কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা তারা ইতোমধ্যে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। কিরগিজস্তানের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ডা. জেরিত ইসলাম সোমবার (২০ মে) বিকালে হোয়াটসঅ্যাপে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চার্টার্ড ফ্লাইটের জন্য ২৬ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাই যারা অপেক্ষা করতে চাচ্ছেন না তাদের আমরা নিরাপত্তা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। এখন পর্যন্ত ২০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে দেশে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন আর কেউ আমাদের আক্রমণ করছে না। তবে নিরাপত্তা নিয়ে এতটা চিন্তিত যে, তারা এখানে থাকতেই চাইছে না। চার্টার্ড ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা না করে যারা চলে যেতে চাইছে তাদের আমরা পাঠিয়ে দিচ্ছি।
এদিকে কিরগিজস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার নিজ মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত সেখানে বাংলাদেশি ছাত্রদের কোনো গুরুতর আহত বা প্রাণহানির খবর নেই।
মন্ত্রী জানান, পাশের দেশ উজবেকিস্তানের তাসখন্দে অবস্থানরত আমাদের রাষ্ট্রদূতকে সেখানে (বিসকেকে) যেতে বলা হয়েছে। তিনি স্থানীয় সময় বিকালে বিশকেকে পৌঁছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে ক্যাম্পাস ভিজিট করবেন এবং কিরগিজ পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। একজন শিক্ষার্থীর দেশে ফেরার জন্য খোলা চিঠি দেওয়া প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ ধরনের কোনো আবেদন করেননি।
গত ১৩ মে বিশকেকে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশরীয় শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। পরে মিশরীয় শিক্ষার্থীরা স্থানীয়দের মারধর করে। কয়েকদিন পর ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর ওই ভিডিও দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে সব বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় স্থানীয়রা।
কিরগিজস্তানের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাদের সবাই মেডিকেল শিক্ষার্থী।
কিরগিজস্তান থেকে দেশে ফিরতে চান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা 