুত চলা। দুই. মুজদালিফায় অবস্থান করা, ৯ জিলহজ (আরাফাতে অবস্থানের দিন) রাতের যেকোনো সময় মুজদালিফায় পৌঁছা এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা। তিন. শয়তানের স্তম্ভে (জামারাত) পাথর নিক্ষেপ করা (যা রমি নামে পরিচিত)। চার. মক্কার চারপাশে ইহরাম পরিধানের যে নির্দিষ্ট স্থান সে পরিসীমার বাইরে যাদের অবস্থান তাদের জন্য মক্কা শরিফে প্রবেশের পর সর্বপ্রথম কাবা জিয়ারত করা। বাংলাদেশের হাজিদের জন্যও এটা ওয়াজিব (তাওয়াফে কুদুম)। পাঁচ. বিদায়ী তাওয়াফ করা (কাবা থেকে শেষ বিদায়ের সময় হজ থেকে ফেরার দিন তাওয়াফ করা, এটা বহিরাগত হাজিদের জন্য ওয়াজিব। সুতরাং বাংলাদেশি হাজিদের জন্যও ওয়াজিব)। ছয়. মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা। (ইহরামমুক্ত হয়ে মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছাঁটা যাবে, নচেৎ নয়)। ১০ জিলহজ শয়তানের বড় স্তম্ভে (জামারাতে উকবা) পাথর মারার পর মাথা মুণ্ডন করা বা চুল খাট করে নেওয়া। সাত. কোরবানি দেওয়া (বহিরাগত হাজিদের জন্য এটা ওয়াজিব)। আট. দুই নামাজ একত্রে পড়া (আরাফায় জোহর-আসর ও মুজদালিফায় মাগরিব-এশা)। নয়. পাথর মারা (রমি) ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা ধারাবাহিকভাবে করা।

ইহরামের আগে করণীয়

ইহরাম বাঁধার আগেই গোঁফ, বগল ও নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, নখ কাটা, গোসল করে পাক হয়ে যাওয়া আবশ্যক। এমনকি ঋতুবতী নারীদেরও এ সময় গোসল করা মুস্তাহাব। সুগন্ধি ব্যবহার করাও মুস্তাহাব। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘আমি নিজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইহরাম বাঁধার আগে তাকে সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম।’ (সহিহ বোখারি) ইহরাম বাঁধার পর সুগন্ধি ব্যবহার করা নিষেধ।

যেভাবে ইহরাম বাঁধবেন

এক. প্রথমেই পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার জন্য গোসল করা। গোসল করা সম্ভব না হলে অজু করা। চুল কাটার প্রয়োজন না হলে চিরুনি দিয়ে চুলগুলো পরিপাটি করে নেওয়া।

দুই. গোসলের পর সেলাইহিবীন দুটি কাপড় পরিধান করা। একটি হলো ইজার তথা লুঙ্গি, অন্যটি লেফাফা তথা চাদর।

তিন. মিকাতের নির্ধারিত স্থানে অথবা মিকাতের নির্ধারিত স্থানের আগেই ইহরামের নিয়তে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা। নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পড়া মুস্তাহাব। নামাজের সময় মাথায় টুপি থাকবে, নামাজ শেষে নিয়তের আগেই টুপি খুলে ফেলা।

চার. ইহরামের নিয়ত করা। যদি ওমরাহর জন্য ইহরাম হয় তাহলে বলবেন, ‘লাব্বাইক ওমরাতান’ আর যদি ইহরাম হজের জন্য হয় তাহলে বলবেন, ‘লাব্বাইক হাজ্জান’। হজ বা ওমরাহ সহজে সম্পাদনের জন্য ইমাম কুদুরি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এ দোয়াটি পড়তে বলেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা/হাজ্জা ফাইয়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি’। অর্থ : হে আল্লাহ! আমি ওমরাহর/হজের ইচ্ছা করছি। আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।

পাঁচ. ইহরামের নিয়তের পরপরই উচ্চৈঃস্বরে চার ভাগে (প্রত্যেক ভাগ এক নিঃশ্বাসে) তালবিয়া পাঠ করা (৩ বার)।

১ম ভাগ. লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,

২য় ভাগ. লাব্বাইক, লা-শারিকা-লাকা লাব্বাইক,

৩য় ভাগ. ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুলক,

৪র্থ ভাগ. লা শারিকা লাকা।

উচ্চৈঃস্বরে চার ভাগে (প্রত্যেক ভাগ এক নিঃশ্বাসে) তিনবার তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে ইহরাম বাঁধার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায়। তখন থেকে ইহরামকারীর জন্য হজ ও ওমরাহর কার্যক্রম ছাড়া স্বাভাবিক সময়ের বৈধ কাজও হারাম হয়ে যায়। ইহরাম বাধার পর হজ বা ওমরাহ পালন-ইচ্ছুকরা বেশি বেশি তালবিয়া, দুরুদ ও নিজেদের ইচ্ছামতো দোয়া পাঠ করবে। ইহরাম বাধার পর এ দোয়া পাঠ করাও সুন্নত, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা রিদাকা ওয়াল জান্নাতা ওয়া আউজুবিকা মিন গাদাবিকা ওয়ান্নারি।’ অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আশা করছি এবং আপনার অসন্তুষ্টি ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

হজসংশ্লিষ্ট কাজের বর্ণনা

এক. মিকাতের আগে (সম্ভব হলে বিমানে আরোহণের আগে) ইহরাম বাঁধা। দুই. মক্কা শরিফে পৌঁছে জিনিসপত্র নিজ নিজ কক্ষে রেখে অজু করে মুয়াল্লিমের সঙ্গে কাবা শরিফে যাওয়া। তিন. কাবা তাওয়াফ করা তথা সাতবার কাবা প্রদক্ষিণ করা, পারলে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা, সম্ভব না হলে হাতে ইশারা করে তাওয়াফ শুরু করা। চার. কাবা ঘরকে সাত চক্কর দ্রুত প্রদক্ষিণ করা (রমল)। তাওয়াফের সময় ইহরামের চাদর ডান হাতের নিচ দিয়ে এনে বাঁ কাঁধে রাখতে হবে, যেন ডান কাঁধ ও বাহু উন্মুক্ত হয়ে থাকে (ইজতিবাহ)। এ দুটি আমল তাওয়াফের সুন্নত, যা তাওয়াফে জিয়ারত ও ওমরাহর সময়ও করা সুন্নত। পাঁচ. সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ি করা বা দৌড়াতে হবে সাতবার। শুরু হবে সাফা পর্বত থেকে, শেষ করতে হবে মারওয়ায় গিয়ে। ছয়. মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছাঁটানো। এসব সম্পাদনের পর হজের দিন কয়েক বাকি থাকলে ইহরাম মুক্ত হয়ে মদিনা শরিফ যাওয়া যায়। হজের আগে ইহরাম থেকে স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন করাকে হজে তামাত্তু বলা হয়।

হজের মূল সময়ের কাজ

৮ জিলহজের আমল : এদিন আপন কক্ষে অথবা কাবাঘরে বসে ইহরাম বেঁধে মক্কা শরিফ থেকে মুয়াল্লিমের অধীনে মিনায় পৌঁছাতে হবে। এখানে এদিন জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরদিন ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন।

৯ জিলহজের ধারাবাহিক আমল : এক. সকালে মিনা থেকে রওনা হয়ে আরাফাতের ময়দানে পৌঁছাতে হবে এবং জোহর-আসর একসঙ্গে পড়তে হবে। দুই. গভীর মনোযোগে খুতবা শুনবেন এবং খুতবার পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত তালবিয়া, তাহমিদ, দোয়া-দরুদ, ইস্তিগফার, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করতে থাকবেন। তিন. সূর্যাস্তের পর মাগরিব না পড়েই মুজদালিফায় রওনা হবেন। রাত যতক্ষণই হোক মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব-এশা একসঙ্গে পড়বেন। মাগরিবের সময় চলে যাচ্ছে ভেবে যাত্রাবিরতি করা যাবে না, বরং মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব-এশা একত্রে পড়া হজের বিধান। চার. এ রাতে (৯ তারিখ রাত) মুজদালিফায় বিশ্রাম নেবেন বা ঘুমাবেন। ফজর পড়ে সূর্যোদয়ের আগে ফের মিনার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পাঁচ. মুজদালিফা থেকে কমপক্ষে ৪৯টি পাথর সংগ্রহ করে সঙ্গে আনতে হবে।

১০ জিলহজের আমল : এক. মুজদালিফা থেকে মিনায় পৌঁছাতে হবে। দুই. এদিন শুধু বড় শয়তানের স্তম্ভে (জামারাতে উকবা) সাতটি পাথর নিক্ষেপ করবেন। অন্য স্তম্ভে পাথর মারা যাবে না। তিন. জুমারাতে পাথর মারার পর কোরবানির সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কোরবানি দিতে হবে। (ক্ষতিপূরণ কোরবানি ও নফল কোরবানিও করা যাবে), চার. কোরবানি করার পর মাথা মুণ্ডাতে বা চুল খাটো করতে হবে। পাঁচ. এদিন পূর্বোক্ত কাজ করার পর তাওয়াফ ও তাওয়াফে জিয়ারত করতে হবে (অবশ্য ভিড় এড়ানোর জন্য এ তাওয়াফ ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিলম্ব করা যাবে)। ১২ তারিখ সকালে তিনটি স্তম্ভে পাথর মেরে মিনা থেকে চূড়ান্ত বিদায় নিয়ে মক্কা শরিফে এসেও এই ফরজ তাওয়াফ করার সুযোগ থাকে।

১১ জিলহজের আমল : শয়তানের তিন স্তম্ভে সাতটি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করতে হবে।

১২ জিলহজের আমল : তিন স্তম্ভে আবার সাতটি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করতে হবে। এভাবে পাথর মারার সংখ্যা ১০ জিলহজ সাতটি, ১১ জিলহজ সাতটি করে ২১টি এবং ১২ জিলহজে সাতটি করে ২১টি পাথর মারতে হবে। উল্লেখ্য, ১০ ও ১১ জিলহজ তাওয়াফে জিয়ারত করতে না পারলেও ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে অবশ্যই সম্পাদন করতে হবে এবং ১১ জিলহজ পাথর মারতে মারতে ছোট থেকে বড় স্তম্ভের দিকে যেতে হবে। ১২ তারিখের পর হাজি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। ১০ তারিখ মাথা মুণ্ডানোর পর ইহরাম অবস্থার সমাপ্তি ঘটবে। তবে তাওয়াফে জিয়ারতের আগে স্ত্রী সহবাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

হজে যাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

যাদের ওপর হজ ফরজ : প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মক্কায় গিয়ে হজকার্য সম্পন্ন করে ফিরে আসার সামর্থ্য রাখে, এমন প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে নারীদের জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকা শর্ত। যাদের সঙ্গে কখনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায় না, তারাই মাহরাম। যেমন : পিতা, পুত্র, আপন ও সৎভাই, দাদা-নানা, আপন চাচা ও মামা, ছেলে বা নাতি, জামাতা, শ্বশুর, দুধভাই, দুধ ছেলে প্রমুখ। তবে একা একা দুধভাইয়ের সঙ্গে এবং যুবতী শাশুড়ির জামাতার সঙ্গে যাওয়া নিষেধ। হজ ফরজ হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে। এক. মুসলিম হওয়া। দুই. বিবেকবান হওয়া, পাগল না হওয়া। তিন. বালেগ হওয়া, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। চার. আজাদ বা স্বাধীন হওয়া অর্থাৎ কারও গোলাম বা দাস না হওয়া। পাঁচ. দৈহিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়া।

হজের প্রকারভেদ

এক. ইফরাদ : শুধু হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই ইহরামেই হজকার্য সম্পন্ন করা।

দুই. তামাত্তু : শুধু ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওমরাহর কাজ সমাপ্ত করে মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া। অতঃপর ওই সফরেই হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজকার্য সম্পাদন করা।

তিন. কিরান : একসঙ্গে ওমরাহ ও হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই একই ইহরামে ওমরাহ ও হজ পালন করা। এ তিন প্রকারের মধ্যে উত্তম হলো কিরান। কিন্তু ইহরাম দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞাবলি সঠিকভাবে মেনে চলতে না পারার আশঙ্কা থাকলে হজে তামাত্তুই উত্তম।

জীবনে একবার হজ ফরজ হওয়ার রহস্য

জাকাত প্রতি বছর ফরজ হলেও হজ কেন একবারই ফরজ হয়? প্রথম উত্তর হলো, কোরআন-হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত আহকামগুলোর কারণ ও রহস্য তালাশ করা ইমানের দুর্বলতার পরিচয়। দ্বিতীয়ত, যুক্তির দিক থেকে সব আমল পুনর্বার না হওয়া উচিত। কিন্তু আদেশের পুনরাবৃত্তির কারণে ফরজটিও পুনর্বার হয়েছে। হজ ফরজ হওয়ার কারণ হলো বায়তুল্লাহ। যেহেতু কাবা একটি, তাই হজও একবার ফরজ হয়। তৃতীয়ত, হজের মধ্যে অন্যান্য ইবাদতের তুলনায় কষ্ট বেশি। এজন্য হজকে জিহাদ বলা হয়েছে। ঋতুবতী নারীকে নামাজ ও রোজার ক্ষেত্রে অবকাশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার ওপর কি হজ ফরজ

কারও ওপর জাকাত ফরজ না হয়েও তার ওপর হজ ফরজ হতে পারে। কেননা হজ ও জাকাতের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। হজ ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য হলো, জাকাতের সম্পর্ক নির্ধারিত নিসাবের সঙ্গে। হজের সম্পর্ক মক্কায় আসা-যাওয়ার খরচের সঙ্গে। সুতরাং স্থাবর সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রি করে কেউ যদি হজ আদায় করতে সক্ষম হয় এবং হজ থেকে ফিরে এসে বাকি সম্পত্তি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, তাহলে তার ওপর হজ ফরজ। একইভাবে ব্যবসায়ীর দোকানে যে পরিমাণ পণ্য আছে, তার কিছু অংশ বিক্রি করলে যদি হজ করা সম্ভব হয় এবং ফিরে এসে যদি বাকি পণ্য দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা যায়, তাহলে তার ওপরও হজ ফরজ।

যেসব জায়গায় দোয়া কবুল হয়

হজের সফর দোয়া কবুলের মোক্ষম সময়। হজ কিংবা ওমরাহর জন্য ইহরামের নিয়ত করা থেকে শুরু করে হজ ও ওমরাহ সম্পন্ন করে বাড়িতে ফিরে আসার পরও ৪০ দিন পর্যন্ত হাজির দোয়া কবুল হতে থাকে। হজের সফরে এমন কিছু সময় ও স্থান রয়েছে, যে সময় ও স্থানে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দোয়া করার প্রসিদ্ধ কিছু স্থান উল্লেখ করা হলো।

হারাম শরিফ : হারাম শরিফের সীমা বায়তুল্লাহর পশ্চিমে জেদ্দার পথে শোয়াইদিয়া পর্যন্ত ১০ মাইল, পূর্বে জেরুজালেমের পথে ৯ মাইল, দক্ষিণে তায়েফের পথে ৭ মাইল এবং উত্তরে মদিনা শরিফের পথে ৫ মাইল। এটি ইবাদতের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান এবং দোয়া কবুলের সর্বোত্তম জায়গা। মসজিদে হারাম, কাবা শরিফ, মিজাবে রহমত, কাবাঘরের ছাদের পানি পড়ার জন্য উত্তর পাশে হাতিমের ভেতরে মাঝখান বরাবর একটি সোনার পরনালা রয়েছে। একে মিজাবে রহমত বলে। এটি দোয়া কবুলের স্থান।

হাতিম : কাবাঘর সংলগ্ন উত্তর দিকে অর্ধবৃত্তাকার দেয়ালঘেরা স্থানকে হাতিম বলা হয়। এটা দোয়া কবুলের সর্বোত্তম স্থান। এ ছাড়া হাজরে আসওয়াদ, কাবা শরিফের রোকনগুলো, মাতাফ, মাকামে ইবরাহিম, সাফা পাহাড়, মারওয়া পাহাড়, জমজম, মাসআ, (মাসআ হচ্ছে সাফা ও মারওয়া, এ দুই পাহাড়ের মধ্যস্থলে হজরত হাজেরা (আ.) তার শিশুপুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পানীয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি করেছিলেন। সেই স্মৃতি রক্ষার্থে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুকরণে হাজিদের এ দুই পাহাড়ের মধ্যে সাতবার যাওয়া-আসা করতে হয়, একে সায়ি বলা হয়)। এটিও দোয়া কবুলের জায়গা। আরাফাত ময়দান, জাবালে রহমত, মুজদালিফা, মিনা ও মসজিদে নামিরা এলাকায় দোয়া কবুল হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত