বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সম্পর্ক ছিন্ন করায় কিশোরীকে হাত-পা-চোখ-মুখ বেঁধে ধর্ষণ

আপডেট : ০২ জুন ২০২৪, ০৫:১২ পিএম

নিখোঁজের একদিন পর হাত-পা, চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় কলেজ পড়ুয়া এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (৩১ মে) রাত ১০ টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া কাঠের সেতুর ওপর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করায় প্রেমিক সিয়াম পেদা ও তার চার সঙ্গী তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং সিয়াম তাকে ধর্ষণ করে। 

অভিযুক্ত সিয়াম পেদা (১৯) ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের ছোট শিধলকুড়া গ্রামের বাসিন্দা। সিয়াম গোসাইরহাট সরকারি শামসুর রহমান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় এক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ জানায়, সিয়ামের সাথে আড়াই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর। কিছুদিন আগে ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। এরপর গত বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ওই কিশোরী বাড়ি ফেরার পথে ডামুড্যার ফরাজিটেক এলাকা থেকে সিয়াম পেদা ও তার চারজন সঙ্গী তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে অজ্ঞান করে পরিত্যক্ত একটি ঘরে নিয়ে যায় সিয়াম। পরে তাকে ধর্ষণ করে শিধলকুড়া কাঠের ব্রীজের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। গত শুক্রবার তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা।

ভুক্তভোগী কিশোরী জানান, কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে নেশাদ্রব্য নাকে দিয়ে তাকে চোখ বেঁধে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যায় সিয়াম। পরিত্যক্ত একটি ঘরে নিয়ে চোখ বেঁধে সিয়াম তাকে ধর্ষণ করে। সিয়ামের সঙ্গে আরও চারজন ছিল বলে জানায় ভুক্তভোগী কিশোরী।

কিশোরী বলেন, আমার সঙ্গে সিয়ামের আড়াই বছরের প্রেমের সম্পর্ক। আমরা তিন মাস আগে স্থানীয় কাজী অফিসে বিয়ে করতে যাই। পরে আমি সিয়ামকে বলি ৫ লাখ টাকা দেনমোহর লেখতে হবে। কিন্তু সিয়াম বলছে ৫০০ টাকা দেনমোহর লেখতে। পরে বিয়ে হয়নি। এ ঘটনা নিয়ে সিয়ামের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব হয়। পরে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।

ওই কিশোরীর মা বলেন, আমার মেয়ে নিখোঁজ হলে আমি থানায় সাধারণ ডায়রি করি। পরে হাত-পা, চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় ব্রিজের নিচে মেয়েকে পাই। মেয়ে বলেছে, সিয়াম তাকে ধর্ষণ করেছে। আমি সিয়ামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মিতু আক্তার বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ এনে শুক্রবার এক কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। তাকে মেডিকেল চেকআপ করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমারত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত