ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ১১:২০ পিএম

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় উপকূল এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। আজ শনিবার বিকেল পৌনে ৪টায় এক জুম মিটিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এ সময় মহাপরিচালক মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা, বিকল্প বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা তৈরি রাখা, মোবাইল যোগাযোগ নিরবিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ এর বাফার স্টক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।

পাশাপাশি তিনি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণকে উপকূলীয় হাসপাতালগুলোর যেকোনো চাহিদা তাৎক্ষনিকভাবে পূরণের নির্দেশ দেন।

একই সাথে স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যাবস্থাও নিশ্চিত করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেন।

জুম মিটিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরো জানান, জেনেভা থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন সার্বক্ষণিক খোজ নিচ্ছেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

সভার বিস্তারিত আলোচনা শেষে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এগুলো হলো—

১. জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখতে হবে। জরুরী বিভাগে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করতে হবে।

২. খাবার স্যালাইনসহ জরুরি প্রতিরোধ ও প্রতিষেধক ওষুধ ও উপকরণ উপকূলবর্তী জেলায় পর্যাপ্ত মজুত রাখতে হবে।

৩. প্রয়োজনীয় সংখ্যক পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং সাপে কামড় দেওয়া রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অ্যান্টিভেনম মজুত রাখতে হবে।

৪. উপকূলবর্তী এলাকায় মাঠ কর্মীদের (স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারীসহ অন্যান্য) মাধ্যমে উপদ্রুত অঞ্চলে নিয়মিত পরিদর্শন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

৫. কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. প্রয়োজনীয় সংখ্যক পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং সাপে কামড় দেওয়া রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অ্যান্টিভেনম মজুত রাখতে হবে।

৪. উপকূলবর্তী এলাকায় মাঠ কর্মীদের (স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারীসহ অন্যান্য) মাধ্যমে উপদ্রুত অঞ্চলে নিয়মিত পরিদর্শন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

৫. কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনে কর্মকর্তা/কর্মচারীর নৈমিত্তিক ছুটি বাতিলসহ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এই সময়ে মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাগণের যেকোনো ট্রেইনিং কয়েকদিন পিছিয়ে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে আয়োজন করতে হবে।

৭. ২৫ মে ২০২৪ইং তারিখ রাতে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাবৃন্দকে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করা নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

৮. স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাম্বুলেন্সসমূহ প্রয়োজনীয় জ্বালানিসহ প্রস্তুত রাখতে হবে। যেসকল স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সচল আছে, সেসকল ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স মেডিকেল টিম এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানিসহ প্রস্তুত রাখতে হবে।

১০. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। (নিয়ন্ত্রণ কক্ষের জরুরি হটলাইন নম্বর ০১৭৫৯১১৪৪৮৮)

১১. সর্বোপরি সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত