মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের কয়েকটি স্থানে ধসে পড়েছে। এ ছাড়া উপজেলার কুশিয়ারচর এলাকায় আপৎকালীন সময়ের ফেলা জিও ব্যাগও এখন নদীতে। এতে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে পদ্মাতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের মেরামত করা না হলে আরও বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
গত রবিবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়া বয়ে যায়। এর মধ্যে গত সোমবার বিকেলের দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর ও গোপীনাথপুরে সদ্য নির্মিত পদ্মার তীর রক্ষার অস্থায়ী বাঁধে ধসের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, হরিরামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নই নদীভাঙন-কবলিত। এর মধ্যে সুতালড়ী, আজিমনগর ও লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন তিনটি সত্তরের দশকে নদীতে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গিয়েছিল। পরে সেখানে চর জেগে উঠলে কয়েক বছর আগে থেকে সীমিত পরিসরে লোকজন বসবাস শুরু করে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে নদীর তীর রক্ষায় অস্থায়ী বাঁধের কাজ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার ধূলশুড়া, হারুকান্দি, বয়ড়া, রামকৃষ্ণপুর, গোপীনাথপুর ও কাঞ্চনপুরএই ছয় ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে তীর রক্ষায় অস্থায়ী বাঁধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়। ধূলশুড়া ও গোপীনাথপুর এলাকায় এ কাজ এখনো চলমান। এ ছাড়া চরাঞ্চলে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
সরেজমিনে ভাঙনকবলিত রামকৃষ্ণপুর ও গোপীনাথপুরে গিয়ে দেখা গেছে, সদ্য নির্মিত পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে টানা বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে বাঁধের জিও ব্যাগ ধসে নদীতে পড়েছে। এ ছাড়া কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কুশিয়ারচর এলাকায় আপৎকালীন সময়ে ফেলা জিও ব্যাগও ধসে গেছে নদীতে। ফলে পদ্মাতীরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
রামকৃষ্ণপুর গ্রামের নাজমুল হাসান বলেন, ‘ভারী বর্ষণ আর তীব্র ঢেউয়ে রামকৃষ্ণপুর এলাকায় পদ্মাপাড়ের তীর রক্ষা বাঁধের কয়েক জায়গায় জিও ব্যাগ ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত মেরামত করা না হলে আরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
কুশিয়ারচর গ্রামের শামীম গাজী বলেন, ‘দুদিনের ঝড় আর টানা বৃষ্টিতে নদীর তীর রক্ষায় ফেলা জিও ব্যাগ ধসে গেছে। এ ছাড়া মালুচী গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় এখনো জিও ব্যাগ পড়েনি। ওই এলাকায় প্রায় এক মাস আগে থেকে জোয়ারের স্রোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই দুদিনে আরও বেশি ভাঙছে। ফসলি জমি ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত এখানে জিও ব্যাগ ফেলা না হলে এই এলাকাটুকু খুব তাড়াতাড়িই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।’
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, ‘নদীতে নতুন জোয়ারের পানি আসছে। এতে কিছুটা স্রোত হতে পারে। এর ওপর আবার ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাব। সব মিলিয়ে হয়তো বাঁধ ধসে যেতে পারে। যেসব এলাকায় বাঁধ ধসে গেছে, সেসব এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
