মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কোটি টাকার ওপর বিল বকেয়া, পৌরসভা কার্যালয়ের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ০৭:৫২ পিএম

প্রায় ১ কোটি ২৮লাখ ৬৮ হাজার ১ শত ২৩ টাকা বকেয়া থাকায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বিদ্যুত বিতরণ বিভাগ ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বেলা পৌনে একটার দিকে পৌরসভার কার্যালয় ভবনের ৬ টি প্রি- পেইড মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এ নিয়ে বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও তাদের সহযোগীদের বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগ স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাতকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং পৌরসভার কার্যালয়ে উভয়পক্ষ নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে প্রায় দেড়ঘণ্টা পরে দুপুর ২ টা ১০ মিনিটের দিকে পুনরায় ৬ টি মিটারে বিদ্যুত সংযোগ দেন কর্তৃপক্ষ।

কুমারখালী ওজোপাডিকো কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৮৬৯ সালে স্থাপিত কুমারখালী পৌরসভায় ৯টি বিদ্যুত মিটার রয়েছে। তার মধ্যে ২০০৭ সাল থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ৬টি মিটারে প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ১২৩ টাকা বিদ্যুত বিল বকেয়া রয়েছে। বিল পরিশোধের জন্য বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে নোটিশ প্রদান করেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৮ মে নোটিশ পাঠানো হয়। তবুও বিল পরিশোধ না করায় বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে একটার দিকে ৬টি মিটারের বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে উভয়পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে ২ টা ১০ মিনিটের দিকে পুনরায় বিদ্যুত সংযোগ চালু করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

তবে পৌর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ করেছে বর্তমানে পৌরসভার বিদ্যুৎ খরচ হয় ২২ থেকে ২৮ হাজার টাকা আগে সে সময় প্রতিমাসে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বিল আসতো। এর পেছনে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি ছিল সে কারণে আমরা বকেয়া বিল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করেছে, সে সময় পানির পাম্প গুলো চলতো বড় মোটর দিয়ে এবং প্রতিটি পাম্প হাউজের অপারেটররা হিটার জ্বালিয়ে রান্নাবান্না করতেন পাশাপাশি পৌরসভার বাতিগুলো ছিল ১০০ ওয়ার্ডের আর এখন জ্বলে ৩ ওয়ার্ডের তাছাড়াও প্রিপেইড হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন ও সাশ্রয়ী হয়েছে।

প্রতিমাসে প্রায় দেড় দুই লাখ টাকার বিদ্যুত খরচ কমে যাওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয় আর এই সন্দেহের জায়গা থেকে বিল পরিশোধে তালবাহানা শুরু করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। এরপর বর্ধিত বিলের প্রতিকার চেয়ে ২০২৩ সালে জুনমাসে কুষ্টিয়া সিভিল কোর্টে একটি মামলা করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। ওই মামলা চলমান রয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার কার্যালয় ভবনের সামনের সড়কে পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ ও উৎসুক জনতা। তাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুপুর ১ টা ১৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত উপস্থিত হয়ে তিনি উভয়পক্ষকে নিয়ে মেয়রের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে দুপুর ২ টা ১০ মিনিটের দিকে পুনরায় বিদ্যুত সংযোগ দেন বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর মেয়র সামছুজ্জামান অরুণ প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি জানান, বিলের রেট নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তা মিটমাট হয়ে গেছে। এটা রিপোর্ট করার মতো কোনো ঘটনা নয়।

কুমারখালী ওজোপাডিকোর আবাসিক প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা জানান, পৌরসভায় ২০০৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এক কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ১২৩ টাকা পুঞ্জিভূত বকেয়া বিল রয়েছে। বারবার বিল পরিশোধের নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবুও পৌর কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ না করায় আজ ৬ টি মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে উপজেলা প্রশাসন উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপর প্রায় দেড়ঘণ্টা পরে পুনরায় পৌরভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, দুটোই সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেজন্য উভয়পক্ষ নিয়ে বসা হয়েছে। খুব দ্রুত উভয়পক্ষ তাদের সমস্যা মিটিয়ে নেবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত