আমাদের প্রস্তুতি তো আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার না

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ০৬:৫০ এএম

মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০৭ সালে তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অংশ নেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশ হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সেই জয়টাই দীর্ঘকাল হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্বে বাংলাদেশের একমাত্র জয় এবং এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জয়। লন্ডনে থাকা আশরাফুল আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে তার ভাবনা শুনিয়েছেন দেশ রূপান্তরের সামীউর রহমানকে

আপনি ২০০৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ অভিযানের অধিনায়ক ছিলেন। ২০২৪ বিশ্বকাপে খেলতে বাংলাদেশ দল মাত্রই পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দলটা কেমন হয়েছে?

আশরাফুল : দল ভালোই হয়েছে। যারা সুযোগ পাওয়ার, তারাই সুযোগ পেয়েছে। দলে যারা ডাক পেয়েছে, এর বাইরে খুব বেশি খেলোয়াড় যে আমাদের আছে, বাস্তবতা সে রকম নয়। যারা দলে আছে, তারা যদি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারে, তাহলে ভালো কিছু সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে কোচ, অধিনায়ক সবাই বলেন ভালো কিছুর বা ভালো ক্রিকেট খেলার। এই ভালো আসলে কতটুকু?

আশরাফুল : আমাদের যে দল তাতে আমরা প্রত্যাশা করি দ্বিতীয় পর্বে যাব। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমাদের প্রথম ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা আমাদের জেতা উচিত। এরপর নেদারল্যান্ডস আর নেপাল এই দুইটা ম্যাচও জেতা উচিত। এই তিনটি ম্যাচ জিতলেই তো দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া সম্ভব। এরপর বাকিটা দেখা যাক, টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো দলই তো যেকোনো দলকে হারাতে পারে।

যে কথাটা বললেন, এই যে টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো দলই যে কাউকে হারাতে পারে; এমনটা তো বাংলাদেশের সঙ্গে সেই ২০০৭ থেকে হচ্ছে না। বাংলাদেশ তো সেই যে আপনার সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পেরেছিল আর তো কোনো বড় দলকে হারাতে পারেনি...

আশরাফুল : (হাসি) এ জন্যই তো দক্ষিণ আফ্রিকার নাম বলিনি। আসলে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের ব্যবধানটা ২০১৩ সালের পর থেকে কমে আসছে। দেশে যে সিরিজটা হয়েছে, সেটা আমরাও জিততে পারতাম। জাকের আলি অনিক অসাধারণ একটা ইনিংস খেলেছে। গত বিশ্বকাপেও (ওয়ানডে) শ্রীলঙ্কাকে আমরা হারিয়েছে। আসলে ৫০-৫০ চান্স। ওরাও জিততে পারে, আমরাও জিততে পারি। যারা সুযোগগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাবে, তারাই জিতবে।

জাকের আলি অনিক, তাওহীদ হৃদয়, তানভির ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের এটা প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ। দলটায় অভিজ্ঞতার কি কিছুটা ঘাটতি দেখছেন?

আশরাফুল : না। দলে যারা আছে, তারা সবাই ঘরোয়া ক্রিকেটে ৫-৬ বছর ধরে খেলছে। তাওহিদ হৃদয় তো ৫-৭ বছর হয়ে গেল ঘরোয়া লিগ খেলছে। তানভিরও তাই। তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। তারা অনেক দিন ধরেই খেলছে। অন্যদের ঘাটতির জায়গাটা তারা পূরণ করবে আশা করি।

ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে খানিকটা প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে জিম্বাবুয়ে সিরিজেও ব্যাটসম্যানদের টানা ব্যর্থতা নিয়ে বোর্ড সভাপতিও ভয় পেয়েছেন। আপনার কী মত?

আশরাফুল : ব্যাটিং তো খারাপ হয়েছেই। তবে উইকেটও খারাপ ছিল। আর আমাদের ব্যাটসম্যানরা প্রতি ম্যাচেই ৩০-৪০ রান কম করেছে। টপ অর্ডার যেদিন ভালো করল, উদ্বোধনী জুটিতে ১০০ রানের জুটি হলো সেই ম্যাচে। এরপর ৪৩ রানে বাকি সব উইকেট পড়ে যাওয়াটা দুঃখজনক। যারা আছে, তাদেরই ভালো করতে হবে। নতুন করে কিছু করার নেই।

বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ৪-১ ব্যবধানে জিতে প্রস্তুতি শেষ করল বিশ্বকাপের। অনেকেই বলছেন, জিম্বাবুয়ের সঙ্গে খেলে ঠিক প্রস্তুতি হয় না। আপনার কী মনে হয়?

আশরাফুল : প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে, যা হওয়ার হয়েছে। আমাদের তো আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রস্তুতি না। আমাদের পর্যায়ে ভালোই প্রস্তুতি হয়েছে। যেমন আমাদের গ্রুপে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল, যদিও কখনো হয় না। তবে সেমিফাইনালে যাওয়ার মতো দল। ওদের প্রস্তুতি এক রকম, আমাদের আরেক রকম। ওদের ক্রিকেটারদের পাওয়ারের সঙ্গেই আমরা পারব না। এটাই বললাম যে আমাদের জন্য যে প্রস্তুতি দরকার, সেটা হয়েছে। প্রথম ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচটা জিতলে বিশ্বকাপটা বাংলাদেশের ভালো যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত