শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

'হাততালি চাই না, আমাদের ঘামে ভেজা শার্ট যেন বিফলে না যায়'

আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ১১:০৩ পিএম

'এটাই আমাদের অফিস, এভাবেই ঢাকা মেডিক্যাল এ আমরা রোগী দেখি। এত রোগী , তাই ওঠা বসার সময় বাঁচাতে আমি এবং আমাদের কনসালটেন্ট প্রায়ই দাঁড়িয়ে রোগী দেখি। তাপমাত্রা যাই হোক , যত কষ্ট হোক, কাউকে না দেখে, অপারেশন না করে , কোনোদিন কাউকে বিমুখ করা হয়নি স্বজ্ঞানে'-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবেই নিজের রোগী দেখার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) সহকারী সার্জন ডা. রাকিবুল আমিন বিজয়।

তিনি তার পোস্টের নিচে লিখেন, 'হাততালি চাই না, শুধু চাই আমাদের ঘামে ভেজা শার্ট কিংবা আকশচুম্বী স্ট্রেস যেন বিফলে না যায়। যারা ছবিতে নেই তাদেরও নাভিশ্বাস । আমরা এভাবেই অভ্যস্ত'। তার এই লাইনগুলোতে যেকোনো মানুষের চোখ আটকে যাবে, হৃদয়ে নাড়া দেবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের থোরাসিক সার্জারি বিভাগের তার কক্ষের একটি ছবি তিনি শেয়ার করেন। যেখানে দেখা যায়, কক্ষের ভেতরে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে আছেন বেশ কয়েকজন রোগী। তাদের মধ্যে দুজনকে বসে থাকতে দেখা গেলেও বাকিরা সবাই দাঁড়িয়ে। এই রোগীদের কারও হাতে রয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট, কেউ কেউ চিকিৎসক দেখাতে অপেক্ষা করছেন। এই রোগীদের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে এক রোগীর রিপোর্ট দেখছেন ডা. রাকিব।

তবে এই চিত্র কেবল ডা. রাকিবুল আমিন বিজয়ের একার নয় ঢাকা মেডিক্যালের অধিকাংশ চিকিৎসকের। এই চিকিৎসকদের নিজের বসার জন্য আলাদা কক্ষ নেই, যথেষ্ট বাথরুম নেই ফলে একসঙ্গে অনেককেই শেয়ার করতে হয়। তাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ নেই, ফ্যান কখনো ঘুরে তো কখনো থেমে যায়। রোগীর ভিড়ে ঘামতে গিয়ে আবার রোগী দেখতে দেখতেই সেই ঘাম মুছে যায়।

ঢাকা মেডিকেলের বেশ কয়েকজন নবীন চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা যখন বহির্বিভাগে রোগী দেখি তখন দরজার বাইরে রোগীদের ভিড় থাকে। অনেকেই দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন। আমরাও একের পর এক রোগী দেখতে থাকি। কত যে রোগী দেখি তার হিসেবও রাখি না। আমরা কেবল নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে চাই, এই সাধারণ মানুষদের ট্যাক্সের টাকায় আমরা পড়াশোনা করেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র অধ্যাপক দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনেক বিভাগে নারী চিকিৎসকদের জন্য আলাদা বাথরুম নেই। পিরিয়ডসের সময় পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে বাথরুম শেয়ার করা বিড়ম্বনার। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই, যা আছে তা দিয়ে কাজ চালাতে নাভিশ্বাস ওঠে। আমরা রোগীদের ফিরিয়ে দিলে তাদের যাওয়ার জায়গা থাকে না। তাই ক্লান্তি ভুলে সেবা দিয়ে যাই।

তিনি বলেন, এই হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিভিন্ন নেতিবাচক সংবাদও প্রচার হয়। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে এটা সামগ্রীক চিত্র নয়। রোগীর চাপ নিতে গিয়ে হয়তোবা সামান্য খারাপ আচরণ করে থাকেন কিন্তু সংখ্যায় তা কম। অথচ এর বাইরে আমাদের লড়াইয়ের গল্প গণমাধ্যমে জায়গা পায় না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত