রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নির্বাচন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ১২:১৫ পিএম

শরীয়তপুর জজ কোটের সরকারি কৌশলী (জিপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর মুন্সীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দে বাদী হয়ে আলমগীর মুন্সির বিরুদ্ধে সদরের পালং মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গতকাল বুধবার রাতে দায়ের করা ওই এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে আলমাগীর মুন্সী নির্বাচন কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করে মারধর করতে উদ্যত হন।

পালং মডেল থানা ও নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামী ২১ মে শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের একজন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান উজ্জ্বল ঘোড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কামরুজ্জামানের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শরীয়তপুর জজ কোটের সরকারি কৌশলী (জিপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর মুন্সী।

নির্বাচনের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকা ও ভোট কেন্দ্রের তথ্য সংক্রান্ত গোপনীয় কিছু নথি নিয়ে মঙ্গলবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দে। তিনি ওই নথিপত্র নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুদ্দিন গিয়াসের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন সেই কক্ষে প্রবেশ করেন জিপি আলমগীর মুন্সী। ওই নথিগুলো তখন সরিয়ে রাখেন নির্বাচন কর্মকর্তা। এতে ক্ষুব্ধ হন জিপি আলমগীর মুন্সী।

বুধবার বিকেলে নির্বাচন কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে আলমগীর মুন্সী তার গতিরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুদ্দিন গিয়াস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনউদ্দিন ও এনডিসি হোসেল রানা সেখানে আসেন। বিকাশ চন্দ্র বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন আলমগীর মুন্সী পুনরায় তাকে গালাগালি করে তেড়ে মারতে যান। জেলা প্রশাসনের ওই কর্মকর্তারা তখন দুইজনকে সরিয়ে দেন।

এ ঘটনায় বিকাশ চন্দ্র রাতে পালং মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগটি রাত সাড়ে ১২টার দিকে নথিভুক্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দে বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু গোপন নথি আলমগীর মুন্সী দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক। ওই নথি না দেখানোর কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন। মারধর করতে উদ্যত হয়েছেন। আমি ঘটনাটির পর নিরাপত্তাহীন অবস্থা বোধ করছি। আমার সিনিয়র কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের পরামর্শে মামলা দায়ের করেছি।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জজ কোটের জিপি আলমগীর মুন্সী ওই ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আমার সঙ্গে কোনো সরকারি কর্মকর্তার খারাপ সম্পর্ক নেই। আমি কেন একজন নির্বাচন কর্মকর্তাকে অপদস্থ করতে যাব। আমার বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়েছে তা বলতে পারব না।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমরা জানার পর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচন কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছি। দুই পক্ষকে মিলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা চাইছিলাম অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনাটি আর যেন সামনের দিকে না আগায়। এখন মামলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, নির্বাচনী কাজের নথি না দেখানোর কারণে কর্মকর্তাকে ভয় দেখানো, অপদস্থ করা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন। আমরা বিষয়টি কমিশনকে জানিয়েছি। আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, ঘটনাটি আমাদের সামনে ঘটেছে। এটা দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা হতবিহবল হয়ে পরেছি। ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে দুর্ব্যবহার ও মারধর করতে উদ্যত হওয়ার অভিযোগে জজ কোটের জিপির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত