রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মোটরযানের গতিসীমা

‘সড়ক দুর্ঘটনায় অকালমৃত্যুর সঙ্গে কমাবে বায়ুদূষণ’

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ০৬:২৮ এএম

মোটরযানের গতিসীমা নির্ধারণ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে রোড সেফটি কোয়ালিশন বলেছে, মোটরযান গতিসীমা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা সড়ক দুর্ঘটনায় অকালমৃত্যুর পাশাপাশি বায়ুদূষণের জন্য দায়ী কার্বন নিঃসরণ কমাবে। এই নির্দেশিকার যথাযথ বাস্তবায়ন ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছে সংগঠনটি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪-এর ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন রোড সেফটি কোয়ালিশনের নেতারা।

রোড সেফটি কোয়ালিশন সড়ক নিরাপত্তা ইস্যুতে কাজ করা ৯টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য পাঠ করেন এই জোটের সদস্য নিরাপদ সড়ক চাই-এর প্রধান ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখছে। এরপরও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে, একইসঙ্গে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। দেশের সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের অনিয়ন্ত্রিত গতি প্রতিনিয়ত দেশের কর্মক্ষম তরুণসহ অনেকের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। এ অবস্থায়, রোড সেফটি কোয়ালিশন দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি নির্দেশনার দাবি করে আসছিল।

তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এ গতিসীমার কথা উল্লেখ থাকলেও এই নির্দেশিকার মাধ্যমে দেশের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিটি সড়কে মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারিত হলো। এই নির্দেশিকা বাস্তবায়ন করা গেলে কার্বন নিঃসরণ কমে আসবে। ব্যক্তি ও সরকারের চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পাবে তথা সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।

শহরে মোটরসাইকেলের গতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘যেসব সড়কের গতিসীমা ৩০ করা হয়েছে, সেসব সড়কে গাড়ির গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার করা হয়নি। জাতিসংঘের নির্দেশনা অনুযায়ী শহরে ৩০ কিলোমিটারের বেশি গতির অনুমতি সরকার চাইলেও পারবে না। সেখানে ৩০ কিলোমিটার করা হয়েছে সব গাড়ির জন্য, শুধু মোটরসাইকেলের জন্য না। মোটরসাইকেলের চালকরা ভুল বুঝছেন, ব্যাখ্যাটা না জেনে।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪ জারি করে। তাতে সড়ক ও মোটরযানের শ্রেণিভেদে গতিসীমা নির্ধারণ করে দিয়ে বলা হয়েছে, অবিভক্ত ও দুই লেনবিশিষ্ট শহর ও প্রাইমারি আরবান সড়কে মোটরসাইকেলের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার। একই শ্রেণির সড়কে মোটরকার, জিপ, মাইক্রোবাসের জন্য গতি ৪০ কিলোমিটার। তবে বাস, মিনিবাস, ট্রাক, মিনিট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের জন্য এ ধরনের সড়কে কোনো গতিসীমা নেই।

মোটরসাইকেলের গতিসীমা প্রসঙ্গে এই প্ল্যাটফর্ম বলছে, ঘনবসতিসম্পন্ন গ্রামাঞ্চল ও শহরের জন্য মোটরসাইকেলের গতিসীমা নির্ধারণ করায় সড়কে চলাচলের জন্য শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা উপকৃত হবেন। বিশ্বের অনেক দেশ শহরাঞ্চলের রাস্তায় সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কম গতিসীমা নির্ধারণ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো মধ্যে রয়েছে খুব দ্রুত ‘মোটরযানের গতিসীমা নির্দেশিকা, ২০২৪’ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, বিভাগে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো এবং পদক্ষেপ গ্রহণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া। পাশাপাশি এই নির্দেশিকাতে যেসব বিষয় যেমন কীভাবে বিভিন্ন গতির মোটরযানগুলো ওভারটেক করবে; লেন পরিবর্তন কীভাবে হবে; সড়কে কবে থেকে নির্দেশিকা কীভাবে, কখন ও কোথায় প্রয়োগ হবে, তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া। নিয়মিতভাবে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন নিশ্চিতে প্রতি মাসে একটি সমন্বয় সভার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও কারণ বিশ্লেষণ করে তথ্য দেওয়ার সুপারিশও করা হয়।

এ ছাড়া সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) মহাসচিব লিটন এরশাদ, কোয়ালিশনের সদস্য ব্র্যাক, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সিআইপিআরবি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, অর্থোপেডিক সোসাইটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বিএনএনআরসি, স্টেপ স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত