জমি লিখে নিয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ ভাইয়ের বিরুদ্ধে

আপডেট : ০১ জুন ২০২৪, ১০:০০ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি লিখে নিয়ে মাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নিজের ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃদ্ধার মৃত্যুর পরদিন মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই নারীর নাম রাহিলা খাতুন। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবদুল কাদিরের স্ত্রী। নিহত রাহিলা খাতুনের বড় ছেলে আবদুল হাই তাঁর ছোটভাই ইলিয়াস আলীর বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আবদুল হাইয়ের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বৃদ্ধা মা রাহিলা খাতুনের নামে অনেক জমিজমা রয়েছে। এ কারণে ছোট ভাই মাকে তাঁর (ইলিয়াস) কাছে রাখতেন। পরে সুযোগ বুঝে অন্য ভাই-বোনদের অগোচরে অনেক জমি ছোট ভাই, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের নামে লিখে নিয়েছেন। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলা চলমান রয়েছে। তার অভিযোগ ছোট ভাই ইলিয়াস, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে জমিজমা বুঝে পেয়ে তার মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হত্যা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবারও সুস্থ ছিলেন বৃদ্ধা রাহিলা। তবে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার ওই নারী মারা গেলে সন্তানদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। এক পর্যায় লাশ দাফনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরে এক ছেলে অভিযোগ করলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।  

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইলিয়াস আলী বলেন,আমাদের মায়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। স্বেচ্ছায় মা আমাদের কিছু জমি লিখে দিয়েছেন। আমরা কৌশলে জমিজমা লিখে নিয়ে যাইনি। মা আমাদের কাছে থাকতেন। আমার বাড়িতেই তার সেবাযত্ন করা হতো। এতে তিনি খুশি হয়েই আমাদের কিছু জমি দিয়ে গেছেন।

তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল বাতেন সরকার জানান, এমন একটি খবর শুনেছি। জমিজমা নিয়ে তাদের পারিবারিক সমস্যা ছিল তাও শুনেছি। পরে এক ছেলে দাফনে বাধা ও পুলিশে অভিযোগ করলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত