বিচারক হিসেবে নবীজির অবদান

আপডেট : ১৭ মে ২০২৪, ১২:৩০ এএম

সমাজ জীবনে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-কলহ ও ঝগড়া-বিবাদ ঘটতে পারে। এর ফলে যাতে কোনো রকম সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য নবী করিম (সা.) বিচার ব্যবস্থাতেও তার অনুপম আদর্শ রেখে গেছেন। পৃথিবীর চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী নবী করিম (সা.) কারও দ্বারা মনোনীত বিচারক ছিলেন না। তাকে বিচারক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন স্বয়ং আল্লাহ। কোরআনে কারিমে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘(হে নবী), আমি সত্য সহকারে আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি যাতে আপনি আল্লাহর দেখানো মুক্তির আলোকে বিচার-আচার করতে পারেন।’ (সুরা নিসা ১০৫)

উপরোক্ত আয়াতে কারিমা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বনিয়োজিত বা কারও দ্বারা নির্বাচিত বিচারক ছিলেন না। তিনি ছিলেন মহান আল্লাহ কর্র্তৃক নিযুক্ত বিচারক। আর বিচারক হিসেবে তার দায়িত্ব রিসালাতের দায়িত্ব থেকে আলাদা ও বিচ্ছিন্ন ছিল না। রাসুলকে বিচারক হিসেবে না মানা মুমিনের কাজ নয়, বরং তা মুনাফিকের কাজ। সুষ্ঠুভাবে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিচারককে অবশ্যই কতগুলো নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। এর জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছেন নবী (সা.)। তিনি বিচারকাজে সব ধরনের স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থাকতেন।

বিচার করার সময় বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষের কথাবার্তা যথাযথ শুনে এবং এর পক্ষে-বিপক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ করে ফায়সালা প্রদান করা নবী করিম (সা.)-এর বিচারব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল। নবী করিম (সা.)-এর বিচারের একটি উদাহরণ উল্লেখ করা যেতে পারে। একবার আরবের সম্ভ্রান্ত মাখযুম গোত্রের এক মহিলা চুরির অপরাধে গ্রেপ্তার হলেন। যেহেতু মহিলাটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছিলেন, সেহেতু তাকে রক্ষা করার জন্য হজরত উসামার (রা.) মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ শুনে রাসুল (সা.) রাগান্বিত হয়ে বললেন, বনি ইসরাইল জাতি এ অপরাধেই ধ্বংস হয়েছে। তাদের কোনো গরিব লোক অপরাধ করলে তাকে গুরুদণ্ড দেওয়া হতো এবং কোনো বড়লোক অপরাধ করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হতো। (সহিহ বুখারি)

এ ধরনের ইনসাফ ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুপম বিচারনীতির নিদর্শন। তিনিই পৃথিবীতে রাসুল হিসেবে আল্লাহর তরফ থেকে মনোনীত শ্রেষ্ঠ বিচারক ছিলেন এবং তার প্রতিটি বিচারকাজ আমাদের জন্য অনুসরণীয়-অনুকরণীয় সর্বোত্তম আদর্শ। এছাড়াও ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে বিচারকাজ পরিচালনা না করা সম্পর্কে নবী করিম (সা.) কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত