‘আমি এখানে থাকলে নিশ্চিত মারা যাব’

আপডেট : ২৪ মে ২০২৪, ০৭:৩৩ পিএম

সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরীয় মাল্টা উপকূলে দুর্দশাগ্রস্ত একটি নৌকায় থাকা ৩৫ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে মানবিক উদ্ধার জাহাজ ওশান ভাইকিং। সেই জাহাজে থাকা দুই যুবকের গল্প তুলে ধরেছে ইনফোমাইগ্র্যান্টস। ওই দুই যুবকের নাম সিয়াম ও মোহাম্মদ। মানবপাচারকারীর খপ্পরে পড়ে তারা বন্দিজীবন কাটাচ্ছিলেন। 

বেনগাজিতে দালালরা টাকার জন্য তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করেন।  নির্যাতন থেকে বাঁচতে ওই দুই যুবক নৌকায় ভূমধ্যসাগড় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই অভিজ্ঞতার কথাই বলেছেন ইনফোমাইগ্র্যান্টস কাছে।

দেশ থেকে শুরু করা যাত্রা ইউরোপে এসে শেষ হবে, এমন কথা কখনো ভাবেননি তারা। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ওই দুই যুবক লিবিয়ায় পাড়ি জমান। কিন্তু লিবিয়া তাদের জন্য নরকে পরিণত হয়েছিল। অবস্থা ভয়াবহ হওয়ায়, সেখান থেকে পালাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তারা। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

২৫ বছর বয়সি মোহাম্মদ নির্যাতনের বর্ণনায় বলেন, ‘তারা (লিবিয়ার মানবপাচারকারীরা) আমার পায়ে আঘাত করেছে। আমার শরীরে অনেক জায়গায় আঘাত করেছে। তারা ‘নখ উপরে ফেলার’ হুমকি দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।

উপার্জন করে পরিবারের জন্য অর্থ পাঠাবেন, সংসারে স্বচ্ছ্বলতা ফিরবে—এমন স্বপ্ন নিয়েই লিবিয়া এসেছিলেন মোহাম্মদ। কিন্তু অভিজ্ঞতাটা মোটেই সেরকম ছিল না। সেই তরুণ আরও বলেন, ‘আমি যদি এখানে (লিবিয়া) থাকি, আমি নিশ্চত মারা যাব৷’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যাই ঘটুক না কেন, এই জায়গা আমাকে ছাড়তেই হবে৷’

২০ বছর বয়সি আরেক বাংলাদেশি তরুণ সিয়াম বললেন, ‘যদি আপনি টাকা দিতে পারেন, তাহলে আপনি মুক্তি পাবেন। নয়তো অনেক নির্যাতন করে তারা।’

তিনি আরও বলেন, মানবপাচারকারীরা আমাদের মারধর করে তার ভিডিও ধারণ করতো। সেই ভিডিও আমাদের পরিবারে পাঠিয়ে টাকা চাওয়া হতো। টাকা না পাঠালে তারা আমাদের মেরে ফেলবে এমন হুমকি দিত।

কয়েকশ ইউরো খরচ করে বিমানের টিকিট কিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে লিবিয়ায় এসেছিলেন ভুক্তভোগী দুই যুবক। আশা ছিল কৃষি, তেল বা নির্মাণ খাতে চাকরি পাবেন তারা। অবশ্য কেউ কাউকে চিনতেন না। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার সময় তাদের পরিচয় হয়।  

গত ১৯ মে ভূমধ্যসাগরীয় মাল্টা উপকূলে দুর্দশাগ্রস্ত একটি নৌকায় থাকা ৩৫ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে মানবিক উদ্ধার জাহাজ ওশান ভাইকিং। সেই উদ্ধার অভিযানে থাকা এক সাংবাদিক ওই দুই যুবকের স্বাক্ষাৎকার নেন। উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা জানিয়েছে, তারা কমপক্ষে দুই দিন এবং দুই রাত সমুদ্রে ভেসেছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় এনজিও অ্যালার্ম ফোন ঝুঁকিতে থাকা নৌকার ব্যাপারে জানালে এসওএস মেডিটারানে তাদের উদ্ধার জাহাজকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠায়। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত