ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির এক ঝাঁক শিক্ষার্থী বসে রয়েছে অধীর আগ্রহে। জীবনে প্রথমবারের মতো নতুন কিছু শেখার-দেখার জন্য অপেক্ষা তাদের। শুরু হলো মিউজিক আর বিশাল এক রংতুলি নিয়ে হাজির হলেন জাপানি ক্যালিগ্রাফি শিল্পী সাতোকো আজুমা। তিনি শিক্ষার্থীদের ক্যালিওগ্রাফি করে দেখাবেন-শেখাবেন। অপেক্ষার পালা শেষ শিল্পী শুরু করলেন ক্যালিওগ্রাফির ক্যারিকাচার। এ সময় শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে উপভোগ করেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জে জিঞ্জিরায় হামিদুর রহমান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও জাপান দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে এই ক্যালিগ্রাফি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি দলে ২০ জন করে মোট প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী দিনব্যাপী হাতে কলমে ক্যালিওগ্রাফি শেখার এই কর্মশালায় অংশ নেয়।
ক্যালিওগ্রাফি হলো হাতে লেখা চারুলিপি, হস্তলিপিশিল্প বা বিশেষ নকশা। এই শিল্পে মোটা কলম বা ব্রাশের সাহায্যে অক্ষরের নকশা করা হয়। জাপানি ভাষায় ক্যালিওগ্রাফির বাংলা অর্থ ছিল বন্ধুত্ব।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং জাপানের রাষ্ট্রদূত ইয়ামা কিমিনোরি একসঙ্গে পৃথক ব্যানারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতি আরও ঋদ্ধ হবে। বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যের সঙ্গে জাপানিজ কৃষ্টি, শিক্ষাদীক্ষা চর্চা ও অনুশীলন করতে পারলে আমাদের সংস্কৃতি হবে আরও মার্জিত। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতির উপাদানসমূহের প্রদর্শনী বাড়ানো গেলে সাংস্কৃতিক সম্পর্কও জোরদার হয়।
তিনি বলেন, স্কুল থেকেই শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে তাদের স্বপ্নটা আরও বড় হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গভীরতর হবে। সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক অভিব্যক্তি বিনিময় বৃদ্ধি পাবে। তা ছাড়া অংশগ্রহণকারীরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাপানি ক্যালিগ্রাফির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে পারবে। ক্যালিগ্রাফি করতে একাগ্রতা ও স্থির হতে হয় , যার মাধ্যমে নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
