শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দুর্নীতির মামলা

অব্যাহতি পাচ্ছেন বিমানের ১৪ কর্মকর্তা

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ০৬:২৯ এএম

মিসরের ইজিপ্ট এয়ারের দুটি উড়োজাহাজ লিজ গ্রহণে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা ক্ষতি ও আত্মসাতের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে যাচ্ছে দুদক। গতকাল বুধবার অভিযোগপত্রটি অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। অভিযোগপত্র অনুমোদন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযোগপত্রে ১৪ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদকের তথ্যমতে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর মডেলের দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয়। এই উড়োজাহাজ মেরামত ও পরিচালনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১ হাজার ১৬১ কোটি টাকার ক্ষতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।

তবে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এজাহারভুক্ত ১৪ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় নতুন করে আরও সাতজনকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযোগপত্রে ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন বিমানের ফ্লাইট অপারেশন্সের পরিচালক ক্যাপ্টেন ইশরাত আহমেদ, ডেপুটি ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল আলম সিদ্দিক, সাবেক মুখ্য প্রকৌশলী শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ হানিফ, সাবেক মুখ্য প্রকৌশলী দেবেশ চৌধুরী, এয়ারওরথিনেস কনসালট্যান্ট (সিএএবি) গোলাম সারওয়ার, প্রকৌশলী মো. সাদেকুল ইসলাম ভূঞা, প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার শরীফ রুহুল কুদ্দুস ও সাবেক উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, ইঞ্জিনিয়ার অফিসার মো. জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া নতুন করে চার্জশিটভুক্ত চার আসামি হলেন বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেভিন জন স্টিল, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সফিউল আজম, সহকারী পরিচালক দেওয়ান রাশেদ উদ্দিন, উপপরিচালক মো. আবদুল কাদির, বিমানের প্রকৌশল কর্মকর্তা হীরালাল চক্রবর্তী, বিমানের প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার আশোক কুমার সর্দার এবং প্রকৌশল কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান।

অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন বিমানের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুর রহমান ফারুকী, ডিজিএম কামাল উদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মো. নজরুল ইসলাম শামিম, বিমানের ফ্লাইট অপারেশন পরিদপ্তরের উপমহাব্যবস্থাপক জিয়া আহমেদ, সাবেক চিফ পার্সার কাজী মোসাদ্দেক আলী, ফ্লাইট পার্সার মো. শহিদুল্লাহ কায়সার ডিউক, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আজাদ রহমান, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আবদুল কাদির, সহকারী ব্যবস্থাপক মো. ফজলুল হক বসুনিয়া, ব্যবস্থাপক মো. আতাউর রহমান, সাবেক চিফ পার্সার মোহাম্মদ সাজ্জাদ উল হক শাহিন, ফ্লাইট পার্সার শাহনাজ বেগম ঝর্ণা, প্রধান প্রকৌশলী এ আর এম কায়সার জামান ও সাবেক প্রধান প্রকৌশলী গাজী মাহমুদ ইকবাল।

দুদকের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট (মিসর) এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর নামের দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড। ইঞ্জিনগুলো প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছরের পুরনো ছিল। উড্ডয়ন যোগ্যতার মেয়াদকাল কম থাকায় লিজ আনার পর এক বছর না যেতেই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে উড়োজাহাজ সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আরেকটি ইঞ্জিন ভাড়ায় নেওয়া হয়। এটিও দেড় বছর পর নষ্ট হয়ে যায়। তখন ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। দুটি উড়োজাহাজের জন্য প্রতি মাসে বিমান ১১ কোটি টাকা করে ভর্তুকি দিয়ে হয়েছে। এ ছাড়া ইজিপ্ট এয়ার মেরামতকারী কোম্পানিকে অর্থ দিতে হয়েছে বিমানকে। উড়োজাহাজ দুটি ৫ বছরের জন্য লিজ আনা হলেও মাত্র ১১ মাস পরিচালনা করা হয়েছে। অথচ ইজিপ্ট এয়ারের ভাড়া ও মেরামতকারী কোম্পানির পেছনে ৫ বছরে বিমানের ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা গচ্চা গেছে।

জানা জানা গেছে, ইজিপ্ট এয়ারের উড়োজাহাজ লিজ গ্রহণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করতে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তারের সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনকে ঢাকার বাইরে বদলির পর টিমের প্রধান করা হয় উপপরিচালক আনোয়ারুল হককে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত