সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রিমান্ডে একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছে শিমুল

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ০৯:১৬ এএম

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকান্ডের লাশ উদ্ধারই করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যেকোনো উপায়ে তারা লাশের টুকরো উদ্ধার করতে নানা কৌশলে এগোচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য পেয়ে বাংলাদেশ ও কলকাতার তদন্তকারী দল সেই চেষ্টাই চালাচ্ছেন। 

খুলনা অঞ্চলের পেশাদার কিলার ও চরমপন্থি নেতা শিমুল এমপি আনার কিলিং মিশন সরাসরি বাস্তবায়ন করেছেন, সেটা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল খুনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে কয়েক ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন। এমনকি লাশের খন্ডিত অংশ যে স্থানে বা খালে ফেলার কথা বলেছেন, তা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদ-সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, খুনের পরিকল্পনার আলাপ-আলোচনায় শাহীন, শিমুল ও অন্যান্য ঘাতক অ্যাপে কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে শিমুল ইন্দোনেশিয়ার একটি ফোন নম্বর ব্যবহার করেছেন। আনারকে খুনের কারণ হিসেবে শিমুল জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ‘এমপি আনারের ওপর দীর্ঘদিন থেকেই তার ব্যাপক ক্ষোভ ছিল। শিমুলের বোন লুচি খানমের সঙ্গে তার ফুপাতো ভাই ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর সদরের ডা. মিজানুর রহমান টুটুলের বিয়ে হয়েছিল। পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা) কেন্দ্রীয় নেতা টুটুল ছিলেন শাহীনের চাচাতো ভাই। সেই হিসেবে তারা ছিলেন বেয়াই। ২০০৯ সালের ২৫ জুলাই র‌্যাব  ঢাকার উত্তরা থেকে ডা. টুটুলকে আটক করে। ওই বছর ২৭ জুলাই ভোররাতে নওগাঁয় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান বিসিএস ক্যাডার এ চিকিৎসক। টুটুলের আটক হওয়া ও পরে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার ঘটনায় এমপি আনারকেই দায়ী করতেন শিমুলসহ এমএল-লাল পতাকার নেতাকর্মীরা। তাই আনারের ওপর পুরনো ক্ষোভ ছিল শিমুলের। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল আরও জানান, আনারের ইন্ধনে ২০০৭-০৮ সাল থেকে বিপুলসংখ্যক এমএল-লাল পতাকার নেতাকর্মী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার এবং ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান। আনারের কারণে শিমুল নিজেও বহু বছর আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গ্রেপ্তারও হন। সবকিছু মিলিয়ে আনারের ওপর শিমুলের ক্ষোভের মাত্রা ছিল ব্যাপক। তাই যখনই আনারকে হত্যার জন্য শাহীন প্রস্তাব দেন তখন শিমুল তাতে রাজি হয়ে যান। শাহীনের পরিকল্পনা অনুযায়ী শিমুল নিজে উপস্থিত থেকে কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করেন।

ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, শিমুল গ্রেপ্তারের পর ডিবির কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, এমপি আনারকে একটি চেয়ারে বসিয়ে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ টুকরো টুকরো করে খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে খুনের আরেক রকম বর্ণনা দেন। বলেন, খুনের উদ্দেশ্যে নয়, আপত্তিকর ছবি তুলে (ব্ল্যাকমেইল করে) টাকা আদায়ের লক্ষ্যে আনারকে তারা ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়েছিলেন। অতিরিক্ত চেতনানাশক (ক্লোরোফর্ম) প্রয়োগের ফলে আনারের জ্ঞান ফেরেনি। এরপর তাকে বালিশচাপা দিয়ে খুন করা হয়। আবার বলেন, খুনের আগে স্বর্ণ ও হুন্ডির টাকা কোথায় রেখেছে এ নিয়ে বাগ্বিতন্ডায় জড়ান আনার। একপর্যায়ে সিয়ামসহ অন্যদের সঙ্গে আনারের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তার মুখে চেতনানাশক স্প্রে করা হয়। মরদেহ গুম করতে লাশের খণ্ডিত অংশ বাইরে ফেলা নিয়েও একেকবার একেক রকম তথ্য দেয় পেশাদার কিলার শিমুল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত