নিত্যপণের বাজার মোটেই অনুকূলে নেই সাধারণ ক্রেতাদের। প্রতি হালি ডিমের দাম ছাড়িয়েছে ৫০টাকা যা এলাকার দোকানে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। কাঁচামরিচের কেজি ছাড়িয়েছে ২০০ টাকা। বাড়তি আলু-পেঁয়াজের দামও। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরকার কঠোরভাবে বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিলেও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কিছুতেই কমছে না। মজুতদাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যখন-তখন ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ ও ক্ষোভের শেষ নেই।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাড়া-মহল্লার দোকানে ৫৫ টাকা হালিও বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকা, আর তিন সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ। বাড়তি আলু-পেঁয়াজের দামও।
বাজারে এখন মাছ-মাংসের দামও বেশ চড়া। এসময়ে আমিষের চাহিদা পূরণে ডিমই ভরসা নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত তথা সীমিত আয়ের মানুষের। তবে এ পণ্যটির দাম হঠাৎই বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
প্রান্তিক খামারিরা ডিমের দাম কমা-বাড়া নিয়ে তেজগাঁও আড়ত মালিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, কিছুদিন আগেই ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দেন আড়ত মালিকরা। সে সময় সারাদেশে ডিম হিমাগারে মজুত হয়েছে। এখন দাম বাড়িয়ে তারা মুনাফা করছে।
বাজারে এখন ব্রয়লার মুরগির কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। তবে সোনালী মুরগির দাম আগের মতোই ৪০০ টাকা কেজিতে আটকে আছে। যা স্বাভাবিক সময় ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতো।
গত প্রায় তিন-চার সপ্তাহ ধরে সবজির দামও চড়া। বাজারে এখন প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে। কাকরোল, বরবটিরও একই দাম। এমনকি বছরজুড়ে তুলনামূলক সস্তায় পাওয়া পেঁপের কেজিও এখন ৮০ টাকা। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বাজারে এখন প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত।
বেড়েছে পেঁয়াজের দামও। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৫ টাকা বেশি। এছাড়া আদা বা রসুন ২২০ থেকে ২৪০ টাকার কমে মিলছে না। আলুর কেজি গত সপ্তাহে ৫০ টাকা থাকলেও তা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এছাড়া গত দুই সপ্তাহ ধরে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে মাছের দামও বেড়েছে। মাছ কিনতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। নদী ও হাওরের মাছ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে গেছে অনেক আগেই। চাষের মাছও এখন বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
