শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিয়ের ১২ দিন পর স্বামী জানতে পারলেন তার স্ত্রী পুরুষ

  • এক বছর পর বিয়ের পরিকল্পনা
  • অসুস্থতাসহ নানা অজুহাতে স্বামীর ঘনিষ্ঠতা এড়ানোর চেষ্টা করেন
আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ১০:০৪ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে-অপরের পরিচয়। ধীরে ধীরে পরিচয় পরিণত হয় ভালোবাসায়। এরপর এক বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর অবশেষে হলো বিয়ে। কিন্তু বিয়ের পরই প্রকাশ পেল কনে আদিন্দা কানজার আসল রহস্য। ইন্দোনেশিয়ার ২৬ বছর বয়সী সেই যুবক বিয়ের ১২ দিন পর জানতে পারেন, তার স্ত্রী আসলে একজন ছদ্মবেশী পুরুষ। 

এই ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই স্বামী। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার স্ত্রীরূপী যুবককেও। সোমবার (২৭ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই স্বামীর নাম একে (ছদ্মনাম)। তিনি ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের নারিঙ্গুল অঞ্চলের বাসিন্দা। ২০২৩ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ২৬ বছর বয়সী আদিন্দা কানজার সাথে তার পরিচয় হয়। পরে দুজনেই দ্রুত সামনা-সামনি দেখা করার পরিকল্পনা করেন। একে বলেন, কানজা সর্বদা ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পোশাক পরতেন যার ফলে তাদের দেখা করার সময় তার পুরো মুখ ঢেকে থাকত এবং সে নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান বলে দাবি করত।

একে বলেন, কানজার নেকাব পরার বিষয়টি তার খারাপ লাগেনি এবং এটিকে ইসলামের প্রতি ‘ওই তরুণীর’ ভক্তির চিহ্ন হিসেবেই দেখেছিলেন তিনি। এর প্রায় এক বছর পর তারা দুজনেই তাদের বিয়ের পরিকল্পনা শুরু করেন। তবে কানজা সেসময় জানান, তার বিয়েতে কেউ থাকতে পারবে না, কারণ বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য তার পরিবারের কোনো সদস্যই নেই। এরপর তারা গত ১২ এপ্রিল একে-এর বাড়িতে বিয়ে করেন।

কানজা এমনকি বিয়ের দিন যৌতুক হিসাবে ৫ গ্রাম (প্রায় আধা ভরি) স্বর্ণও সঙ্গে এনেছিল, তবে এই দম্পতি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিবাহের নিবন্ধন করেননি। যাইহোক, বিয়ের পরেও আদিন্দা ক্রমাগত তার স্বামীর কাছ থেকে নিজের মুখ লুকিয়ে রাখতে থাকে এবং গ্রামে স্বামীর পরিবার এবং বন্ধুদের সাথেও মেলামেশা করতে অস্বীকার করে। এমনকি ঋতুচক্রের মতো মাসিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখসহ নানা অজুহাতে স্বামীর ঘনিষ্ঠতা এড়ানোর চেষ্টাও চালাতে থাকেন তিনি।

ছদ্মবেশী পুরুষ

দিনের পর দিন নববিবাহিতা স্ত্রীর এমন সন্দেহজনক আচরণের পর, একে তার স্ত্রীর বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানতে পারেন, আদিন্দার বাবা-মা এখনও জীবিত আছেন এবং তারা তার সন্তানের বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না।

একে আরও আশ্চর্য হন যখন জানতে পারেন, তার স্ত্রী আদিন্দা আসলে একজন পুরুষ এবং তার প্রকৃত নাম ‘ইএসএইচ’, যিনি ২০২০ সাল থেকে নারীদের মতো পোশাক পরছেন।

পুলিশের তদন্তের সময় ইএসএইচ নামের ওই যুবক জানিয়েছে, সে তার স্বামীর পরিবারের সম্পদ চুরি করার জন্য এই বিয়ে করেছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ তার কণ্ঠস্বরকে নারীর মতো বলে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, নারী হিসেবে সে সত্যিই ভালো অভিনয় করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত