মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তামিমের নাম রেখেছিলেন তার দাদা-দাদি

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০১:৫০ পিএম

জাতীয় দলের ক্রিকেটার তানজিদ হাসান তামিম। যুব দলের হয়ে জিতেছেন বিশ্বকাপ। দেশের ক্রিকেটের সেরা সাফল্য ধরা হয় এটিকেই। তাকে ভাবা হয় তামিম ইকবালের উত্তরসূরি হিসেবে। গত বছর ভারতে শেষ হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপেও সিনিয়র তামিম নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় কপাল খুলে জুনিয়র তামিমের। ছোটোবেলা থেকেই খেলা পাগল এই ছেলেটার বাবা-মা কি তবে চট্টগ্রামের খান পরিবারের ছোটো ছেলেটাকে দেখেই বগুড়ার এই তরুণের নাম রাখা হয়েছিল!

এনিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে দীর্ঘদিনের কৌতুহল। সব কৌতুহল মিটিয়ে অবশেষে জুনিয়র তামিম নিজেই জানালেন সেটা। কে রেখেছিল তার নাম। আর কেনইবা এই নাম।

বিসিবিকে দেওয়া এক ইন্টারভিউতে তিনি নিজের নাম কে রেখেছিল সেটা জানিয়ে বলেন, ‘আসলে এই নামটা রেখেছিলেন আমার দাদা আর দাদি দুজনে মিলে। যখন নামটা রাখেন তখন এইটা (তামিম ইকবালের কথা) ভেবে রাখেননি। তবে আমার বাবা-মা দুজনেই আমাকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করেন।’

নব্বইয়ের দশকের এবং বর্তমান শতাব্দির শুরুর দিকের সব বাবা-মায়ের স্বপ্ন থাকত ছেলে বড় হয়ে হবে ডাক্তার নয়তো ইঞ্জিনিয়ার। তানজিদ তামিমের বাবা-মাও সেটাই চেয়েছিলেন। আর তাই তো গ্রাম থেকে শহরে এনে ভর্তি করিয়েছিলেন বগুড়ার জেলা স্টেডিয়ামে। তবে ক্রিকেটপাগল তামিমের মন পড়ে থাকত মাঠে। যখনই সময় পেতেন তখন ক্রিকেট খেলাতেই ব্যস্ত থাকতেন।

ছেলের এই আগ্রহ দেখে মা কি বলতেন সেটা শোনা যাক তামিমের কণ্ঠেই, ‘বাসায় অনেক টিচার আসতেন। স্কুল শেষ করে আসলে বাসায় টিচার আসতেন, এমনকি রাতের বেলাও। তাই সময় পাওয়াটা কঠিন ছিল। তো আম্মু আমায় বলত যদি স্কুল থেকে আসার পর স্যারদের পড়াটা আমি শেষ করে রাখি তাহলে বিকেলে আমায় পড়ার সুযোগটা দেবে। তিনি আরও বলতেন, যদি রেজাল্ট ভালো করি তাহলে আমায় একাডেমিতে ভর্তি করবেন। এইসব শর্তে আমিও ভালো রেজাল্ট করতাম। আর আম্মু আমায় খেলতে দিতো। আমি জানিনা কিভাবে কি হয়েছে। তবে ছোটোবেলার ঐ নেশাটা আমায় আজকের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।’

মায়ের স্নেহের সঙ্গে অবশ্য ছিল বাবার কড়া শাসনও। সেই কঠোরতা নিয়ে খুব বেশি কিছু বলতে চাননি তামিম। তবে যেটুকু বলেছেন তা হলো, ‘আব্বু যখন অফিস থেকে বাসায় ফিরত, দেখত আমি বাসায় নেই। অথবা স্যার বাসায় এসে বসে আছে, আমি মাঠে খেলতে গেছি। তো এজন্য বাবা আমার ওপর অনেক রাগ হইত। তবে বাবার এই কঠোরতা নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না। এখন আমার বাবা-মা দুজনেই খুব সাপোর্টিভ। ভালো-খারাপ দুই সময়ই আমার পাশে থাকে। তো আলহামদুলিল্লাহ।’

সেই বগুড়ার তামিম আর এখন জাতীয় দলের ক্রিকেটার তামিমের মধ্যে কি পার্থক্য খুঁজে পান জানতে চাইলে এই ওপেনার বলেন, ‘আমার মাঝে খুব একটা পরিবর্তন নেই। ছোটোবেলায় যারা আমার বন্ধু ছিল, তারাই এখনও আছে। যাদের সঙ্গে খেলতাম তারাও এখন গর্ব করে আমায় নিয়ে। গ্রামে গেলে এখনও আড্ডা দেই সবার সঙ্গে।’

নিজের কাছে গর্ব হয় কোন অর্জন নিয়ে? এমন প্রশ্নের জবাবে তামি বলেন, ‘আমরা যখন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে যাই, তখন সবার একটা বিশ্বাস ছিল আমরা ভালো কিছু করব। আমরা সেটা পেরেছি। সবাই এটা নিয়ে গর্ব বোধ করে। এটা জেতার একটা অন্যরকম অনুভূতি। আমার কাছে এটা অনেক বেশি গর্বের।’

তামিম ইকবাল বিশ্বকাপ থেকে নিজের নাম সরিয়ে নেওয়ায় কপাল ‍খুলেছিল তার। আর তাই নিজেকে ভাগ্যবান দাবি করে এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘বিশ্বকাপ খেলতে পারাটা একটা ভাগ্যের ব্যাপার। আমি অনেক ভাগ্যবান যে এবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে পেরেছি। হয়তো প্রত্যাশা মেটাতে পারিনি। তবে যে বিষয়গুলো আমি আরও দু বছর পরে শিখতাম, সেটা দুই বছর আগেই শেখা হয়ে গেছে। সেখানে অনেক বড় ক্রিকেটারদের দেখেছি। তাদের ম্যাচুরিটি লেভেল দেখেছি। যে জিনিসটা আমার পরবর্তী লেভেলে অনেক সহায়তা করবে।’

তিনি যোগ করেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলাটাও ভাগ্যের। আমি চেষ্টা করব নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে দলকে ভালো কিছু দেওয়ার। আমার ইনটেন্ট সবসময় পজিটিভ থাকে। আমি কখনও বোলার দেখে খেলি না। বলটা দেখে খেলি। চেষ্টা থাকবে সেইম প্রসেস মেইন্টেইন করার।’

‘আমি কখনও কোনো গোল সেট করি না। সবসময় ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলার চেষ্টা করি। বর্তমানে থাকতেই স্বাচ্ছন্ধ্য বোধ করি। চেষ্টা করব ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোনোর। এবং প্রত্যেকটা ম্যাচে ভালো ইনিংসে খেলে দলের জন্য অবদান রাখার’, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের লক্ষ্য নিয়ে এমনটাই বলেন দেশের ক্রিকেটের জুনিয়র তামিম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত