নরসিংদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুবুল হাসানকে খুন করে কাতার চলে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ও এজারভুক্ত ২ নম্বর আসামি রাসেল মাহমুদকে (৪৫) ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। রাসেল মাহমুদের বাড়ি মাধবদী পৌলানপুর এলাকায়।
শনিবার (১ জুন) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর কাতার এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে বাংলাদেশ ফেরত এনে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের অপর অভিযুক্ত মেহেরপাড়া ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার অমিত প্রান্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাকি গ্রেপ্তাররা হলেন, মাধবদী পৌলানপুর এলাকার মো. হাবিবুর রহমান (৬৫), মো. হিমেল মিয়া (৪৩), জুয়েল মিয়াসাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যাকারী। ছবি: সংগৃহীত (৩৯), মো, নবেল মিয়া (২৮), টাঙ্গাইল গোপালপুর খানপাড়া এলাকার মো. রাব্বী (১৯), কুড়িগ্রাম জেলার মো. মিঠু (৩৫) ও মাধবদী কবিরাজপুর এলাকার মো. লিপু মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ইউপি চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড রাসেল মাহমুদ হত্যাকাণ্ডের একদিন পর ২৯ মে কাতার এয়ারলাইন্স যোগে কাতার হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ টিম শাহজালাল আস্তর্জাতিক বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
জেলা পুলিশের যৌথ টিম বিমান বন্দরে যখন পৌঁছান তখন রাসেলকে বহনকারী কাতার এয়ারলাইন্স এর বিমানটি রানওয়েতে অবস্থান করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ ও কাতার ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত রাসেল মাহমুদ কাতার ইমিগ্রেশনে পৌঁছলে সেখানকার পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে ফিরতি ফ্লাইটে বাংলাদেশে প্রেরণ করে। রাসেল মাহমুদ ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছলে ঢাকা ইমিগ্রেশন পুলিশের সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যাবহৃত চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানায়, হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মে মঙ্গলবার রাতে নিজ কার্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে মেহের পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুবুল হাসানকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে আসামিরা। হত্যার দুইদিন পর নিহতের ভাই ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এলাকার আধিপত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মেহেরপাড়া ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার অমিত প্রান্ত’র সাথে নিহত সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুবুল হাসানের সাথে দ্বন্দ্ব চলছিল।
