দিল্লিতে রেকর্ড তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি, ৫ দিনের 'রেড অ্যালার্ট' জারি

  • সোমবার রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল, স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৭ ডিগ্রি বেশি
  • সোমবার নাজাফগড়ে সর্বোচ্চ ৪৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে
আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ০২:০৪ পিএম

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৭ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে পাঁচ দিনের ‘লাল সতর্কতা’ (রেড অ্যালার্ট) জারি করেছে দিল্লির রাজ্য সরকার।

গতকাল সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে এই রেড অ্যালার্টের মেয়াদ। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মৌসুমে এটিই দেশটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। চলতি সপ্তাহেও তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সাম্প্রতিক দিনগুলিতে তাপমাত্রার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি দেখছে দিল্লি। গ্রীষ্মকালে সাধারণত দিল্লিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি বা তার কিছু ওপরে থাকে। কিন্তু এবারের গ্রীষ্মে যে গরম পড়েছে, তা স্বাভাবিক নয় বলে জানিয়েছেন নয়াদিল্লির আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) কর্মকর্তারা।

বিশেষ করে গত চার দিনের প্রতিদিনই তাপমাত্রা বেড়েছে ভারতের রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে।

সোমবার রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল, স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৭ ডিগ্রি বেশি। রোববার দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় ৪৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করার একদিন পর সোমবার নাজাফগড়ে সর্বোচ্চ ৪৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

এদিকে ভয়াবহ গরম এবং তাপপ্রবাহের কারণে ইতিমধ্যে দিল্লিতে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার বিকেল ৩ টা ৩৩ মিনিটে নয়াদিল্লিতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭ হাজার ৫৭২ মেগাওয়াটে। এটি দিল্লিতে একদিনে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদার রেকর্ড। এর আগের রেকর্ডটি হয়েছিল গত বছর ২২ আগস্ট। ওই দিন বিদ্যুতের চাহিদা পৌঁছেছিল ৭ হাজার ৪৩৮ মেগাওয়াটে।

অন্যদিকে গরমের কারণে ১১ মে -৩০ জুন পর্যন্ত স্কুল ছুটির নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লির রাজ্য সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু যেসব স্কুল এখনো ছুটি ঘোষণা করেনি, গতকাল সোমবার রেড অ্যালার্ট জারির পাশাপাশি অবিলম্বে সেসব স্কুলকে ছুটি ঘোষণা করতে নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির রাজ্য সরকার।

তীব্র তাপপ্রবাহে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন-আয়ের মানুষগুলো। বিশেষ করে যারা কাজের নিয়মিত বের হচ্ছেন তারা ঝুঁকিতে পরে যাচ্ছেন।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে, এই বছর দীর্ঘতর এবং আরো তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়তে পারে দেশটি।

আর তাই তাপপ্রবাহ, হিটস্ট্রোক এবং গরমজনিত অসুস্থতা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লোকজনকে খুব জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমডি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত