ফের পারদ নামাবে কালবৈশাখী

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ০৬:৩৩ এএম

কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টির মধ্য দিয়ে ভয়ংকর এপ্রিলের গরমের অবসান ঘটেছিল। এখন আবার শুরু হয়েছে তাপপ্রবাহ। ৪২ জেলায় এ তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে, যা আরও বিস্তৃত হতে পারে। এ অবস্থায় আবার দুদিনের হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তবে এবার আর তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহের দুর্ভোগে পড়তে হবে না। মাঝারি তাপপ্রবাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে ১৯ মে (রবিবার) পর্যন্ত চলমান এ তাপপ্রবাহ। ২০ থেকে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা আছে। তখন নেমে আসবে তাপমাত্রার পারদ।

তবে এপ্রিল মাস জুড়ে চলমান তাপপ্রপ্রাহ দেশে প্রবেশ করেছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর, কুষ্টিয়া ও খুলনা হয়ে। আর এবার তাপপ্রবাহ প্রবেশ করছে রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী হয়ে। গত মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে, একইদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল পাবনার ঈশ^রদীতে। গতকাল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে দিনাজপুরে। আজ বৃহস্পতিবারও একই এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে।

তবে শুক্র ও শনিবার ঢাকাতেও তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলছিলেন, ‘এবার তাপপ্রবাহ প্রবেশ করছে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ দিয়ে। আর তা প্রবেশের পর ঢাকা পর্যন্ত আসার পর তাপমাত্রার পারদ কমে যায়। তাই আগামী শুক্র ও শনিবার ঢাকায় তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘বছরের এ সময়ে রাজস্থান, উত্তর ও মধ্যপ্রদেশ থেকে আসা তাপপ্রবাহ রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে। এর আগে দক্ষিণ-পশ্চিমের যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনা এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেশি রেকর্ড হয়েছিল।’

সমরেন্দ্র কর্মকারের উপাত্তের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আগামী কয়েক দিন রাজস্থান, উত্তর ও মধ্যপ্রদেশ এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। গতকালও (বুধবার) এসব এলাকার তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে পশ্চিমের দিক আসা গরম বায়ুর সঙ্গে স্থানীয়ভাবে গরম বায়ু তাপমাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তোলে বলে মন্তব্য করেন আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক। তিনি বলেন, ‘দেশের পশ্চিমাঞ্চল স্বাভাবিকভাবেই বছরের এ সময়ে উষ্ণ থাকে। এ উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে পশ্চিমের উষ্ণতা যুক্ত হয়ে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায় এবং উত্তপ্ত বাতাস ঢাকার দিকে আসতে থাকে।’

এবারের তাপপ্রবাহের পারদ কতটুকু পর্যন্ত বাড়তে পারে জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ‘চলমান এ তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠবে বলে মনে হয় না। বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। ২০ থেকে আবারও তাপমাত্রা কমতে থাকবে।’

তবে এবারের তাপপ্রবাহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে না উল্লেখ করে আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে কালবৈশাখী হতে পারে। তবে এ তাপপ্রবাহ ১৯ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ২০ মে থেকে সারা দেশে কালবৈশাখী ও বৃষ্টি শুরু হবে এবং তাপমাত্রা কমে আসবে।’

ঝড়-বৃষ্টি কতদিন থাকতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০ মে থেকে কালবৈশাখীর কারণে বৃষ্টি শুরু হলে তা ২৩ বা ২৪ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তারপর হয়তো তাপমাত্রা আবারও বাড়তে পারে।’

কিন্তু এবারের তাপপ্রবাহ অস্বস্তিকর কেন? এ প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বাতাসে আর্দ্রতা ৬০ শতাংশের নিচে থাকলে তা আরামদায়ক হয়ে থাকে। কিন্তু সকাল ও বিকেলে তা ৮০ শতাংশের বেশি থাকে। তাই গরমটা অস্বস্তিকর মনে হয়।’

দেশে পুরো এপ্রিল মাসে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। ২ মে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির পর ৬ মে থেকে শুরু হয় সারা দেশে কালবৈশাখীর প্রভাব। এর আগে ৩০ এপ্রিল যশোরে রেকর্ড হয়েছিল ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া এপ্রিলের শেষার্ধে টানা তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। সাধারণত কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৬ থকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে মাঝারি ও ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। আর ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হয়ে থাকে।

৪২ জেলায় তাপপ্রবাহ : রাজশাহীর ৮টি জেলা, রংপুরের ৮টি জেলা, খুলনার ১০টি জেলা ও সিলেটের ৪টি জেলা এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, ভোলা ও পটুয়াখালী জেলাসহ ৪২টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে ও বিস্তার লাভ করতে পারে।

ফের দুদিনের হিট অ্যালার্ট : তাপপ্রবাহ আরও বিস্তৃত হওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে দুদিনের তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা বা ‘হিট অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে চলমান তাপপ্রবাহ বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়বে।

এ ছাড়া শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। চলমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত